প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি
‘প্রবীণ জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা’ শিরোনামে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠক আলোচনায় সভায় বক্তারা
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৭:০৭ | আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৭:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
করুণার জায়গা থেকে নয়; প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নে জোর দিতে হবে। বিশেষ করে স্বল্প প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতার চেয়ে চাকরিসহ সমাজের সর্বস্তরে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে হবে। তবে গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতার পরিমাণ বাড়াতে হবে। ‘প্রবীণ জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা’ শিরোনামে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি তুলে ধরা হয়। গত ২১ মে সমকাল কার্যালয়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে কারিতাস বাংলাদেশ ও সমকাল
মূল প্রবন্ধ
আলবার্ট মোল্লা
দেশে প্রতিবন্ধী মানুষের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে করা ২০২১ সালের জরিপ বলছে, দেশের ২ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী। ডিজঅ্যাবিলিটি ইনফরমেশন সিস্টেমে ২১ মে পর্যন্ত ২ দশমিক ৩ শতাংশ অর্থাৎ ৪০ লাখ ১৫ হাজার ১৪৪ জনের হিসাব আছে। ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুসারে এই পরিসংখ্যান, ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২ সালের শুমারি অনুসারে, ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ; মানে ৩৮ লাখের মতো। তথ্যের এই তারতম্যের কারণ হচ্ছে, যখন যে জরিপটা হয় তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী মেথডলজি করা হয়। কিন্তু যে উদ্দেশ্যেই হোক না কেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে একক সঠিক সংখ্যা থাকা উচিত। সঠিক সংখ্যা ছাড়া নীতিমালা এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ কিংবা কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি ভাতার পরিমাণ মাসিক ৯০০ টাকা, প্রবীণ ব্যক্তিদের ৬৫০ টাকা।
৬১ লাখ প্রবীণ লক্ষ্যমাত্রায় চার হাজার ৭৯১ দশমিক ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি ধাপে বরাদ্দ আছে–প্রাথমিকে ৯০০ টাকা, সেকেন্ডারিতে ৯৫০ টাকা, হাই স্কুলে ১০৫০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১৩০০ টাকা। এক্ষেত্রে ৩৫ দশমিক ৩১ লাখ জনগোষ্ঠীকে এই লক্ষ্যমাত্রায় রাখা হয়েছে। আগে এক লাখ শিক্ষার্থী এই সেবার আওতায় ছিল, এখন কমে ৮০ হাজার এই সেবা পাবে। প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য বাজেট আছে তিন হাজার ৮৪৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ধরে সামগ্রিকভাবে প্রতিবন্ধী খাতে বাজেট বরাদ্দ আছে চার হাজার ৭৭ দশমিক ১৮ কোটি টাকা। সামাজিক সুরক্ষায় এই বরাদ্দ আসে তিন দশমিক ৪৯ শতাংশ। আবার মোট বাজেটের ওপর প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য এই বরাদ্দ আসে শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ।
প্রতিবন্ধিতার তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চার ভাগে ভাগ করেছে নেপাল। যারা সবচেয়ে বেশি প্রতিবন্ধী, তারা লাল ক্যাটেগরিভুক্ত এবং তাদের মাসিক ভাতা তিন হাজার ৪০০ টাকার সমপরিমাণ। এরপর আছে নীল ক্যাটেগরির ভাতা তিন হাজার ২৫০ টাকা। এরপর মাইল্ড ও মডারেট ক্যাটেগরিতে কোনো ভাতা দেওয়া হয় না। শ্রীলঙ্কাতে ভাতার পরিমাণ তিন হাজার ৯৫০ টাকা। পাকিস্তানে দেওয়া হচ্ছে এক হাজার ৭০০ টাকা। ভারতে তিন হাজার ৫০০ টাকা আছে, চার হাজার ৫২৬ টাকা আছে; কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুসারে ভাতা দিচ্ছে। তুলনা করে দেখলে বাংলাদেশে ভাতার পরিমাণ বেশ কম। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক এবং এফসিবিএর গবেষণা বলছে, একটি অপ্রতিবন্ধী পরিবারের চাইতে প্রতিবন্ধী পরিবারে ১৩ শতাংশ বেশি খরচ হয়। বিশ্বব্যাংক বলছে, গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বেলায় এই খরচ ৩০-৪০ শতাংশ বেড়ে যায়। কাজেই এখানে প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী ক্যাটেগরিভিত্তিক ভাতা চালু করা দরকার। প্রবীণ মানুষের ধরন অনুযায়ী ভারতে ৫০০ থেকে চার হাজার টাকা, শ্রীলঙ্কাতে দুই হাজার ৭০০ টাকা, পাকিস্তানে চার হাজার ৮০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা আছে। প্রবীণ মানুষের জন্য অন্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে ভাতার পরিমাণ বেশ কম। এ দিকটায় নজর দিতে হবে।
ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ
আমরা প্রতিবন্ধিতা, সামাজিক সুরক্ষা, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে পাইলটিং শুরু করেছি। আগামী বছরে আমরা প্রায় ৪১ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষকে ভাতার আওতায় আনতে চাই।
আমাদের এত ধরনের প্রায়োরিটি–শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, নিরাপত্তা। স্বাস্থ্যে বেশি পাবে, না শিক্ষা বেশি পাবে? এটিকে বলে কমপিটিং প্রায়োরিটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমাদের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বাবদ সরকারের বাজেট ছিল এক লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা; যেটি জিডিপির ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। সরকার খুবই আন্তরিক, কিন্তু সীমাবদ্ধতা আছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বড় সমস্যা হলো, জনপরিসরে তাদের প্রবেশগম্যতা নেই। এই রাষ্ট্রকে আরও মানবিক হতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা দিতে সারাদেশে সরকারের ১০৩টি সেবা ও সাহায্যকেন্দ্র আছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা, সহায়তা, বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ, হুইলচেয়ার প্রদান–এসব নিয়ে সম্প্রতি ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। এখন ৬১ লাখ মানুষ বয়স্কভাতা পান। সমাজকল্যাণমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এটি ৬২ লাখে উন্নীত হয়েছে। আগামী বছর থেকে বয়স্কভাতা এক লাখ লোক বেশি পাবেন। সঙ্গে ভাতার পরিমাণও বেড়েছে। এখন মাসে ৬৫০ টাকা আছে, যা অক্টোবর থেকে ৭০০ টাকা হবে। বিধবাভাতা পেতেন ২৯ লাখ। এটিও ৩০ লাখে উন্নীত হয়েছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সাভারে বিশাল স্টেডিয়াম হবে–ফুটবল, ক্রিকেট স্টেডিয়াম হবে, ইনডোর স্টেডিয়াম হবে। প্রকল্প শুরু হয়ে গেছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে শেষ হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাই আমাদের জন্য প্যারা অলিম্পিকে সম্মান বয়ে এনেছেন। জাতিসংঘ সনদে বলছে, প্রতিবন্ধীদের জন্য অধিকারভিত্তিক সেবা হতে হবে। শুধু ইনস্টিটিউশন না; প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি সমাজ কাজ করবে। প্রায় ২০ কোটি টাকার হুইলচেয়ার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আর আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এমনভাবে কাজ করছি, যেন তার মধ্যে অনেক বয়স্করাও চলে আসেন। ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, এখন থেকে যে কাজ হবে তাতে যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশগম্যতা থাকে, র্যাম্প থাকে। যেসব ভবন হবে, সেখানে প্রতিবন্ধীবান্ধব টয়লেট থাকবে। আমরা মন্ত্রণালয় কিন্তু সব তথ্য জানি না। এ ধরনের আলোচনা থেকে আমরা কিন্তু উপকৃত হই। আমাদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়।
মো. তরিকুল আলম
আমি পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রায় পৌনে সাত বছর ছিলাম। সব জরিপ কার্যক্রমের সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম। এই যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে তারতম্য, এটি কাম্য নয়। তথ্যের ব্যাপারে আমাদের সঠিক ধারণা থাকতে হবে। সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, প্রকৃত সংখ্যা আগে নিরূপণ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে, আমাদের পাশে প্রতিবন্ধী ভাইবোনেরা যেন চলতে পারে, উপার্জন করতে পারে। কর্মসংস্থান যেন তাদের হয়। ৩৬ হাজার হুইলচেয়ার খুব দ্রুত আনার ব্যবস্থা হচ্ছে। সেলাই মেশিন ও অন্যান্য উপকরণও থাকবে। বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধিতাগুলো দেখতে হবে। সেক্টরভিত্তিক বরাদ্দ নিয়ে ভাবা যেতে পারে। আমাদের প্রতিটি উপজেলায় প্রতিবন্ধী সাহায্য ও সেবাকেন্দ্র করার জন্য মন্ত্রী মহোদয় কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জিডিপিতেও অবদান থাকবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীসংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটিও করে দিয়েছেন। আমি বরিশালে গিয়েছিলাম। সেখানে আমি হোটেল মালিককে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম, হোটেলে প্রবেশগম্য হলো না কেন? অনেক হোটেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতা থাকে না। এদিকটায় নজর দিতে হবে। সবাইকে নিয়েই সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
মো. মোশাররফ হোসেন
সংখ্যা নির্ধারণ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু। আমাদের সব রিপোর্ট একটা জায়গায় আসা উচিত। প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইনে ১২ ধরনের প্রতিবন্ধিতার কথা বলা আছে। আরও অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা থাকতে পারে। ২১ মে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ৩৯ লাখ ১৫ হাজার। এর একদিন আগে ছিল ৩৯ লাখ ১৪ হাজার। প্রতিনিয়ত সংখ্যাটা বাড়ছে। ইতোমধ্যে ৩৫ লাখ সহায়তার আওতায় এসেছেন। অনেকে ভাতা নিতে চান না, সেই মানুষগুলো হয়তো এই তিন লাখের মধ্যে আছে।
আইনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিবন্ধন পদ্ধতি স্পষ্ট করে বর্ণনা আছে। এই জায়গাগুলোকে আরও বেশি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া দরকার। ভাতার টাকা খুবই নগণ্য। অনেকের জন্য কম হলেও এই টাকা কাজে লাগে। সুখবর দিতে চাই, শিক্ষার্থী হোক আর না হোক সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিই ভাতার আওতায় থাকবে। ভাতার পরে তার যে উপবৃত্তি অংশটুকু–প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্তর অনুসারে পাবে। তাহলে আর বাবা-মা ভাববেন না, আমার সন্তান যদি ঝরে পড়ে তাহলে ভাতা পাবে না। এই অর্থবছর থেকেই এটা বাস্তবায়ন হচ্ছে।
আমাদের পরিকল্পনা, সুবিধাভোগীর এনআইডিভিত্তিক সিম থাকবে। তাহলে তার নম্বরে টাকা যাবে। অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছে, যাদের সিম কেনার সক্ষমতা নেই। সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা এ বিষয়টি নিয়েও কাজ করছি।
দাউদ জীবন দাশ
কারিতাস ১৯৬৭ সাল থেকে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শাখা হিসেবে কাজ শুরু করেছিল। কালের পরিক্রমায় বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সরকারের পরে সবচেয়ে বেশি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের সহযোগী হিসেবে জনগণের পাশে থেকে কাজ করছে কারিতাস। বর্তমানে কারিতাসের দুটি বিশেষ প্রকল্প রয়েছে প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের সহায়তা ও সেবার জন্য। আমরা বিশেষ করে বিএমজেড ও সিপিএম গ্লোবাল দাতা সংস্থাকে ধন্যবাদ জানাই; যারা বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে অনবদ্য ভূমিকা ও দায়িত্ব পালন করছে। গত এপ্রিল মাসে জার্মানিতে দুটি উন্নয়নসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ঘুরে এসেছি, তাদের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ হয়েছিল; যারা বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের উন্নয়নে কাজ করে। আগামীতে কারিতাস বাংলাদেশের সুযোগ রয়েছে সরকারের অংশী হিসেবে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কাজ করার।
নাজমুল বারী
অন্তত ৩৯ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষ ইনফরমেশন সিস্টেমে চলে এসেছে। কিন্তু অনেকেই এই তালিকায় যুক্ত হতে পারেননি। এর কারণ হতে পারে তথ্যের প্রবেশগম্যতা। ডিজিটাল প্রবেশগম্যতায় বাধা থাকলে সেটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব করতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনেকের নিয়মিত শারীরিক থেরাপি প্রয়োজন হয়। এ ধরনের থেরাপি নেওয়ার সুযোগ গ্রামীণ এলাকায় সেভাবে নেই। এই সেবার আওতা বাড়ানো দরকার। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে দেখাশোনার দায়িত্ব মায়েরা কিংবা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিচ্ছেন। এতে দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি নিয়মিত কাজকর্ম করতে পারছেন না; অনেক সময় চাকরিটা ছেড়ে দিচ্ছেন। এখানে পরিবারের উপার্জন কমে যাচ্ছে। কয়েকটি দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যারা দেখাশোনা করেন তাদেরও ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে সহযোগিতার বিষয়গুলো দেখা দরকার। প্রতিবন্ধিতা অনুযায়ী ক্যাটেগরি করে কয়েকটি স্তরে ভাতা দেওয়া যেতে পারে।
সাইদুল হক
আমরা সম্মানজনকভাবে বাঁচতে চাই। আমাদের জন্য যে আইনটি রয়েছে, সেখানে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দুটি কমিটি রয়েছে–জাতীয় সমন্বয় কমিটি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটি। এ দুটি কমিটি যেন সক্রিয় হয়। এতে করে প্রতিবন্ধী মানুষের সঙ্গে বছরে দুই-তিনবার দেখা হবে, পরামর্শ নেওয়া যাবে, মতামতটা শোনা যাবে। এই মন্ত্রণালয় সভাগুলো হচ্ছে না বলে জেলা কমিটির সভা কিংবা উপজেলা কমিটিগুলোও হচ্ছে না। কথা ছিল, সভার প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হবে। আমি মন্ত্রণালয়ে খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি, তারা কোনো প্রতিবেদন দিচ্ছে না। আমাদের সরকারি রুলস অব বিজনেস আছে, প্রতিবন্ধীবিষয়ক যে কার্যক্রম আছে তা কেবল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পালন করে থাকে। এই নিয়মে যেন পরিবর্তন আনা হয়। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে প্রতিবন্ধী মানুষের বিষয়ে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়।
সালমা মাহবুব
বাজেট নিয়ে প্রতিবন্ধী মানুষের অনেক প্রত্যাশা। ভাতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন–অনেক পরিকল্পনা আছে। কিন্তু এই কর্মপরিকল্পনা কারা মনিটর করবে? যে পরিকল্পনা পড়ে রইল পাঁচ বছর, সেটি শেষ। নতুন করে আবার তৈরি করতে হবে অথবা বর্ধিত করতে হবে। এই যে একটা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হলো তার কতটুকু বাস্তবায়ন হলো? দুই বছর পর, পাঁচ বছর পর–আমরা কোথায় ছিলাম আর কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে এটা জানার ইচ্ছা। এটা দেখতে পাচ্ছি না। যেমন–নারীর জন্য কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কমিটি রয়েছে। প্রতিবন্ধী মানুষের বেলায় এসে কোনোটাই নেই।
এসব জায়গার সমন্বয় জরুরি। সুরক্ষার জায়গা থেকে ২০০০ সালেই আমাদের আড়াই হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার কথা। সেখানে আমরা ৯০০ টাকা ভাতা পাচ্ছি। এত অল্প টাকায় একজন মানুষের কী ভরণপোষণ চলে? এটা যুক্তিসংগতভাবে বাড়াতে হবে।
আশরাফুন নাহার মিষ্টি
আমরা তো মজলুম ধরনের মানুষ। আমরা তো দুর্বল। আমাদের কণ্ঠ সবল হলেও আমাদের প্রতিবন্ধিতা, আমাদের নারীত্ব, আমাদের পরিচয় আমাদের সব সময় দুর্বল করে রাখে। তারপরও বলতে চাই, আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে অনেক বেশি ব্যবহার করা প্রয়োজন। খুবই দুঃখজনক, ২০২৫ সাল পর্যন্ত লাখ শিক্ষার্থী সহায়তা পেত। এখন তা নেমে এসেছে ৮০ হাজারে। সংখ্যাটা বাড়া উচিত ছিল। বিশেষ করে যখন আমরা বলছি, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আমি মাস্টার্স পাস করার পরে, ফুড ইনস্পেকশনে লিখিত পরীক্ষা ভালো করেও শুধু প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলে মৌখিক পরীক্ষায় ডাক পাইনি। বিসিএস পরীক্ষায় একশতে ৯৮ পেয়েছিলাম প্রিলিতে। ডিজঅ্যাবিলিটি মানে ব্যাকবেঞ্চার নয়, টপার। আজ পর্যন্ত সরকারের একটি টাকাও আমি ভাতা নেইনি। আমি প্রতি বছর ট্যাক্স প্রদান করি, আগামীতে আরও বেশি দিতে চাই। সবার আসলে ভাতার প্রয়োজন নেই। কেন আমাদের দারিদ্র্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হচ্ছে? কেন আমাকে আমার পেশার জায়গায় উন্নতি করা হচ্ছে না? যদি হাত না থাকে, পা থাকে– তাহলেও প্রতিবন্ধী মানুষরা কাজ করতে পারে।
অসীম ডিও
সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকার যে অবস্থানে আছে, তাতে সংশোধনের অনেক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাইটসবেজড অ্যাপ্রোচকে ধারণ করা। প্রতিবন্ধী মানুষ ও প্রবীণদের যে ভাতা দেওয়া হয়, ভাতাটা জিটুপিতে যায়। এখানে বিকাশ, নগদ এমন যে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাপসগুলো আছে সেগুলো প্রবেশগম্য না। বিশেষ করে যিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ তার জন্য অ্যাপসগুলো প্রবেশগম্য করতে হবে। এই অসুবিধার কারণে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জায়গায় তার মা-বাবা, আত্মীয়স্বজনের নম্বরটা দেওয়া হয়। এই জায়গাটাতে কী করা উচিত ভাবতে হবে। এখানে ইউএনডিপিও সহযোগিতা করতে পারে। এআই নির্ভর করে কীভাবে সেগুলো আরও সহজ করা যায়, সেখানে যে কোনো সহযোগিতা করতে আমরা ইউএনডিপি থেকে আছি।
আমরা কমপ্লায়েন্সের জায়গায় আরও বেশি সহযোগিতা করতে চাই। খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি টাইমলাইন আছে–২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। জাতিসংঘে পাঁচটি রিপোর্ট দিতে হবে। সরকার কি প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রতিবেদনগুলো দেওয়ার জন্য? বাংলাদেশ সরকার অনুস্বাক্ষরও করেছে। এখন দায়িত্ব হলো কাজগুলো করা। সেই জায়গায় সরকারের সঙ্গে আমরা ইউএনডিপি একত্রে কাজ করতে আগ্রহী।
চন্দ্রমনি চাকমা
প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। বিভিন্ন এলাকায় কাজের আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। আপনারা জানলে খুশি হবেন, আমরা কারিতাসে যারা চাকরি করি, তাদের প্রতি মাসের বেতনের একটা অংশ ফান্ডে জমা হয়। সেখান থেকে অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের আমরা সহায়তা করি। আমি মালয়েশিয়াতে ভ্রমণ করে দেখলাম, প্রতিটি রাস্তায় প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য চলার বিশেষ ব্যবস্থা আছে। এ রকম সুযোগ আমাদের দেশে হলে, প্রতিবন্ধী ভাইবোনেরা নিরাপদে চলতে পারত। বর্তমানে আমরা আমাদের মেট্রোতে দেখেছি, লেখা আছে–প্রতিবন্ধী এবং বৃদ্ধদের জন্য বরাদ্দকৃত। এ ধরনের উদ্যোগ বেশি বেশি প্রয়োজন।
অয়ন দেবনাথ
অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার ২১ দশমিক চার শতাংশ, প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাস করে। যুক্তরাজ্যে জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ, প্রতি চারজনে একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৬ শতাংশ হিসেবে, প্রায় দুই কোটি। আমরা মনে করি বাংলাদেশে সংখ্যা এমনই, কারণ প্রতিবন্ধিতার অনেক ধরন আছে। শেষ সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক জাতীয় পরিকল্পনায়, সরকার সামাজিক সুরক্ষাকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখে বলেছে। তাহলে যে টাকাটা আমরা সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ করছি, সেটি দয়া না। এই টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য বাড়ানো হয়, তারা ভালো করবে। সরকার ও আমাদের ভাবনায় বদল আনা প্রয়োজন, এটা শুধু ভাতা না, এটা দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। আমাদের প্রতিবন্ধী মানুষেরা ঘর থেকে বের হতে পারে না পরিবহনের অভাবে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে যেতে পারছে না। এই বাধা তো সমাজ তৈরি করছে। গত বছর বার্লিনে জিডিএস সম্মেলন হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশ সরকারের অংশগ্রহণ ছিল না। এখানে আম্মান-বার্লিন ডিক্লেয়ারেশন হয়েছে–বৈশ্বিক জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য ১৫ শতাংশ বরাদ্দ করা। বাংলাদেশ বাদে, এখানে ৯০টিরও বেশি দেশ অনুস্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোকে জেপিইউএফ থেকে ফান্ড দেওয়া হতো, কভিডের আগ পর্যন্ত সেটিও বন্ধ হয়ে আছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলো যদি টাকার অভাবে কাজ না করে তাহলে প্রতিবন্ধী মানুষ প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পড়বে।
নূর মোহাম্মদ
আসলে সামাজিক সুরক্ষা বলতে আমরা কী বুঝি? আমরা কী সব ধরনের প্রতিবন্ধিতার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সেবা চাই? এটা একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সব কিছু দেখা সম্ভব নয়। আমরা যারা প্রতিবন্ধী মানুষ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমাদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি দায়িত্ব নেবে। পরিবহন মন্ত্রণালয় পরিবহন সেবা প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য উপযোগী কিনা সেটির নিশ্চয়তা দেবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের কর্মপরিকল্পনার মধ্যে যদি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে, তাহলে কিন্তু আমাদের সুবিধা হবে।
ভাতা নিয়ে কথা হচ্ছে। সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিন্তু ভাতা নিতে চায় না। যারা নিতে চায় তাদের ভাতাটা একটু বাড়িয়ে দিন। ৯০০ টাকা ভাতার জন্য যে পরিমাণ হয়রানি হতে হয়, এটা যারা ভাতা নেন তারাই কেবল জানেন। ধরেন, একটা আঙুল না থাকলেও কিন্তু অনেক কাজ করা সম্ভব।
একটা আঙুল নেই তার জন্যও ৯০০ টাকা ভাতা, আবার যারা বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তাদের জন্য ৯০০ টাকা ভাতা। এটা সমন্বয় করা প্রয়োজন।
দেওয়ান মাহফুজ-ই মাওলা
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি বিষয়টি এখন পর্যন্ত যথার্থভাবে আসেনি। আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মোবিলিটি বাড়াতে চাই। এতে সহযোগী ডিভাইস হিসাবে আমরা গতানুগতিক হুইলচেয়ার কেনার পরিকল্পনা করছি।
শুধু হুইলচেয়ার নয়; এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সামগ্রিক পরিকল্পনা দরকার। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যেসব সহযোগী ডিভাইস আমদানি করতে হচ্ছে এ ক্ষেত্রে ট্যাক্স রিবেটের বিষয়টি
সরকার বিবেচনা করতে পারে। এসব ডিভাইস যেন দেশেই বানানো যায় এজন্য নির্মাতাদের বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে। অনেক সহযোগী ডিভাইস তৈরিতে কাঁচামাল আমদানিতেও ভ্যাট দিতে হচ্ছে। বর্তমান নিয়মে, অ্যাসিসটিভ ডিভাইস লাগলে সেই ডিভাইসের ট্যাক্স বা ভ্যাট রিবেটের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে হয়, আবেদন করতে হয়। এটি অনেক ঝামেলার। সবার জন্য কিন্তু এত ঝামেলা নেওয়া সম্ভব না। অনেক ধরনের সহযোগী ডিভাইস আছে। আমি ভিডিও ম্যাগনিফাইয়ার ব্যবহার করছি। এর দাম কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা। এটি যদি দেশে বানানো সম্ভব হতো বা ট্যাক্স ফ্রি আমদানি করা যেত তাহলে আরও কম দামে পাওয়া যেত। জাতিসংঘ থেকে
৫০টি ডিভাইসের তালিকা দেওয়া আছে। এই ৫০টি ডিভাইস সাশ্রয়ী মূল্যে যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ব্যবহার করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
শাহেদ মুহাম্মদ আলী
প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কেবল নীতিগত আলোচনা নয়। এটি আমাদের মানবিকতা, রাষ্ট্রচিন্তা ও জীবনদর্শনের একটি বড় পরীক্ষা। উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড নির্ধারিত হয় যখন সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্যও আমরা নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জীবনযাপনের ব্যবস্থা করতে পারি। যেমন রাস্তাঘাট, স্থাপনা, অবকাঠামোতে প্রতিবন্ধী প্রবেশগম্যতা-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
প্রতিবন্ধী ভাইবোনেরা চান, তাদের বিষয়ে রাষ্ট্র বা সমাজকে করুণার জায়গা থেকে সরে আসতে হবে। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যে কর্মীবাহিনী আছেন সেখানে প্রতিবন্ধী মানুষ কতজন আছেন? এই আলোচনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বের কথা উঠে এসেছে। তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা তৈরিতে জোর দিতেই হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। আমরা চাই, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়গুলো মানবিক দৃষ্টিতে দেখা হবে।
সুপারিশ
প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ।
সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব হতে হবে।
প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী ক্যাটেগরিভিত্তিক ভাতা প্রদান।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সার্বক্ষণিক সহযোগীর জন্য ভাতা প্রদান।
প্রতিবন্ধিতা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরির সুযোগ।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ বাস্তবায়ন।
প্রতিবন্ধী শিশুদের সেবাকেন্দ্র উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহযোগী ডিভাইস আমদানির ক্ষেত্রে ট্যাক্স-ভ্যাট প্রত্যাহার
করতে হবে।
ডিজিটাল সেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধান অতিথি
ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ
সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
বিশেষ অতিথি
মো. তরিকুল আলম
ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব)
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন
মো. মোশাররফ হোসেন
পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা)
সমাজসেবা অধিদপ্তর
মূল প্রবন্ধ
আলবার্ট মোল্লা
সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক
অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন
আলোচক
দাউদ জীবন দাশ
নির্বাহী পরিচালক, কারিতাস বাংলাদেশ
নাজমুল বারী
নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)
সাইদুল হক
নির্বাহী পরিচালক
ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো)
সালমা মাহবুব
নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস-বিস্ক্যান
আশরাফুন নাহার মিষ্টি
প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক
উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডব্লিউডিডিএফ)
অসীম ডিও
অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং স্পেশালিস্ট, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপি
অয়ন দেবনাথ
ক্যাম্পেইন অ্যাডভাইজার, সাইটসেভার্স
নূর মোহাম্মদ
সমন্বয়ক, ড্রিম ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন
চন্দ্রমনি চাকমা
ডেভেলপমেন্ট ইনচার্জ, কারিতাস বাংলাদেশের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড কমিউনিটি
দেওয়ান মাহফুজ-ই মাওলা
অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন ম্যানেজার, সিবিএম গ্লোবাল ডিজঅ্যাবিলিটি ইনক্লুশন
সঞ্চালক
শাহেদ মুহাম্মদ আলী
সম্পাদক, সমকাল
- বিষয় :
- গোলটেবিল
