হিরোশিমা দিবস
এক মহানায়কের মহাআকুতি
×
আলবার্ট আইনস্টাইন
মতিয়ার রহমান পাটোয়ারী
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২১ | ১২:০০
১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট মহাবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন কোথায় ছিলেন এবং মানসিক অবস্থা কী দাঁড়িয়েছিল তার প্রকৃত চিত্র বা কাহিনি নানাভাবে আলোচিত হয়েছে। পারমাণবিক বোমার একদিকে তিনি বৈজ্ঞানিক দিক থেকে উদগাতা, অন্যদিকে তিনি এ বোমা তৈরির উৎসাহদাতা। এক চিঠির মাধ্যমে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট এফডি রুজভেল্টকে বোমা তৈরি করতে প্রভাবান্বিত করেছিলেন। তিনি একজন শান্তিকামী মানুষ। শান্তির মধ্যেই মানুষের মহত্ত্ব খোঁজেন। স্বভাবত তার মতো মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথা।
ওই দিন শুধু পারমাণবিক বোমা বিস্ম্ফোরণে জাপান চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েনি, সারা দুনিয়ার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। বোমা বিস্ম্ফোরণের খবর যখন আইনস্টাইন পান, তিনি তখন আমেরিকার নিউজার্সি প্রদেশের প্রিন্সটন শহরে তার আরামদায়ক পড়ার ঘরে। খবরটি শোনার পর খোলা জানালা দিয়ে তিনি বাইরে দিকে তাকিয়ে ছিলেন। জানালার সামনে নানা রঙের অসংখ্য ফুল বাতাসে নেড়ে নেড়ে তাকে যেন আকর্ষণ করতে চাচ্ছিল। কিন্তু তিনি বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছিলেন না।। মনের ভেতর তখন ভেসে উঠেছিল জাপানের হিরোশিমা শহরের কথা। পারমাণবিক বোমা বিস্ম্ফোরণে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দিকে আমেরিকা নিরপেক্ষ ছিল। কারণ, তারা জানত জার্মান সেনাবাহিনী যতই শক্তিশালী হোক না, তারা আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আমেরিকা পর্যন্ত আসতে পারবে না। আমেরিকার মাথায় ছিল না অ্যাটম বোমা তৈরি করার বিষয়টিও। কিন্তু বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের এক চিঠি তাদের অ্যাটম বোমা তৈরিতে উৎসাহিত করে। আলবার্ট আইনস্টাইন ধর্মের দিক থেকে একজন জার্মান ইহুদি। ইহুদি নিধন শুরু হয়েছে সেখানে। তিনিও ছিলেন নাৎসিদের সন্দেহের তালিকায়। যে কোনো সময় গুপ্তঘাতক এসে তাকে হত্যা করতে পারে- এমন আশঙ্কায় রাতের অন্ধকারে ছোট্ট একটি নৌকায় করে তিনি এক সমুদ্রগামী জাহাজে উঠে পড়েন। নিউইয়র্ক উপসাগরে জাহাজ পৌঁছাতেই আবার একখানা টাগ বোট এসে আইনস্টাইনকে গোপনে নিয়ে যাওয়া হয় তীরে। সেখানে গোপনে একটি গাড়ি অপেক্ষা করেছিল তার জন্য। তারপর তিনি নির্বিঘ্নে পৌঁছান প্রিস্টন শহরে।
জার্মান বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে আইনস্টাইনের আশঙ্কার কথা প্রকাশের পর দুই বিজ্ঞানী জিলার্ড ও উহগনার এসে তার কাছে হাজির হন। তারা দু'জন উদ্বাস্তু বিজ্ঞানী। পরমাণুর মধ্যে যে ভয়ানক শক্তি রয়েছে তা কাজে লাগানোর ব্যাপারে তারা কথা বলেন আইনস্টাইনের কাছে। তারা আরও জানান, পরমাণু শক্তির মধ্যে যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে সে ব্যাপারে জার্মান বিজ্ঞানীরা বেশ সজাগ। তবে এ কাজে গবেষণা চালাতে যে মাল-মসলার দরকার, সেটা এখনও তারা সংগ্রহ করতে পারেননি। যদি তারা এর সন্ধান একবার পেয়ে যান, তাহলে পৃথিবীতে ভয়ানক পরিস্থিতি দেখা দেবে। তাই আগেভাগে আমেরিকাকে এগিয়ে আসতে হবে। আইনস্টাইন যদি প্রেসিডেন্ট এফডি রুজভেল্টকে এ ব্যাপারে চিঠি লেখেন তাহলে তিনি রাজি হবেন। চিঠিটা জিলার্ড এবং টেলার লিখে নিয়ে গিয়েছিলেন আইনস্টাইনের কাছে। তাতে তিনি সই করে দেন। তারিখ ছিল ২ আগস্ট, ১৯৩৯।
রুজভেল্টের অর্থ সচিব এবং বেসরকারি উপদেষ্টা আলেকজান্ডার স্যাকস ১১ অক্টোবর রুজভেল্টকে চিঠিটা দেখান। রুজভেল্ট তার মিলিটারি জেনারেল ওয়াটসনকে ডেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। শুরু হয় ম্যানহাটান প্রজেক্ট। এ জন্য প্রাথমিক বরাদ্দ দেওয়া হয় ১০০ কোটি ডলার। সমরবিশারদ কর্নেল গ্রোভসকে এ প্রজেক্টের তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপান ৩৫৩টি বিমান নিয়ে মার্কিনিদের প্রধান নৌঘাঁটি পার্লহারবারে অতর্কিত বিমান হামলা চালায় এবং হামলার মাধ্যমে জাপান দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে জাপানিদের আক্রমণে মার্কিন নৌশক্তি পর্যুদস্ত হলেও তারা নীরব থাকতে পারল না। ১২ ডিসেম্বর তারা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঘোষণা দেয়, যা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল অনেক দিন ধরে কামনা করছিলেন।
এদিকে ম্যানহাটান প্রজেক্টের বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের নিরলস প্রচেষ্টায় অ্যাটম বোমা বানানোয় সফলতা এসে গেছে। ইতোমধ্যে জার্মান বাহিনী পরাজিত হয়েছে। জাপানি বাহিনী যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই। বিজ্ঞানী জিলার্ড আশঙ্কা বোধ করলেন আমেরিকা অ্যাটম বোমা জাপানের ওপর প্রয়োগ করে কিনা। এ আশঙ্কা নিয়ে তিনি আবার ছুটে গেলেন আইনস্টাইনের কাছে। আমেরিকা যেন অ্যাটম বোমা প্রয়োগ না করে এজন্য জিলার্ড আইনস্টাইনের কাছ থেকে একটা চিঠি লিখিয়ে নিয়ে পাঠিয়ে দিলেন রুজভেল্টের কাছে। তারিখটা ছিল ১২ এপ্রিল ১৯৪৫। আর রুজভেল্ট মারা যান ২০ এপ্রিল। ক্ষমতা যায় এইচএস ট্রুম্যানের হাতে। ট্রুম্যানের কাছে আইনস্টাইনের চিঠি গুরুত্ব পায়নি।
১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই আমেরিকার নিউ মেক্সিকোর মরু অঞ্চল অ্যালানগুডোতে পরীক্ষামূলক পারমাণবিক বিস্ম্ফোরণ ঘটানো হয় এবং সফল হয়। ৬ আগস্ট 'লিটল বয়' নামের পারমাণবিক বোমাটির বিস্ম্ফোরণ ঘটানো হয় নাগাসাকি শহরে। ৬ আগস্ট মানব সভ্যতার এত বড় বিপর্যয়ের পরও পাঁচ দিন পর ১১ আগস্ট জাপানের ককুরা দ্বীপকে গুঁড়িয়ে দিতে মার্কিন বি-২৯ বোমারু বিমান পারমাণবিক বোমা 'ফ্যাটম্যানকে' নিয়ে রওনা দেয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সে সিদ্ধান্ত বাতিল করে ফ্যাটম্যানকে ফেলা হয় জাপানের নাগাসাকি শহরে। পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের প্রতিযোগিতা যে, আগামী পৃথিবীতে একটি ভয়াবহ বিপদসংকুল পরিস্থিতিকে ঘনিয়ে তুলতে পারে, তা সর্বপ্রথম সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করেছিলেন স্বয়ং আলবার্ট আইনস্টাইন।
আইনস্টাইনের এই মহৎ প্রস্তাব সোভিয়েত ইউনিয়ন মেনে নিলেও আমেরিকা ও ব্রিটেন মেনে নেয়নি। দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল এ প্রসঙ্গে গভীর দুঃখের সঙ্গে বলেছিলেন, রাজনীতিবিদরা যদি সেদিন আইনস্টাইনের কথা মানতেন তাহলে পৃথিবীর ঘটনাবলি হতো অনেক সহনীয়। যুদ্ধবিরোধী কাজের যে প্রকল্পটি আইনস্টাইনের জীবনের শেষ কয়েকটি সপ্তাহ তাকে কর্মব্যস্ত করে রেখেছিল। পারমাণবিক অস্ত্র যাতে আর ব্যবহার না হয় বিশ্বময়, এজন্য তিনি আকুতি জানিয়ে ছিলেন। তার আকুতিতে এগিয়ে আসেন দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল। দু'জনে রচনা করেন যুক্ত বিবৃতি। ইতিহাসে এ দলিল 'রাসেল-আইনস্টাইন বিবৃতি' নামে পরিচিত। বিবৃতিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের এক মহতী সম্মেলনের আহ্বান জানানো হয়, যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করতে তারা একমত হন। মারা যাওয়ার মাত্র দু'দিন আগে ১৯৫৫ সালের ১৬ এপ্রিল আইনস্টাইন এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। রাসেল-আইনস্টাইন বিবৃতিতে প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাক্ষরদানকারী ১১ বিজ্ঞানীর মধ্যে ৯ জনই ছিলেন নোবেল বিজয়ী।
সাংবাদিক
ওই দিন শুধু পারমাণবিক বোমা বিস্ম্ফোরণে জাপান চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েনি, সারা দুনিয়ার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। বোমা বিস্ম্ফোরণের খবর যখন আইনস্টাইন পান, তিনি তখন আমেরিকার নিউজার্সি প্রদেশের প্রিন্সটন শহরে তার আরামদায়ক পড়ার ঘরে। খবরটি শোনার পর খোলা জানালা দিয়ে তিনি বাইরে দিকে তাকিয়ে ছিলেন। জানালার সামনে নানা রঙের অসংখ্য ফুল বাতাসে নেড়ে নেড়ে তাকে যেন আকর্ষণ করতে চাচ্ছিল। কিন্তু তিনি বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছিলেন না।। মনের ভেতর তখন ভেসে উঠেছিল জাপানের হিরোশিমা শহরের কথা। পারমাণবিক বোমা বিস্ম্ফোরণে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দিকে আমেরিকা নিরপেক্ষ ছিল। কারণ, তারা জানত জার্মান সেনাবাহিনী যতই শক্তিশালী হোক না, তারা আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আমেরিকা পর্যন্ত আসতে পারবে না। আমেরিকার মাথায় ছিল না অ্যাটম বোমা তৈরি করার বিষয়টিও। কিন্তু বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের এক চিঠি তাদের অ্যাটম বোমা তৈরিতে উৎসাহিত করে। আলবার্ট আইনস্টাইন ধর্মের দিক থেকে একজন জার্মান ইহুদি। ইহুদি নিধন শুরু হয়েছে সেখানে। তিনিও ছিলেন নাৎসিদের সন্দেহের তালিকায়। যে কোনো সময় গুপ্তঘাতক এসে তাকে হত্যা করতে পারে- এমন আশঙ্কায় রাতের অন্ধকারে ছোট্ট একটি নৌকায় করে তিনি এক সমুদ্রগামী জাহাজে উঠে পড়েন। নিউইয়র্ক উপসাগরে জাহাজ পৌঁছাতেই আবার একখানা টাগ বোট এসে আইনস্টাইনকে গোপনে নিয়ে যাওয়া হয় তীরে। সেখানে গোপনে একটি গাড়ি অপেক্ষা করেছিল তার জন্য। তারপর তিনি নির্বিঘ্নে পৌঁছান প্রিস্টন শহরে।
জার্মান বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে আইনস্টাইনের আশঙ্কার কথা প্রকাশের পর দুই বিজ্ঞানী জিলার্ড ও উহগনার এসে তার কাছে হাজির হন। তারা দু'জন উদ্বাস্তু বিজ্ঞানী। পরমাণুর মধ্যে যে ভয়ানক শক্তি রয়েছে তা কাজে লাগানোর ব্যাপারে তারা কথা বলেন আইনস্টাইনের কাছে। তারা আরও জানান, পরমাণু শক্তির মধ্যে যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে সে ব্যাপারে জার্মান বিজ্ঞানীরা বেশ সজাগ। তবে এ কাজে গবেষণা চালাতে যে মাল-মসলার দরকার, সেটা এখনও তারা সংগ্রহ করতে পারেননি। যদি তারা এর সন্ধান একবার পেয়ে যান, তাহলে পৃথিবীতে ভয়ানক পরিস্থিতি দেখা দেবে। তাই আগেভাগে আমেরিকাকে এগিয়ে আসতে হবে। আইনস্টাইন যদি প্রেসিডেন্ট এফডি রুজভেল্টকে এ ব্যাপারে চিঠি লেখেন তাহলে তিনি রাজি হবেন। চিঠিটা জিলার্ড এবং টেলার লিখে নিয়ে গিয়েছিলেন আইনস্টাইনের কাছে। তাতে তিনি সই করে দেন। তারিখ ছিল ২ আগস্ট, ১৯৩৯।
রুজভেল্টের অর্থ সচিব এবং বেসরকারি উপদেষ্টা আলেকজান্ডার স্যাকস ১১ অক্টোবর রুজভেল্টকে চিঠিটা দেখান। রুজভেল্ট তার মিলিটারি জেনারেল ওয়াটসনকে ডেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। শুরু হয় ম্যানহাটান প্রজেক্ট। এ জন্য প্রাথমিক বরাদ্দ দেওয়া হয় ১০০ কোটি ডলার। সমরবিশারদ কর্নেল গ্রোভসকে এ প্রজেক্টের তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপান ৩৫৩টি বিমান নিয়ে মার্কিনিদের প্রধান নৌঘাঁটি পার্লহারবারে অতর্কিত বিমান হামলা চালায় এবং হামলার মাধ্যমে জাপান দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে জাপানিদের আক্রমণে মার্কিন নৌশক্তি পর্যুদস্ত হলেও তারা নীরব থাকতে পারল না। ১২ ডিসেম্বর তারা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঘোষণা দেয়, যা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল অনেক দিন ধরে কামনা করছিলেন।
এদিকে ম্যানহাটান প্রজেক্টের বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের নিরলস প্রচেষ্টায় অ্যাটম বোমা বানানোয় সফলতা এসে গেছে। ইতোমধ্যে জার্মান বাহিনী পরাজিত হয়েছে। জাপানি বাহিনী যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই। বিজ্ঞানী জিলার্ড আশঙ্কা বোধ করলেন আমেরিকা অ্যাটম বোমা জাপানের ওপর প্রয়োগ করে কিনা। এ আশঙ্কা নিয়ে তিনি আবার ছুটে গেলেন আইনস্টাইনের কাছে। আমেরিকা যেন অ্যাটম বোমা প্রয়োগ না করে এজন্য জিলার্ড আইনস্টাইনের কাছ থেকে একটা চিঠি লিখিয়ে নিয়ে পাঠিয়ে দিলেন রুজভেল্টের কাছে। তারিখটা ছিল ১২ এপ্রিল ১৯৪৫। আর রুজভেল্ট মারা যান ২০ এপ্রিল। ক্ষমতা যায় এইচএস ট্রুম্যানের হাতে। ট্রুম্যানের কাছে আইনস্টাইনের চিঠি গুরুত্ব পায়নি।
১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই আমেরিকার নিউ মেক্সিকোর মরু অঞ্চল অ্যালানগুডোতে পরীক্ষামূলক পারমাণবিক বিস্ম্ফোরণ ঘটানো হয় এবং সফল হয়। ৬ আগস্ট 'লিটল বয়' নামের পারমাণবিক বোমাটির বিস্ম্ফোরণ ঘটানো হয় নাগাসাকি শহরে। ৬ আগস্ট মানব সভ্যতার এত বড় বিপর্যয়ের পরও পাঁচ দিন পর ১১ আগস্ট জাপানের ককুরা দ্বীপকে গুঁড়িয়ে দিতে মার্কিন বি-২৯ বোমারু বিমান পারমাণবিক বোমা 'ফ্যাটম্যানকে' নিয়ে রওনা দেয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সে সিদ্ধান্ত বাতিল করে ফ্যাটম্যানকে ফেলা হয় জাপানের নাগাসাকি শহরে। পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের প্রতিযোগিতা যে, আগামী পৃথিবীতে একটি ভয়াবহ বিপদসংকুল পরিস্থিতিকে ঘনিয়ে তুলতে পারে, তা সর্বপ্রথম সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করেছিলেন স্বয়ং আলবার্ট আইনস্টাইন।
আইনস্টাইনের এই মহৎ প্রস্তাব সোভিয়েত ইউনিয়ন মেনে নিলেও আমেরিকা ও ব্রিটেন মেনে নেয়নি। দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল এ প্রসঙ্গে গভীর দুঃখের সঙ্গে বলেছিলেন, রাজনীতিবিদরা যদি সেদিন আইনস্টাইনের কথা মানতেন তাহলে পৃথিবীর ঘটনাবলি হতো অনেক সহনীয়। যুদ্ধবিরোধী কাজের যে প্রকল্পটি আইনস্টাইনের জীবনের শেষ কয়েকটি সপ্তাহ তাকে কর্মব্যস্ত করে রেখেছিল। পারমাণবিক অস্ত্র যাতে আর ব্যবহার না হয় বিশ্বময়, এজন্য তিনি আকুতি জানিয়ে ছিলেন। তার আকুতিতে এগিয়ে আসেন দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল। দু'জনে রচনা করেন যুক্ত বিবৃতি। ইতিহাসে এ দলিল 'রাসেল-আইনস্টাইন বিবৃতি' নামে পরিচিত। বিবৃতিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের এক মহতী সম্মেলনের আহ্বান জানানো হয়, যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করতে তারা একমত হন। মারা যাওয়ার মাত্র দু'দিন আগে ১৯৫৫ সালের ১৬ এপ্রিল আইনস্টাইন এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। রাসেল-আইনস্টাইন বিবৃতিতে প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাক্ষরদানকারী ১১ বিজ্ঞানীর মধ্যে ৯ জনই ছিলেন নোবেল বিজয়ী।
সাংবাদিক
- বিষয় :
- হিরোশিমা দিবস
- মতিয়ার রহমান পাটোয়ারী
