ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

কদম ফুলের চিরকুট

কদম ফুলের চিরকুট
×

শিল্পকর্ম :: শাহানূর মামুন

আসাদুজ্জামান খান মুকুল

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৭:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

আজ থেকে পঁচিশ বছর আগের কথা। মেসের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী চয়ন অফিস শেষে রহিম মিয়ার টং দোকানে চা খেতে আসত। সেখানেই রোজ বাবার জন্য খিলিপান কিনতে আসা কলেজপড়ুয়া অনিমার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একদিন পানের খুচরা টাকা মেলাতে দেরি হওয়ায় চয়ন টাকাটা দিয়ে দেয়। সেই সংকোচ ভাঙা পরিচয় ক্রমে গভীর অনুরাগে রূপ নেয়। রোজ বিকেলে দুজনের দেখা হতো, চা খাওয়া আর কলেজ মাঠে হাঁটা চলত। অনিমার খোঁপায় চয়নের কদম ফুল সেজে উঠত। মায়ের কাছেও চয়নের সরল স্বভাবের প্রশংসা করত অনিমা।
আষাঢ়ের শেষে চয়নের মা হঠাৎ অসুস্থ হলে তড়িঘড়ি করে পাবনার গ্রামের বাড়িতে যেতে হয়। চয়ন দোকানদারের কাছে একটি কদম ফুল ও চিরকুটে নিজের ঠিকানা রেখে যায়। কিন্তু পারিবারিক সংকট, মায়ের চিকিৎসা ও চাকরি হারিয়ে চয়ন দিশেহারা হয়ে পড়ায় কোনো চিঠি পাঠাতে পারেনি। ওদিকে একাকিত্ব আর অভিমানে দিন কাটছিল অনিমার। এক বছর পর, বাবার পছন্দে এক ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে অনিমার বিয়ের প্রাথমিক আলাপ শুরু হয়।
এমনই এক বৃষ্টির বিকেলে আচমকা চয়নের মুখোমুখি হয় অনিমা। চয়ন পরিশ্রান্ত ও ভেজা চুলে দাঁড়িয়ে ছিল। অনিমা কেঁদে ফেলে এক বছরের নীরবতার ক্ষোভ জানালে, চয়ন পকেট থেকে ডায়েরির পাতা বের করে দেখায়। সে চিঠি লিখলেও ঠিকানা ভুলে তা পৌঁছায়নি। সব শুনে অনিমার মা চয়নকে নিজেদের বাসায় নিয়ে যান।
ড্রয়িংরুমে অনিমার বাবা সামনে চয়ন মাথা নিচু করে নিজের ভালোবাসার কথা জানালে ঘরজুড়ে নীরবতা নামে। মা স্বামীকে বোঝান। পরের সপ্তাহে দুই পরিবারের আলোচনা ও চয়নের সততা যাচাইয়ের পর সব বাধা কেটে যায়। ঠিক এক মাস পর শ্রাবণের এক দুপুরে সাদামাটাভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পরদিন বিকেলে আবার শ্রাবণের অঝোর ধারা। চয়ন বাইরে থেকে দুটি খিলিপান আর একটি সদ্য ফোটা কদম ফুল নিয়ে ফেরে। ফুলটি অনিমার চুলে গুঁজে দিয়ে সে পুরোনো দিনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। অনিমা হেসে জিজ্ঞেস করে, ‘আজ পানের দাম দিয়েছ তো? নাকি আবার...।’ চয়ন মৃদু হেসে জবাব দেয়, ‘এবার সব হিসাব মিটিয়ে ফেলতে চাই।’ বাইরে তখন বৃষ্টি ঝরছে আর ঘরের ভেতর জমে উঠছে এক নতুন বসন্তের গল্প।

আরও পড়ুন

×