ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি
×

সমকাল ও রেড অরেঞ্জ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে সমকাল সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘স্বপ্ন ও সংকট: বাল্যবিবাহ এবং কিশোরী গর্ভধারণ প্রতিরোধে তারুণ্যের অংশগ্রহণ’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৭:১৫ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৭:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণ শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, শিক্ষা, অর্থনীতি ও উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি জাতীয় সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন, সমন্বিত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং সমাজের মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও তরুণ প্রতিনিধিরা।
গত ২৫ জুন দৈনিক সমকাল ও রেড অরেঞ্জ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ইয়ুথ শেয়ার-নেট প্রকল্প এবং অ্যামপ্লিফাই চেঞ্জের সহযোগিতায় সমকাল সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্বপ্ন ও সংকট: বাল্যবিবাহ এবং কিশোরী গর্ভধারণ প্রতিরোধে তারুণ্যের অংশগ্রহণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক।

ডা. হালিদা হানুম আখতার 
স্বাধীনতার পর থেকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ ও আলোচনা চললেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। বিপুলসংখ্যক কিশোরী ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গর্ভধারণ করছে; যা মা ও নবজাতকের জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এ ধরনের প্রবণতা উদ্বেগজনক। এতে কিশোরী মায়েদের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাভাবিক সামাজিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এখনও দেশের প্রায় অর্ধেক প্রসব বাড়িতে হয়। নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে না পারলে মা ও শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। বাড়িতে প্রসবের কারণে বহু নারী অপ্রয়োজনীয় কষ্ট ও জটিলতার শিকার হচ্ছেন। তাই নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করে সমাজে তাদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে মানুষের কাছে সঠিক তথ্য ও সচেতনতার বার্তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে পারে। সরকারকে বিদ্যমান আইন, নীতি ও কৌশল যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে; যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা এর সুফল পান। 
 

ডা. মো. সারোয়ার বারী 
দেশে বাল্যবিবাহের হার এখনও ৫১ শতাংশের বেশি, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ কিশোর-কিশোরী ভবিষ্যৎ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলেও তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে দেশের ২৪ শতাংশ নারী ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সন্তান জন্ম দিচ্ছেন, যা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। বাল্যবিবাহের পরিস্থিতি খুলনা অঞ্চলে আরও উদ্বেগজনক। সেখানে বাল্যবিবাহের হার ৬১ শতাংশের বেশি এবং ১৮ বছর হওয়ার আগেই মা হচ্ছেন ৩১ শতাংশ নারী। দারিদ্র্য, শিক্ষার সীমাবদ্ধতা, লিঙ্গবৈষম্য, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যের অভাব, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাল্যবিবাহকে ত্বরান্বিত করছে। দেশের অনেক এলাকায় কিশোরীদের বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, চলাচলে সামাজিক বিধিনিষেধ, মানসিক চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতা তাদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ সংকট মোকাবিলায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের (সিএমআরএ) বিশেষ বিধানের অপব্যবহার বন্ধ, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সব বয়সী  পুরুষদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা জরুরি। 
 

ড. গীতি আরা নাসরীন
বাল্যবিবাহ, কিশোরী গর্ভধারণ এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার কারণ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা ও তথ্য থাকলেও তা এখনও উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারেনি। তরুণদের সামনে ইতিবাচক স্বপ্ন, শিক্ষা, দক্ষতা  উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বের রোল মডেল তুলে ধরতে না পারলে বিয়ে বা রোমান্টিক সম্পর্কই অনেকের কাছে জীবনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাঠ্যক্রমে এখন যতটুকু আছে তাও যথাযথভাবে জানানো হয় না। শিক্ষকদের  প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ  এবং ছেলে-মেয়ে উভয়ের কাছে যৌন স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিজ্ঞানভিত্তিক সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা, আইন প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও আকর্ষণীয় বার্তার মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের কাছে পৌঁছাতে হবে। শিক্ষা, পরিবার, গণমাধ্যম, সমাজ ও সরকারের  সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণ প্রতিরোধে টেকসই অগ্রগতি সম্ভব

মো. মতিউর রহমান
পরিবারে সন্তানদের সঙ্গে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা না হওয়ার সংস্কৃতি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের অন্যতম বড় বাধা। শিশু-কিশোররা নানা প্রশ্নের সঠিক উত্তর তারা পরিবার থেকে পায় না। বাল্যবিবাহের ফলে কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, অপুষ্টি, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, দারিদ্র্যের চক্র এবং জনসংখ্যা বাড়ার মতো বহুমাত্রিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে অপুষ্ট ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা নতুন প্রজন্ম গড়ে ওঠার আশঙ্কাও বাড়ে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে। প্রয়োজনে বায়োমেট্রিকভিত্তিক নিবন্ধন চালু করা যেতে পারে; যাতে বয়স জালিয়াতির সুযোগ না থাকে। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের সামনে সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন তুলে ধরতে হবে। কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ তরুণদের জন্য বিকল্প সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কিশোর-কিশোরীদের কল্যাণে একটি বিশেষ প্রকল্প প্রস্তাব করেছে, যেখানে বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণ প্রতিরোধসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। 
 

 অলক কুমার মজুমদার 
বাল্যবিবাহ, কিশোরী গর্ভধারণ এবং এসআরএইচআর-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু আইন প্রণয়ন বা বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ যথেষ্ট নয়। এ জন্য নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল জনগোষ্ঠী পর্যন্ত সবার মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত পরিবর্তন জরুরি। সামাজিক কুসংস্কার ও প্রচলিত রীতিনীতির পরিবর্তন ছাড়া এ সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। পরিবার পরিকল্পনা সেবায় গর্ভনিরোধক সামগ্রীর ঘাটতি জনসংখ্যা বাড়ার হারকে প্রভাবিত করছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রচেষ্টার জন্য উদ্বেগের বিষয়। এ ছাড়া দক্ষ মিডওয়াইফ কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাঠ্যপুস্তক নিয়মিত হালনাগাদ ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে বিজ্ঞানভিত্তিক ও সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। 
নেপালের সংবিধানে নিরাপদ মাতৃত্ব ও নারীর অধিকারকে সাংবিধানিক  স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দেশের সংবিধানে নিরাপদ মাতৃত্ব (সেইফ মাদারহুড) এবং এসআরএইচআরকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।  

ডা. সাইদ রুবায়েত
দেশের সব অঞ্চলের বাস্তবতা এক নয়। দেশে গড়ে বাল্যবিবাহের হার প্রায় ৫০ শতাংশ হলেও সিলেট বিভাগে তা ২৭ শতাংশ। বিপরীতে স্বাস্থ্যসূচকে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা খুলনায় বাল্যবিবাহের হার ৬১ শতাংশ। এ বৈপরীত্য প্রমাণ করে, একই ধরনের কর্মসূচি সব অঞ্চলে সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। তাই স্থানীয় বাস্তবতা ও মূল কারণ বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা নিতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের সঠিক তথ্য দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হওয়া উচিত বিদ্যালয়ের সমন্বিত যৌনশিক্ষা। পাঠ্যক্রমকে সময় উপযোগী করতে হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়–শিক্ষা, নিরাপত্তা, দারিদ্র্য, জেন্ডার সমতা এবং তথ্যপ্রাপ্তির মতো বিষয়গুলোকে একসঙ্গে বিবেচনায় এনে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কার্যকর জাতীয় কৌশল গ্রহণ করতে হবে।
 

ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ হাসান
একটি মেয়ে জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হয়। অল্প বয়সে বিয়ে ও মাতৃত্ব সেই বৈষম্যকে আরও গভীর করে। ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সে অধিকাংশ কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সম্পূর্ণ হয় না; অথচ এ বয়সেই অনেককে গর্ভধারণ করতে হয়। একটি কিশোরী নিজেই যখন পূর্ণাঙ্গভাবে বেড়ে ওঠেনি, তখন তার গর্ভে আরেকটি শিশুর বেড়ে ওঠা মা ও নবজাতক–উভয়ের জন্যই গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। দেশের বিপুলসংখ্যক কিশোরী আগে থেকেই অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) এবং প্রয়োজনীয় যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতিতে ভোগে। এ অবস্থায় অল্প বয়সে গর্ভধারণের কারণে জটিল ও দীর্ঘসূত্রতাপূর্ণ প্রসব, মাতৃমৃত্যু, নবজাতকের অপুষ্টি, কম ওজন নিয়ে জন্ম এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যজটিলতার আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণকে জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকার সংকট হিসেবে বিবেচনা করে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং কিশোরীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

এস এম সৈকত 
মেয়েরা নেতৃত্ব দিতে পারে না; বড় ব্যবসা বা গুরুত্বপূর্ণ পেশায় সফল হতে পারে না–সমাজের একটি অংশের এ ধরনের ধারণা  কিশোরীদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে দেয়।
পরিবারের অর্থনীতিতে নারীর অবদানকে এখনও যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। অথচ কেয়ার ইকোনমিতে নারীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর অর্থনৈতিক স্বীকৃতি অনুপস্থিত। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ানো এবং গণমাধ্যমে নারীর ইতিবাচক সাফল্য আরও বেশি তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে; যাতে কিশোরীরা অনুপ্রাণিত হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে নারী সম্পর্কে নেতিবাচক ও বৈষম্যমূলক কনটেন্ট তরুণদের মানসিকতায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; আইন বাস্তবায়নের জবাবদিহি নিশ্চিত হলেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে।
 

খালেদা ইয়াসমিন 
দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী এখনও নিজেদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার (এসআরএইচআর) সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নয়। এ ঘাটতি দূর করে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২৫ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে ইয়ুথ শেয়ার-নেট প্রকল্প; যা ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে। দেশের পাঁচটি বিভাগের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে এসআরএইচআর বিষয়ে জ্ঞানমেলার আয়োজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগেও এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণ রোধে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মাঠপর্যায় থেকে কিছু সুপারিশ উঠে এসেছে।  এর মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালের শিশু বিবাহনিরোধ আইনের (সিএমআরএ) ‘বিশেষ বিধান’ ধারা অপসারণ বা সংশোধন, বাধ্যতামূলক ডিজিটাল বয়স যাচাই, কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সিএসই চালু এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ। জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি এ বিষয়গুলো নিয়েও জোর দিচ্ছি।
 

তপন কুমার  
জাতীয় গড়ে বাল্যবিবাহের হার ৫১ শতাংশ হলেও দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে তা ৯০ শতাংশেরও বেশি। জলবায়ুজনিত দুর্যোগ, দারিদ্র্য, শিক্ষাবিচ্ছিন্নতা এবং যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞানের অভাব এ সম্প্রদায়ের বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণের সংকটকে আরও গভীর করছে। উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্কুল-কলেজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে এবং দরিদ্র পরিবারগুলো জীবিকা সংকটে পড়ায় অনেক অভিভাবক মেয়েদের লেখাপড়ার পরিবর্তে বিয়ে দিয়ে দেন। দলিত সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মেয়ের বিয়ে ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই হয়ে যায়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কেউ উদ্যোগ নিলে অনেক সময় তাকে নিজ সম্প্রদায়ের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হয়। দলিত সম্প্রদায়ে অনিরাপদ গৃহপ্রসবের উচ্চ হারের ফলে নারীরা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। নীতিনির্ধারণে জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ  জরুরি।
 

জান্নাতুল ফেরদৌস নাসরীন
চট্টগ্রাম বিভাগে ধর্মীয় ও সামাজিক রক্ষণশীলতার কারণে বাল্যবিবাহের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।  বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজিদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বয়স ও অভিভাবকের উপস্থিতি নিশ্চিত না করে কোনো বিয়ে নিবন্ধন করা উচিত নয়। জন্মনিবন্ধনের তথ্য জালিয়াতি বাল্যবিবাহকে উৎসাহিত করছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিয়ের পরপরই সন্তান নেওয়ার জন্য পরিবার থেকে চাপ দেওয়া কিশোরীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দাম্পত্য জীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করে এবং অনেক ক্ষেত্রে সংসার ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য ও সচেতনতাকর্মীদের আচরণ এমন হতে হবে যেন পরিবারগুলো সহজে তাদের পরামর্শ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে স্কুল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে গ্রামপর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।  তরুণরাই নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
 

হেমা চাকমা
বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণের প্রশ্নে পাহাড়ের সংকটকে কেবল দারিদ্র্য বা সুযোগ-সুবিধার অভাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট নয়। পার্বত্য এলাকার দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং তথ্যপ্রবাহের ঘাটতি সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা সাজেকের আশপাশের অনেক গ্রামে এখনও মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছেনি। অনেক ক্ষেত্রে প্রসূতি মায়েদের বাঁশের তৈরি অস্থায়ী স্ট্রেচারে বহন করে হাসপাতালে নিতে হয় এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সংঘটিত অনেক বাল্যবিবাহ প্রশাসনিক নজরদারির বাইরেই থেকে যায়। তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বর্তমান প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে হলে সামাজিক মাধ্যমকেন্দ্রিক উদ্ভাবনী প্রচারণা প্রয়োজন। তরুণদের আগ্রহের বিষয়কে কাজে লাগিয়ে কার্যকর বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতি ও গণমাধ্যমকেও সামাজিক পরিবর্তনের ইতিবাচক শক্তি হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। 

নাছিম বানু 
চট্টগ্রাম অঞ্চল ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, উপকূলীয় অঞ্চলের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি এবং নগরাঞ্চলের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর কারণে এখানকার চ্যালেঞ্জও ভিন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘন ঘন দুর্যোগ, জীবিকা হারানো ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেক পরিবারকে কন্যাশিশুর বাল্যবিবাহের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
দুর্গম এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় তথ্য ও সচেতনতা থেকে বঞ্চিত। বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর জন্য স্থানীয় ভাষায় তথ্য না থাকায় তারা স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাসেবা সম্পর্কে জানতে পারছেন না। একই সঙ্গে অনেক এলাকায় বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং নিরাপদ স্কুল পরিবেশের অভাবে কিশোরীদের ঝরে পড়ার হার বাড়ছে। শুধু আইন বা নীতিমালা নয়, বাল্যবিবাহের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করতে হবে। 

 

ময়ূরী আক্তার টুম্পা
কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞানের বড় ঘাটতি রয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ইউনিয়ন পর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব কমিটি কার্যকর নয় বা গঠনই করা হয় না। এ সব কমিটি সক্রিয় করা প্রয়োজন। 
নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশের অভাবে অনেক কিশোরী বিদ্যালয় ত্যাগ করে এবং পরবর্তী সময়ে বাল্যবিবাহের শিকার হয়। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারও উদ্বেগজনক। বিদ্যালয়ভিত্তিক যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা গেলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কিশোর গ্যাং প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

 

মোনতাহের আরাফাত
দেশে এক হাজার ৩০০টির বেশি অ্যাডোলসেন্ট ফ্রেন্ডলি সেন্টার থাকলেও অনেকেই এসব সেবাকেন্দ্রের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানে না। ফলে কিশোর-কিশোরীরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ফলিক এসিড, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি, স্যানিটারি প্যাডের ব্যবহার ও নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। পাঁচটি স্কুলে পিরিয়ড-ফ্রেন্ডলি পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা কাজ করেছি। হাজারীবাগে একটি অ্যাডোলসেন্ট ফ্রেন্ডলি সেন্টারের সঙ্গে স্কুলগুলোর সমন্বয় করে স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ ছেলে এখনও মাসিককে স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া না ভেবে রোগ মনে করে। তাই ছেলেদেরও এ বিষয়ে  সচেতন করা জরুরি। 

 

মো. ইশতিয়াক মাহমুদ 
বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে শুধু কিশোরী বা তাদের পরিবারই নয়, পুরুষদের মধ্যেও ব্যাপক অজ্ঞতা রয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজপড়ুয়া অনেক তরুণও যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর) সম্পর্কে মৌলিক ধারণা রাখেন না। ইন্টারসেক্স ও লিঙ্গ-বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠী এসআরএইচআর বিষয়ে আরও পিছিয়ে রয়েছে। সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় তারা সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কেও পর্যাপ্ত ধারণা পায় না। অনেকের ধারণা, এসআরএইচআর কেবল নারীদের বিষয়, যা এই জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই এসআরএইচআর বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে নারীর সঙ্গে পুরুষদেরও সমানভাবে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা জরুরি। 

 

শেখ রিফাদ মাহমুদ
বর্তমানে অনেক কিশোর-কিশোরী সামাজিক মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তুলে নিজেরাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কিন্তু এসব বিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই দুই-তিন বছরের বেশি টেকে না। অপরিণত বয়সে বিয়ের কারণে তাদের সংসার পরিচালনা, আর্থিক স্থিতি, শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ জীবন নানা সংকটের মুখে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতনতা কার্যক্রমের ধরনও পরিবর্তন করা প্রয়োজন। শুধু পাঠ্যপুস্তক বা প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে সামাজিক মাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। জাতীয় নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় কিশোর-কিশোরীদের  সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়েও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এতে তরুণদের প্রয়োজন ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি প্রণয়ন সহজ হবে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে।

 

শেখ রোকন
বাল্যবিবাহের একটি ভৌগোলিক মানচিত্রও রয়েছে। যেমন, নদীভাঙনপীড়িত এলাকায় বাল্যবিবাহের হার বেশি। কারণ, যে পরিবারের থাকার জায়গার সংকট, তারা স্বভাবতই কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। এছাড়া অনেক সময় পরিবার চরাঞ্চলে কোনো রকমে মাথা গুঁজে থাকলেও বিদ্যালয় নেই, থাকলেও হয়তো নদী পেরিয়ে যেতে হয়, হয়তো অনেক দূরে। ফলে কন্যাশিশুর বিয়ে দেওয়া ছাড়া ওই পরিবারের সামনে আর কোনো উপায় থাকে না। ফলে বাল্যবিয়ে মোকাবিলায় অনেক কিছুর সঙ্গে নদীভাঙন রোধেও মনোযোগ দিতে হবে।

 

 

 

সুপারিশ

জরুরি সামাজিক সংকট ঘোষণা: বাল্যবিবাহ 
এবং কিশোরী গর্ভধারণ জরুরি সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সচেতনতা বাড়াতে একযোগে কাজ করা। 
আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করা: ২০১৭ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন (সিএমআরএ) সংশোধন করে ‘বিশেষ বিধান’ ধারাটি অপসারণ/সংশোধন করা। 
বাধ্যতামূলক ডিজিটাল বয়স যাচাই: তৃণমূল 
পর্যায়ে জালিয়াতি প্রতিরোধ করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে সমন্বিত সর্বজনীন ডিজিটাইজড জন্ম ও বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা 
বাস্তবায়ন করা।
কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা (এএফএইচএস) সম্প্রসারণ: কৈশোরবান্ধব যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য (এসআরএইচ) সেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে সচল রাখা।
শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে প্রণোদনা প্রদান: বিশেষত গ্রামীণ কিশোরীদের জন্য স্কুলে উপস্থিতি এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উপবৃত্তি সম্প্রসারণ ও নিশ্চিত করা।
যৌন শিক্ষা (সিএসই) প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ: জাতীয় মাধ্যমিক পাঠ্যক্রমে বয়স-উপযোগী, বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা।
স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণ: বাল্যবিবাহ সক্রিয়ভাবে প্রতিরোধ করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা। 
বাজেট বৃদ্ধি: স্বাস্থ্য খাতে এসআরএইচআর বাজেট বৃদ্ধি এবং সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণ।

চেয়ারপারসন

ডা. হালিদা হানুম আখতার
জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা (জেন্ডার অ্যান্ড এসআরএইচআর) রেড অরেঞ্জ লিমিটেড
প্রজনন স্বাস্থ্য চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক

ডা. মো. সারোয়ার বারী
সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব
অ্যাডজাংক্ট ফ্যাকাল্টি, ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আলোচক

 ড. গীতি আরা নাসরীন
অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মো. মতিউর রহমান
পরিচালক (পরিকল্পনা), পরিকল্পনা ইউনিট
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর

অলক কুমার মজুমদার
পরিচালক, প্রোগ্রাম ও অপারেশনস
রেড অরেঞ্জ লিমিটেড

ডা. সাইদ রুবায়েত
কান্ট্রি ডিরেক্টর, আইপাস বাংলাদেশ

ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ হাসান
এসআরএইচআর বিশেষজ্ঞ
ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ

এস এম সৈকত
নির্বাহী পরিচালক, সিরাক বাংলাদেশ

খালেদা ইয়াসমিন
পরিচালক, স্বাস্থ্য ও জেন্ডার, রেড অরেঞ্জ লি. 

তপন কুমার
হেড অব প্রোগ্রাম, দলিত

জান্নাতুল ফেরদৌস নাসরীন
ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি

হেমা চাকমা
কার্যনির্বাহী সদস্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) 

নাছিম বানু
পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন), ইপসা

ময়ূরী আক্তার টুম্পা
প্রজেক্ট অফিসার, আভাস

মোনতাহের আরাফাত
সভাপতি, ইয়ুথ অ্যাকশন ফর ডেভেলপমেন্ট 

মো. ইশতিয়াক মাহমুদ
সাধারণ সম্পাদক, প্রান্তজ যুব সংঘ

শেখ রিফাদ মাহমুদ
কাউন্সিল সদস্য, ন্যাশনাল ইয়ুথ কোয়ালিশন অন পপুলেশন, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এসআরএইচআর 

শেখ রোকন
সহযোগী সম্পাদক, সমকাল

সমন্বয়

হাসান জাকির
হেড অব ইভেন্টস, সমকাল

আরও পড়ুন

×