সমাজ
ছোট পোশাকের কৃষ্টি-কালচার
×
আইরিন সুলতানা
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১২:০০
ইদানীং সহাবস্থান রেখে 'কৃষ্টি-কালচার' কানে আসছে ক্ষণে ক্ষণে। রোমান যুগে একজন দার্শনিক নাকি এক উপমায় 'কালচার' শব্দটি লিখেছিলেন। কালচার শব্দ নিয়ে বিস্তর ব্যবচ্ছেদ উনিশ শতকে দেখা যায়। কালচার শব্দটি ফরাসি থেকে এসেছে, বলা হয়। আবার লাতিন থেকে এসেছেও, বলা হয়। যেখান থেকেই আসুক; কালচারের আদি রূপ কালটিভেশন; যার অর্থ জমি চাষ বা কৃষিকাজ। কিন্তু রূপক হিসেবে ব্যবহার করতে করতে ইংরেজি কালচারের অর্থ আধুনিক ও বহুমাত্রা পায়। কালচার অর্থ আর্ট। কালচার অর্থ কোনো নির্দিষ্ট স্থান ও নির্দিষ্ট সময়ের সোশ্যাল বিহেভিয়ার। কালচারের বাংলা কী লেখা ও বলা যায় তবে? কৃষ্টি, নাকি সংস্কৃতি?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গোড়া থেকেই কালচারের বাংলায় কৃষ্টি নিয়ে চরম বিরাগভাজন ছিলেন, যা প্রকাশে কোনো রাখঢাক ছিল না তাঁর। বঙ্কিমচন্দ্র কালচারের বাংলা অনুশীলন লিখতেন। আর কালচারের প্রতিশব্দে রবীন্দ্রনাথের প্রস্তাব ছিল- চিৎপ্রকর্ষ, চিত্তপ্রকর্ষ, চিত্তোৎকর্ষ। কালচারড মানুষকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'প্রকৃষ্টচিত্ত লোক' বলতে চাইতেন।
এদিকে ১৯২২ সালে প্যারিসে এক মহারাষ্ট্রীয় বন্ধুর কাছে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় জানতে পারেন, মারাঠি ভাষায় ফিরিঙ্গি কালচারের প্রয়োগ হয় 'সংস্কৃতি' শব্দে এবং তাঁরা আরও আগে থেকেই এমনটি করে আসছেন। দেশে ফিরে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে কালচারের বাংলা প্রতিশব্দে 'সংস্কৃতি' প্রস্তাব করেন। রবীন্দ্রনাথ সংস্কৃতি শব্দটির প্রতি সায় দেন। রবীন্দ্রনাথ মনে করতেন, 'সংস্কৃতি' শব্দটি 'ভদ্র' সমাজের যোগ্য শব্দ। তিনি মনে করতেন, মানুষ কালচারড, তাঁকে কৃষ্টিমান না বলে সংস্কৃতিবান বললে বেশি সম্মান দেখানো হবে।
হালে, এ বছর মে মাসে নরসিংদীর রেলস্টেশনে এক তরুণীকে তাঁর পোশাক নিয়ে অভব্যের মতো হেনস্তা করেন আরেক নারী। জনসমাগমের মধ্যে কারও গায়ে হাত দিয়ে টানাহেঁচড়া করে পোশাক ছিঁড়ে নেওয়ার মতো বর্বর আচরণের পরও শিলা নামের ওই নারী মামলা থেকে প্রথমবার জামিন পেয়ে যান। শুনানিতে উচ্চ আদালতের মন্তব্য ছিল- 'কৃষ্টি' সংরক্ষণ করতে হবে। আদালত নাকি আরও বলেছিলেন, বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচার সাপেক্ষে এ ধরনের পোশাক দৃষ্টিকটু।
সেই শুনানিতে বিচারকদের ব্যক্তিগত মন্তব্যকে (রায় নয়) অভিনন্দন জানিয়ে ঢাবি, জবি, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছেলে ও মেয়েরা শার্ট-প্যান্ট, পায়জামা, বোরকা-হিজাব পরে প্ল্যাকার্ড হাতে নেমে পড়ে। জানা গেল, তারা কৃষ্টি-কালচার সংরক্ষণ করতে চায়।
আবহমান বাংলার কৃষ্টি-কালচারে বলা চলে, নারী ও পুরুষের পোশাক বলতে ছিল এক খণ্ড সেলাইহীন বস্ত্র। ছেলেরা আজানু ধুতি পরত। ল্যাঙট পরারও চল ছিল কাজকর্মে। ঊর্ধ্বাঙ্গ থাকত অনাবৃত। আত্মকথা গ্রন্থে আবুল মনসুর আহমদ লিখেছেন- 'ঈদের জমাতেও লোকেরা কাছা দিয়া ধুতি পরিয়াই যাইত। নামাজের সময় কাছা খুলিতেই হইত। সে কাজটাও নামাজে দাঁড়াইবার আগে তক করিত না।' দেশভাগের আগে ধুতিতে হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ স্পর্শ করেনি, বলা চলে। কাজী নজরুল ইসলামও ধুতি পরেছেন।
১৮২৮ সালে পাবনা জেলার জন্ম হয়। এই জেলা নিয়ে ইতিহাসবিদ রাধারমণ সাহার ১৯২৬ সালের গ্রন্থে পোশাক হিসেবে ধুতি ও গামছার কথা রয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ও মো. হাবিবুল্লাহ রচিত পাবনা জেলার সমাজ ও সংস্কৃতি বইটি প্রকাশ পায় ২০০৯ সালে। এতে শতবর্ষী এক বৃদ্ধের স্মৃতিচারণে বিশ শতকের শুরুতে ধুতি ও গামছা পরার কথা মেলে। এ কারণেই লেখক গোলাম মুরশিদ ধুতিকে বাঙালির সনাতনী পোশাক বলেছেন।
আবুল মনসুর আহমদের আত্মকথা বইতে বলা আছে, ফরাজি পদবিধারী অনেকেই সাদা লুঙ্গি বা তহবন্দ পরতেন। এটি যতদূর মনে হয়, ১৮২৮ সালের আগে ও পরের কথা; অর্থাৎ উনিশ শতকের। দেশভাগের পর তখনকার পূর্ব বাংলা ভূখণ্ডে লুঙ্গি পরা শুরু হয়। বিশ শতক থেকে লুঙ্গির প্রচলন শুরু হয় একটু একটু করে। অর্থাৎ লুঙ্গির প্রচলন বেশি পুরোনো নয়। বার্মা থেকে রঙিন লুঙ্গির চল এসেছে মনে করা হয়। আবার অনেকে দ্বিমত করে বলেন, তামিলনাড়ূ থেকেই লুঙ্গি এসেছে। ওই সময় আবার মুসলমান সমাজে ধুতি-বিরোধিতা দেখা দেয়। সে সময় মুসলমান পুরুষদের লুঙ্গি ও পায়জামা পরা বাড়তে থাকে। তবে হিন্দুরাও লুঙ্গি পরত। সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লুঙ্গি পরে থাকতেন বাড়িতে।
১৮৫১ সালের দিকে লেখা বইতেও বাঙালির নারীর পোশাকের বর্ণনায় পেটিকোট ও ব্লাউজের কথা মেলেনি। শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের ধারণা নিয়ে আসেন রানী ভিক্টোরিয়া। অর্থাৎ বাঙালি সমাজে ব্লাউজ পরার পেছনে ইউরোপীয় সমাজের একটি ভূমিকা রয়েছে। এর পরও ব্লাউজ মূলত আধুনিক নারীরা পরতেন; সাধারণ নারীরা নন। ইংরেজ মেয়েদের প্যান্ট-স্কার্টের সঙ্গে ঊর্ধ্বাঙ্গে শার্ট-টপস দেখে বঙ্গদেশের মেয়েদের এমন জামা পরার আগ্রহ জাগতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবার থেকে শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ পরার চল শুরু হয়। সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনী দেবী ব্রিটিশ নারীদের দেখে শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ ও পেটিকোট পরা শুরু করেন। কেউ কেউ বলেন, পেটিকোট আসে পর্তুগিজদের দেখে। যদিও ১৮৯০ সাল থেকে ব্লাউজের চল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তবে ব্লাউজের ইতিহাস মোটে ১৩২ বছর আগের।
১৮২০ সালের দিকেও বাঙালিদের মধ্যে জুতা পরার অভ্যাস দেখা যায়নি। তবে বাঙালি সমাজ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা থেকেই জুতা পরা শেখে। শুরুতে অবশ্য মেয়েরা জুতা পরলে তারা খ্রিষ্টান হয়ে যাচ্ছে বলে সমালোচনা হতো। এদিকে বাঙালি পুরুষরা শার্ট-প্যান্ট-স্যুট এসব পরতে শিখেছে তাও খুব বেশি আগের কথা নয়; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে।
আজকে যারা পোশাকের কৃষ্টি-কালচার রক্ষায় নেমেছে; সেই কৃষ্টি-কালচারের ইতিহাস বলছে- ধর্ম নির্বিশেষে নারী-পুরুষ বাঙালির সনাতনী পোশাক হচ্ছে ধুতি, কাছা, গামছা, ল্যাঙট এবং ব্লাউজ-পেটিকোট ছাড়া শাড়ি। সেই প্রায় উদোম ঊর্ধ্বাঙ্গ বা খোলা পিঠ, কাঁধ, বাহু ও উন্মুক্ত পেট। আজকে যারা নারীকে বড় কাপড় পরা শেখাতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছে; নিশ্চিতভাবে তাদেরই পরিবারের চার-পাঁচ প্রজন্ম আগের ছেলে এমনকি মেয়েরাও ছোট পোশাকে শরীরের অনেকটাই দেখাত।
বাংলার ভূখণ্ড মরুর দেশ নয় বলে সূর্য ও ধুলা থেকে রক্ষায় বেদুইনদের মতো পোশাকের ইতিহাস এখানে নেই। ফিরিঙ্গিদের থেকে বাঙালি নিজেদের আরাম, কাজকর্ম, সৌন্দর্য, উৎসব ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই পোশাক বেছে নিয়েছে। এটাই 'সায়েন্স'।
আইরিন সুলতানা:লেখক ও অধিকারকর্মী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গোড়া থেকেই কালচারের বাংলায় কৃষ্টি নিয়ে চরম বিরাগভাজন ছিলেন, যা প্রকাশে কোনো রাখঢাক ছিল না তাঁর। বঙ্কিমচন্দ্র কালচারের বাংলা অনুশীলন লিখতেন। আর কালচারের প্রতিশব্দে রবীন্দ্রনাথের প্রস্তাব ছিল- চিৎপ্রকর্ষ, চিত্তপ্রকর্ষ, চিত্তোৎকর্ষ। কালচারড মানুষকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'প্রকৃষ্টচিত্ত লোক' বলতে চাইতেন।
এদিকে ১৯২২ সালে প্যারিসে এক মহারাষ্ট্রীয় বন্ধুর কাছে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় জানতে পারেন, মারাঠি ভাষায় ফিরিঙ্গি কালচারের প্রয়োগ হয় 'সংস্কৃতি' শব্দে এবং তাঁরা আরও আগে থেকেই এমনটি করে আসছেন। দেশে ফিরে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে কালচারের বাংলা প্রতিশব্দে 'সংস্কৃতি' প্রস্তাব করেন। রবীন্দ্রনাথ সংস্কৃতি শব্দটির প্রতি সায় দেন। রবীন্দ্রনাথ মনে করতেন, 'সংস্কৃতি' শব্দটি 'ভদ্র' সমাজের যোগ্য শব্দ। তিনি মনে করতেন, মানুষ কালচারড, তাঁকে কৃষ্টিমান না বলে সংস্কৃতিবান বললে বেশি সম্মান দেখানো হবে।
হালে, এ বছর মে মাসে নরসিংদীর রেলস্টেশনে এক তরুণীকে তাঁর পোশাক নিয়ে অভব্যের মতো হেনস্তা করেন আরেক নারী। জনসমাগমের মধ্যে কারও গায়ে হাত দিয়ে টানাহেঁচড়া করে পোশাক ছিঁড়ে নেওয়ার মতো বর্বর আচরণের পরও শিলা নামের ওই নারী মামলা থেকে প্রথমবার জামিন পেয়ে যান। শুনানিতে উচ্চ আদালতের মন্তব্য ছিল- 'কৃষ্টি' সংরক্ষণ করতে হবে। আদালত নাকি আরও বলেছিলেন, বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচার সাপেক্ষে এ ধরনের পোশাক দৃষ্টিকটু।
সেই শুনানিতে বিচারকদের ব্যক্তিগত মন্তব্যকে (রায় নয়) অভিনন্দন জানিয়ে ঢাবি, জবি, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছেলে ও মেয়েরা শার্ট-প্যান্ট, পায়জামা, বোরকা-হিজাব পরে প্ল্যাকার্ড হাতে নেমে পড়ে। জানা গেল, তারা কৃষ্টি-কালচার সংরক্ষণ করতে চায়।
আবহমান বাংলার কৃষ্টি-কালচারে বলা চলে, নারী ও পুরুষের পোশাক বলতে ছিল এক খণ্ড সেলাইহীন বস্ত্র। ছেলেরা আজানু ধুতি পরত। ল্যাঙট পরারও চল ছিল কাজকর্মে। ঊর্ধ্বাঙ্গ থাকত অনাবৃত। আত্মকথা গ্রন্থে আবুল মনসুর আহমদ লিখেছেন- 'ঈদের জমাতেও লোকেরা কাছা দিয়া ধুতি পরিয়াই যাইত। নামাজের সময় কাছা খুলিতেই হইত। সে কাজটাও নামাজে দাঁড়াইবার আগে তক করিত না।' দেশভাগের আগে ধুতিতে হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ স্পর্শ করেনি, বলা চলে। কাজী নজরুল ইসলামও ধুতি পরেছেন।
১৮২৮ সালে পাবনা জেলার জন্ম হয়। এই জেলা নিয়ে ইতিহাসবিদ রাধারমণ সাহার ১৯২৬ সালের গ্রন্থে পোশাক হিসেবে ধুতি ও গামছার কথা রয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ও মো. হাবিবুল্লাহ রচিত পাবনা জেলার সমাজ ও সংস্কৃতি বইটি প্রকাশ পায় ২০০৯ সালে। এতে শতবর্ষী এক বৃদ্ধের স্মৃতিচারণে বিশ শতকের শুরুতে ধুতি ও গামছা পরার কথা মেলে। এ কারণেই লেখক গোলাম মুরশিদ ধুতিকে বাঙালির সনাতনী পোশাক বলেছেন।
আবুল মনসুর আহমদের আত্মকথা বইতে বলা আছে, ফরাজি পদবিধারী অনেকেই সাদা লুঙ্গি বা তহবন্দ পরতেন। এটি যতদূর মনে হয়, ১৮২৮ সালের আগে ও পরের কথা; অর্থাৎ উনিশ শতকের। দেশভাগের পর তখনকার পূর্ব বাংলা ভূখণ্ডে লুঙ্গি পরা শুরু হয়। বিশ শতক থেকে লুঙ্গির প্রচলন শুরু হয় একটু একটু করে। অর্থাৎ লুঙ্গির প্রচলন বেশি পুরোনো নয়। বার্মা থেকে রঙিন লুঙ্গির চল এসেছে মনে করা হয়। আবার অনেকে দ্বিমত করে বলেন, তামিলনাড়ূ থেকেই লুঙ্গি এসেছে। ওই সময় আবার মুসলমান সমাজে ধুতি-বিরোধিতা দেখা দেয়। সে সময় মুসলমান পুরুষদের লুঙ্গি ও পায়জামা পরা বাড়তে থাকে। তবে হিন্দুরাও লুঙ্গি পরত। সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লুঙ্গি পরে থাকতেন বাড়িতে।
১৮৫১ সালের দিকে লেখা বইতেও বাঙালির নারীর পোশাকের বর্ণনায় পেটিকোট ও ব্লাউজের কথা মেলেনি। শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের ধারণা নিয়ে আসেন রানী ভিক্টোরিয়া। অর্থাৎ বাঙালি সমাজে ব্লাউজ পরার পেছনে ইউরোপীয় সমাজের একটি ভূমিকা রয়েছে। এর পরও ব্লাউজ মূলত আধুনিক নারীরা পরতেন; সাধারণ নারীরা নন। ইংরেজ মেয়েদের প্যান্ট-স্কার্টের সঙ্গে ঊর্ধ্বাঙ্গে শার্ট-টপস দেখে বঙ্গদেশের মেয়েদের এমন জামা পরার আগ্রহ জাগতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবার থেকে শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ পরার চল শুরু হয়। সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনী দেবী ব্রিটিশ নারীদের দেখে শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ ও পেটিকোট পরা শুরু করেন। কেউ কেউ বলেন, পেটিকোট আসে পর্তুগিজদের দেখে। যদিও ১৮৯০ সাল থেকে ব্লাউজের চল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তবে ব্লাউজের ইতিহাস মোটে ১৩২ বছর আগের।
১৮২০ সালের দিকেও বাঙালিদের মধ্যে জুতা পরার অভ্যাস দেখা যায়নি। তবে বাঙালি সমাজ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা থেকেই জুতা পরা শেখে। শুরুতে অবশ্য মেয়েরা জুতা পরলে তারা খ্রিষ্টান হয়ে যাচ্ছে বলে সমালোচনা হতো। এদিকে বাঙালি পুরুষরা শার্ট-প্যান্ট-স্যুট এসব পরতে শিখেছে তাও খুব বেশি আগের কথা নয়; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে।
আজকে যারা পোশাকের কৃষ্টি-কালচার রক্ষায় নেমেছে; সেই কৃষ্টি-কালচারের ইতিহাস বলছে- ধর্ম নির্বিশেষে নারী-পুরুষ বাঙালির সনাতনী পোশাক হচ্ছে ধুতি, কাছা, গামছা, ল্যাঙট এবং ব্লাউজ-পেটিকোট ছাড়া শাড়ি। সেই প্রায় উদোম ঊর্ধ্বাঙ্গ বা খোলা পিঠ, কাঁধ, বাহু ও উন্মুক্ত পেট। আজকে যারা নারীকে বড় কাপড় পরা শেখাতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছে; নিশ্চিতভাবে তাদেরই পরিবারের চার-পাঁচ প্রজন্ম আগের ছেলে এমনকি মেয়েরাও ছোট পোশাকে শরীরের অনেকটাই দেখাত।
বাংলার ভূখণ্ড মরুর দেশ নয় বলে সূর্য ও ধুলা থেকে রক্ষায় বেদুইনদের মতো পোশাকের ইতিহাস এখানে নেই। ফিরিঙ্গিদের থেকে বাঙালি নিজেদের আরাম, কাজকর্ম, সৌন্দর্য, উৎসব ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই পোশাক বেছে নিয়েছে। এটাই 'সায়েন্স'।
আইরিন সুলতানা:লেখক ও অধিকারকর্মী
- বিষয় :
- সমাজ
- আইরিন সুলতানা
