ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ঐতিহাসিক স্থাপনা

ধ্বংসের মুখে সাতক্ষীরার ৪০০ বছরের পুরাকীর্তি

ধ্বংসের মুখে সাতক্ষীরার ৪০০ বছরের পুরাকীর্তি
×

কৌশিক হালদার

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৭:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক শ্যামসুন্দর মঠ-মন্দির বর্তমানে অযত্ন ও অবহেলায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে। মধ্যযুগীয় পুরাকীর্তির অন্যতম এই নিদর্শনটি সরকারি রক্ষণাবেক্ষণ পেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭৬৭ সালে হরিরাম দাস (মতান্তরে দুর্গাপ্রিয় দাস) এই শ্যামসুন্দর মন্দিরটি নির্মাণ করেন। টেরাকোটা ও প্রাচীন স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন এই মন্দিরটি প্রায় ৬০ ফুট উঁচু এবং এর অবকাঠামোতে তিন তলাবিশিষ্ট পিরামিড অবয়ব রয়েছে। মন্দিরটির দোতলার আয়তন ৩১.১ ফুট বাই ৩২.৯ ফুট এবং তিনতলার আয়তন ২৪.৬ ফুট বাই ২৩.৬ ফুট। নিচতলার মণ্ডপের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের দৈর্ঘ্য ২০.২ ফুট এবং প্রস্থ ৪.৫ ফুট। প্রাচীনকালে এর পাশে আরও ৯টি মন্দির ছিল বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে শ্যামসুন্দরের পাশে দুর্গা ও শিব পূজার জন্য ব্যবহৃত আরও দুটি মন্দির এবং সামনে একটি ছোট দিঘি রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরে একসময় শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এবং ভারতের রানী রাসমণি এসে পূজা-অর্চনা করেছিলেন।
ইট-সুরকি দিয়ে নির্মিত এই মন্দিরের পূর্বদিকে আগে কষ্টিপাথরের ১২টি শিবলিঙ্গ এবং দোতলায় স্বর্ণের রাধা-কৃষ্ণ মূর্তি ছিল। মন্দিরের সেবাইত শুভপ্রসাদ চৌধুরী জানান, দেশ স্বাধীনের পর মূল্যবান এই মূর্তিগুলো চুরি হয়ে যায়। কালের বিবর্তনে বর্তমানে মন্দিরটির ভঙ্গুর দশা হলেও এখানে প্রতিবছর দুর্গাপূজা, চৈত্রসংক্রান্তি ও রাধা-গোবিন্দের পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
মন্দির কমিটির সভাপতি দেবপ্রিয় চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংস্কারের অভাবে মন্দিরটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এখানে মাদকসেবীদের উৎপাত বেড়েছে, যারা মন্দিরের পরিবেশ নষ্ট করছে এবং বাধা দিলে হুমকি দিচ্ছে। স্থানীয় বিত্তশালী ও সামান্য সরকারি অনুদানে পূজাগুলো কোনো রকমে চলছে। কয়েক বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের লোকজন পরিদর্শন করলেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
দর্শনার্থীদের দাবি, ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি মন্দিরটি পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
খুলনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম জানান, আগামী মাসে মন্দিরটি পরিদর্শন করে সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। v
সুহৃদ, সাতক্ষীরা

আরও পড়ুন

×