ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জেলেদের অধিকার আদায়ে গণমাধ্যমেরও ভূমিকা রয়েছে

জেলেদের অধিকার আদায়ে গণমাধ্যমেরও ভূমিকা রয়েছে
×

‘মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায় মৎস্যজীবীর অধিকার এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা -সমকাল

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৭:০৬ | আপডেট: ২০ মে ২০২৬ | ০৭:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের মৎস্যজীবীরা নিজেদের অধিকার আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে। সরকারি নীতিমালা, জলবায়ু ঝুঁকি এবং স্থানীয় দখলদারদের কারণে মাছ ধরার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে জেলেরা প্রায়ই আর্থিক ও সামাজিক বঞ্চনার মুখোমুখি হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির টেকসই পরিবর্তনে সরকারের জেলেবান্ধব নীতি এবং মানবিক আচরণের পাশাপাশি স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে মৎস্যজীবীদের শক্তিশালী ও সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা জরুরি। এতে তারা নিজেদের কণ্ঠস্বর উচ্চারণ করতে পারবেন, গণমাধ্যমে উপস্থিত হবেন এবং নীতিনির্ধারকদের নজরে আসতে সক্ষম হবেন।
গত ৩১ মার্চ রাজধানীতে সমকালের সভাকক্ষে ‘মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায় মৎস্যজীবীর অধিকার এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। 
সিএনআরএস ও সমকাল যৌথভাবে এর আয়োজন  করে। সহযোগিতায় ছিল ‘ট্রোসা ২ প্রকল্প’

লোটন একরাম
গণমাধ্যমে সাধারণত জেলেদের দুঃখ-কষ্ট ও অধিকারের বিষয়গুলো ততটা গুরুত্ব পায় না। এর একটি বড় কারণ হলো, জেলে সম্প্রদায়ের সংগঠিত উদ্যোগের অভাব। গার্মেন্টস খাতের মতো শক্তিশালী সংগঠন না থাকায় তারা নিজেদের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারছেন না।
জেলেদের উচিত স্থানীয় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা। এতে তারা সরকারের সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন। নিজেদের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখতে পারবেন। জেলেদের গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা জরুরি। স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়, প্রেস কনফারেন্স বা মানববন্ধনের মাধ্যমে সমস্যা তুলে ধরলে সেগুলো বেশি গুরুত্ব পাবে। শুধু আলোচনা করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। সংগঠিত আন্দোলন, স্মারকলিপি প্রদান, প্রয়োজন হলে প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকেও তৃণমূলের এসব সমস্যাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে হবে।

এনামুল মাজিদ খান সিদ্দিকী
আমরা পত্রিকায় সাধারণত জেলেদের চেয়ে মাছের খবর বেশি দেখি। অর্থাৎ আমাদের কাছে জেলেদের চেয়ে মাছ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ২০টির বেশি গণমাধ্যমের মোট ১১৬টি সংবাদ পর্যালোচনা করেছি। ২২টি জেলার খবর এসব সংবাদে এসেছে। এর মধ্যে ৬৮ শতাংশ সংবাদ হচ্ছে নদীতে একাধিক বাহিনীর অভিযান এবং জেলেদের গ্রেপ্তার নিয়ে। জেলেদের কষ্ট নিয়ে সংবাদ মাত্র ১৮ শতাংশের মতো। মাছ ধরা জেলেদের জীবিকা হলেও এ ধরনের উপস্থাপনায় তাদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপনের ঝুঁকি তৈরি হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি যখন যে ধরনের বার্তা দিচ্ছে, সেভাবেই সংবাদে আসছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজটি কর্তৃত্ববাদী রূপ পাচ্ছে। এর ফলে অনেকটা জাতীয় মাছ বনাম জেলে–এ ধারণা তৈরি হয়। অথচ খবরগুলো এমন হতে পারত– জেলেদের উপযুক্ত সহায়তা না দিয়েই মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মাছ ধরেই যাদের ভরণপোষণ চলে, সেই জেলেদেরও রক্ষা করতে হবে। নীতিনির্ধারক কিংবা বুদ্ধিজীবী পর্যায় থেকে জেলেদের কথা তেমন আসে না। সেখানে জেলে পরিবারের নারীদের কথা তো আসেই না। যেসব জেলে কার্ডধারী তাদের ভিজিএফের চাল দেওয়া হয়। কিন্তু সব জেলে কি কার্ডধারী? যারা পাচ্ছেন না, তাদের বিষয়টা সংবাদে থাকে না।

আসিফ রশীদ
মাছ দৈনন্দিন পুষ্টির উৎস হলেও তার আড়ালে রয়েছে জেলেদের জীবন-সংগ্রাম। দেশের গণমাধ্যমে মৎস্য খাত তুলনামূলক উপেক্ষিত। সাধারণত যে বিষয়টি বেশি আলোচিত বা সংবাদমূল্য বেশি, সেটিই সম্পাদকীয়তে গুরুত্ব পায়। ফলে মানুষের প্রধান প্রোটিনের উৎস হওয়া সত্ত্বেও মৎস্য খাত পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায় না।  মৎস্যজীবীরা দেশের অন্যতম প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হলেও তাদের জীবন-সংগ্রাম প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ শীর্ষে থাকলেও এর উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে প্রকৃত লাভ কারা পাচ্ছে? জেলে, নাকি মধ্যস্বত্বভোগী–এই প্রশ্ন সামনে আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি একসময় প্রচুর পাওয়া যেত এমন ছোট মাছ ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে, যা পুনরুদ্ধারে গবেষণা ও পরিকল্পনা দরকার। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সম্পাদকীয় পাতায় মৎস্য গবেষকদের সাক্ষাৎকার, বিশ্লেষণধর্মী লেখা এবং তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন বাড়ানো উচিত। 

মোখলেসুর রহমান চৌধুরী
আমরা দীর্ঘদিন ধরে মৎস্যজীবীদের নিয়ে কাজ করছি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে জেলেরা আরও প্রান্তিক। কারণ তারা নিজেদের পেশার কারণে এমন জায়গায় বসবাস করেন, যেটি দেশের সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণ। দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে তারা মাছ ধরেন এবং উন্মুক্ত জলাশয় থেকে আমাদের পুষ্টির জোগান দেন। রাষ্ট্র ও সমাজ জেলেদের এই অবদানকে স্বীকৃতি দেয় না। আমরা জেলে বলতে যাকে দেখি, এর মধ্যেও কিন্তু নানা ধরনের বৈচিত্র্য রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ হয়তো নৌকার মালিক; তাদের ঝুঁকি এক রকম। আবার যারা ভাগী হিসেবে কাজ করছেন, তাদের কাছে আমরা কেউই হয়তো পৌঁছাতে পারি না। আমরা যখন যাচ্ছি তারা হয়তো তখন মাছ ধরে এসে ঘুমিয়ে থাকেন অথবা কয়েক দিনের জন্য মাছ ধরতে চলে যান। যত গবেষণা বা খবর প্রকাশ পায়, সেখানে স্বভাবতই তাদের সংযোগ থাকে না। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দিয়েই আমরা মৎস্য ক্ষেত্রকে দেখার চেষ্টা করি। এই জায়গায় পরিবর্তন আনা জরুরি।

 

শান্তা সোহেলী ময়না
জেলেদের জীবন ও বাস্তবতা নিয়ে সংবাদ উপস্থাপনায় আরও গভীরতা, প্রেক্ষাপট ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আর কোনো ফলোআপ থাকে না। ফলে প্রকৃত ঘটনার পূর্ণ চিত্র জানা যায় না। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জেলেদের জীবনযাত্রা ও চ্যালেঞ্জ এক নয়। হাওর, কুড়িগ্রামের ভাঙনপ্রবণ অঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল কিংবা সুন্দরবন; প্রতিটি অঞ্চলের জেলেদের সমস্যা ও বাস্তবতা ভিন্ন। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে এসব বিষয় অনেক সময় সরলীকরণভাবে উপস্থাপন করা হয়। এতে পাঠক বা সাধারণ মানুষ সঠিক পার্থক্যটি বুঝতে পারেন না। 
আবার মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের গ্রেপ্তার বা শাস্তির খবর প্রকাশ হলে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই সেটিকে সমর্থন করেন। কিন্তু কেন জেলেরা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে মাছ ধরছেন–সেই প্রেক্ষাপট আলোচনায় আসে না। কৃষকদের প্রতি যে সহানুভূতি সমাজে দেখা যায়; জেলেদের ক্ষেত্রে তা অনেক সময় অনুপস্থিত। জনমত গঠনে গণমাধ্যমের বড় ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যম যদি প্রেক্ষাপটসহ বাস্তবতা তুলে ধরে তাহলে জেলেদের জীবন ও সমস্যার প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আরও মানবিক ও সচেতন হবে।

ফরহাদ মাহমুদ
মাছের প্রজাতির দিক থেকে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ। এখন সেই বৈচিত্র্য অনেক কমে গেছে। এই অবক্ষয়ের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত সংকটসহ নানা কারণ নিহিত। তাই আমাদের মনোযোগ শুধু ইলিশে সীমাবদ্ধ না রেখে সামগ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে দেওয়া জরুরি। হাওর বা অনেক উন্মুক্ত জলাশয়েও জেলেরা যেতে পারেন না। জেলেদের প্রথম অধিকার মাছ। তারা প্রথম বঞ্চিত হন দাদনদারের হাতে। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। মাছ না থাকলে জেলে থাকবে না।
ইলিশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজনীয় হলেও বাস্তব প্রয়োগে অনেক ত্রুটি আছে। প্রকৃত জেলেরা অনেক সময় বঞ্চিত হন। অন্য পেশার লোকও জেলে পরিচয়ে সুবিধা পেয়ে যান। আবার দাদন ব্যবস্থার কারণে জেলেরা স্বাধীনভাবে মাছ বিক্রি করতে পারেন না। বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট মহাজনের কাছেই কম দামে মাছ দিতে হয়। মাছের মোট উৎপাদনের বড় অংশ এখন চাষের উৎস থেকে আসে। সেখানে জেলেদের সম্পৃক্ততা খুবই কম। এখানে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জেলেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বঞ্চনার গল্প তুলে ধরতে হবে। তাই প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আমাদের দৃষ্টি আরও বিস্তৃত করতে হবে।

শাহনাজ মুন্নী
সাংবাদিকতা জীবনে আমি দেখেছি, আমাদের অনেক প্রতিবেদক জেলেদের সঙ্গে থেকে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। অনেক সময় এই প্রতিবেদনে অ্যাডভেঞ্চারের দিকটি বেশি উঠে আসে। অথচ জেলেদের অধিকার আদায়ের দিকটা সেভাবে আসেনি।  সঠিক সাংবাদিকতা করতে হলে আরও সংবেদনশীল হওয়া দরকার। তবে গণমাধ্যমে সাধারণত দর্শক বা পাঠকের প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবেই রিপোর্টিং হয়। ফলে অধিকার, ন্যায্যতা বা মৎস্যজীবীদের দৈনন্দিন বাস্তবতা অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। এখানে আরও কাজ করার সুযোগ আছে। মৎস্যজীবীদের উচিত নিজস্ব সংগঠন গড়ে তোলা। 

 

উদিসা ইসলাম
আমি দীর্ঘ ২২ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে এই প্রথম মৎস্যজীবীদের নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছি। আমরা মাছ খাই। কিন্তু যারা নদী বা সাগর থেকে সেই মাছ ধরেন, সেই জেলেদের উপস্থিতি আমাদের দৃশ্যমানতায় আসে না। ফলে তাদের অধিকার, জীবন-সংগ্রাম বা বাস্তবতা নিয়েও গণমাধ্যমে খুব বেশি আলোচনা হয় না। এই জায়গা থেকে গণমাধ্যমকে সক্রিয় করতে হলে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে। নব্বইয়ের দশকে যেমন নারী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল–এনজিও, কর্মী ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করেছিল। তেমনি মৎস্যজীবীদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা দরকার।
শুধু গণমাধ্যমকে দোষারোপ করলে হবে না। মাঠে যারা কাজ করেন, তাদেরও তথ্য ও গল্প তুলে ধরতে হবে, যেন সাংবাদিকরা তা প্রকাশে আগ্রহী হন। পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি। শুধু ফোরাম তৈরি বা ফেলোশিপ দিলেই হবে না। মানুষের গল্প, জীবনের গভীরতা তুলে ধরতে হবে। 

সারফুদ্দিন আহমেদ
মৎস্য খাত নিয়ে যেসব আলোচনা হয়, উদ্যোগ নেওয়া হয়; সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জেলেদের প্রতিনিধিত্ব থাকে না। দেশের প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে মাছ থেকে। প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ এই খাতের সঙ্গে জড়িত। জিডিপির ৩.৫ শতাংশ আসে এখান থেকে। এই সংখ্যার ভিড়ে মানুষগুলো হারিয়ে যান। জেলেরা যেন শুধু একটি অর্থনৈতিক উপাদান; মানুষ নন। অধিকার কেউ দেয় না; অধিকার আদায় করতে হয়। জেলেরা প্রান্তিক, বিচ্ছিন্ন। তারা শহরে এসে আন্দোলন করতে পারেন না; রাস্তায় নেমে চাপ তৈরি করতে পারেন না। কারণ তাদের প্রতিদিন নদীতে যেতে হয় বেঁচে থাকার জন্য, পরিবারের জন্য। তাই তাদের কণ্ঠস্বর অশ্রুতই থেকে যায়।

এই বাস্তবতায় আমরা অনেক সময় তাদের জন্য সহানুভূতি দেখাই, কিন্তু অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা ভাবি না। ফলে তারা নিজেরাও অধিকারবোধ হারিয়ে ফেলছেন। টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার জন্য শুধু মাছ নয়, মানুষকে গুরুত্ব দিতে হবে। অধিকার, অংশগ্রহণ ও মর্যাদা–এই তিনটি নিশ্চিত না হলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না। এখানে সাংবাদিকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। অনুসন্ধানী ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে। 

এফ এম আনোয়ার হোসেন
মৎস্যজীবীদের অধিকার নিয়ে যখন প্রতিবেদন করা হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা ঢাকা বা বড় শহরের পাঠকের কাছে প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরে না। রিপোর্টগুলো মাছের উৎপাদন নিয়ে, নাকি নদী বা জমি দখল নিয়ে–তা স্পষ্ট হয় না। অনেক সময় সরকারি বরাদ্দ বা ইজারার ক্ষেত্রে মৎস্যজীবীদের দাবিগুলো অন্য স্বার্থে ব্যবহার করা হয়। সাংবাদিকদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তারা যেন মৎস্যজীবীদের অধিকারকে জনগণের স্বার্থের প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেন। সরকারি বরাদ্দ ও স্থানীয় দুর্নীতিকে ফলাও করে প্রচার হোক, যাতে ন্যায্যতা নিশ্চিত হয়। এ ছাড়া স্থানীয় রিপোর্টের ক্ষুদ্র তথ্যগুলো জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত হোক, যাতে মানুষের জীবন ও অধিকার আরও দৃশ্যমান হয় এবং বিষয়টি গভীরভাবে উঠে আসে।

 

মো. এমদাদুল হক হাওলাদার
মৎস্যজীবী এবং মৎস্য সম্পদ সম্পর্কে আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগে ব্যক্তিগতভাবে গত এক বছরে অনেক লিখেছি। যখন আমি রিপোর্টিং করতাম, তখন সারাদেশে বিশেষ করে সুনামগঞ্জ থেকে শুরু করে কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকায় ঘুরেছি। বানিয়াচং, শাল্লা, দিরাই, কাকাইল ইউনিয়নগুলোতে দুই দিন নৌকায় ঘুরে জেলেদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের জীবন, দৈনন্দিন সংগ্রাম এবং সমস্যা খুব কাছ থেকে দেখেছি। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে রিপোর্ট করেছি।
উত্তরবঙ্গের নওগাঁ, মান্দা এবং পৌষার কিছু জলমহালে একইভাবে কাজ করেছি। আমার বাড়ি সুন্দরবনের কাছে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ অঞ্চলে। এখানে জেলেদের দুর্দশা ও জীবন-সংগ্রামের সাক্ষী হয়েছি। সম্পাদকীয় নীতি সবসময় রিপোর্টিংয়ের সঙ্গে  মেলে না। রিপোর্টিংয়ের সময় যেসব গল্প সামনে আসে, সম্পাদকীয় নীতি অনেক সময় তা ধরে রাখতে পারে না। প্রকৃত জেলেদের জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে থাকা এবং তাদের কষ্ট-সংগ্রামের কাহিনি তুলে ধরা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে। 

সাবিদিন ইব্রাহিম
 আগে খাল-বিল, নদী বা কৃষিজমিতে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যেত, এখন তা অনেক কম। আমরা এখন মূলত চাষের মাছের ওপর নির্ভরশীল। এর বড় কারণ, পোনা সংরক্ষণে ব্যর্থতা। পাশাপাশি কৃষিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার জলজ পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ বিষয়ও আলোচনায় আনা জরুরি। অন্যদিকে জেলেদের আর্থিক সংকট বড় সমস্যা। প্রায় সাড়ে ছয় লাখ জেলে ১০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উচ্চ সুদে দাদন নেয়। যার পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এটি প্রমাণ করে, তারা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুযোগ পাচ্ছে না। কৃষকদের মতো সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা জেলেদের জন্যও প্রয়োজন। শুধু ২৫ কেজি চাল দিয়ে তাদের জীবিকা চলবে না। তাই একটি সমন্বিত সহায়তা ব্যবস্থা, যেমন ইউনিফায়েড কার্ড চালু করে জেলেদের অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

 

ফাহমিদা আক্তার
সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা সাধারণত ঢাকাকেন্দ্রিক। রাজধানীকে মূল ফোকাস করে খবর প্রকাশ করা হয়। ঢাকার বাইরের কোনো ঘটনা পত্রপত্রিকা বা টেলিভিশনে তেমন জায়গা করে নিতে পারে না। ঘটনা যদি যথেষ্ট বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবেই তা ঢাকা বা জাতীয় মিডিয়ায় উঠে আসে।
গণমাধ্যমে ঢাকার বাইরে যারা কাজ করেন, বিশেষ করে স্থানীয় প্রতিনিধিরা; অধিকাংশ ক্ষেত্রে গুরুত্বের সঙ্গে খবর উপস্থাপন করতে না পারায় তা স্বভাবতই গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ কিংবা প্রচার হয় না। এ কারণেই মৎস্যজীবীদের জীবন-সংগ্রাম গণমাধ্যমে কম উঠে আসে। এ দিকটায় নজর দেওয়া প্রয়োজন। 
সরকারি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। 

 

মেসবাহ য়াযাদ
যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকেন বা তাদের ছত্রছায়ায় থাকা নেতাকর্মীরা প্রায়ই নদী-খাল দখল করেন। ফলে স্থানীয় পেশাজীবীদের মাছ আহরণের সুযোগ সংকুচিত হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত মাছ না থাকায় জেলেরা চাইলেও মাছ ধরতে পারেন না। ফলে তাদের অন্য কাজ করতে হয়। অনেক সময় কাজ ছাড়াই থাকতে হয়। যখন সরকারি বিধিনিষেধ থাকে, তখন জেলেদের ওপর কড়া শাস্তি আর চাপ প্রয়োগ করা হয়। অথচ বাকি ১১ মাস তাদের বেঁচে থাকার জন্য সরকারের তরফ থেকে যে সাহায্য বা উদ্যোগ নেওয়া উচিত, তা প্রায়ই অনুপস্থিত। আমাদের উচিত এসব বিষয়কে আরও বেশি করে ফোকাস করা। শুধু আইন ভঙ্গের জন্য শাস্তি দেওয়া নয়। বরং বাকি সময়ের জন্য জেলেদের বেঁচে থাকার পথ তৈরি করা জরুরি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রক্ষমতাকে আরও সক্রিয় হওয়ার জন্য চাপ দিতে পারি।

 

এমিলিয়া খানম
দুঃখজনক হলেও সত্য, যেসব মানুষ আমাদের খাবার টেবিলে প্রোটিন বা মাছের জোগান দেন, সেই মৎস্যজীবীরাই সবচেয়ে অনিরাপদ ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম। সাধারণত গণমাধ্যমে উঠে আসে, কত টন মাছ উৎপাদন হলো, কত রাজস্ব এলো বা কত অভিযান হলো। অর্থাৎ খাতের অর্থনীতি আছে কিন্তু মানুষের গল্প অনুপস্থিত। তবে সম্পাদকীয় পাতায় মাঝে মাঝে মৎস্যজীবীদের কষ্টের কিছু চিত্র উঠে আসে। যেমন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় মৎস্যজীবীরা যে অসহায় হয়ে পড়েন, এই নিয়ে আমরা সম্পাদকীয় লিখি। সরকারের ভিজিএফসহ বিভিন্ন সহায়তা কতটা কম, সেই বিষয় সম্পাদকীয়তে তুলে ধরি। জলবায়ু পরিবর্তনে তাদের জীবিকা কতটা হুমকির মুখে পড়ে, তা নিয়ে উপসম্পাদকীয় ছাপা হয়। তবে স্বীকার করতেই হবে, সংখ্যায় তা অনেক কম। সুতরাং এ বিষয়ে কাজ করার অনেক জায়গা আছে। 

 

সানাউল হক দোলন
এমআরডির পক্ষ থেকে সম্প্রতি আমরা একটি জাতীয় দৈনিকে উপকূলীয় জলবায়ু ও পরিবেশ-সংক্রান্ত একটি সিরিজ করেছি। এই সিরিজে প্রায় ২০টি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। কক্সবাজার থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত সব উপকূলীয় জেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।  এতে জলবায়ু ও পরিবেশ-বিষয়ক প্রতিবেদনে ইলিশ ও অন্যান্য মাছ ধরার কার্যক্রম সম্পর্কিত অনেক কথা উঠে এসেছে। সাংবাদিকতার সময় মৎস্য খাতকে অর্থনীতি, কৃষি বা বাণিজ্যের মধ্যে কোথাও আলোকপাত করা হয়। তাতে জেলেদের অবদান প্রায়ই অস্বীকৃত থাকে। এ ছাড়া মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ৩৪টি সরকারি প্রকল্পে ১০ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। এসব প্রকল্পের কার্যকারিতা বা প্রভাব সাংবাদিকরা গুরুত্বের সঙ্গে কি ট্র্যাক করছেন?
স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে এই খবর বেশি আসে, কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। তাই সাংবাদিকতা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন স্থানীয় সংবাদগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং মৎস্য খাতের গুরুত্ব সঠিকভাবে প্রকাশ করা। এটি শুধু সাংবাদিকতার নয়; নীতি-নির্ধারণ, দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বি এম হান্নান
দেশে ইলিশসহ সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের মৎস্য সম্পদ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই সম্পদ টেকসইভাবে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মৎস্যজীবীদের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাদের অধিকার সুরক্ষাও সমানভাবে জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু তথ্য পরিবেশন নয়, বরং একটি অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা। অধিকারভিত্তিক গণমাধ্যমের ভূমিকার মূল লক্ষ্য হলো মৎস্যজীবীদের কেবল ‘উপকারভোগী’ হিসেবে নয়, বরং ‘অধিকারসম্পন্ন নাগরিক’ হিসেবে উপস্থাপন করা।  প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলে জেলেদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়ে সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে তারা পাচ্ছেন কিনা, অনুসন্ধান করে তুলে ধরা জরুরি। নীতিনির্ধারণে মৎস্যজীবীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় সিদ্ধান্তগুলো কেন্দ্র থেকে নেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে। টেকসই মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। গণমাধ্যম এখানে সেতুবন্ধের ভূমিকা পালন করতে পারে। 

মোতাসিম আলী
জেলে সম্প্রদায় বহু বছর ধরেই নিগৃহীত ও নির্যাতিত। সবাই তাদের ছোট, কম গুরুত্বের মানুষ হিসেবে দেখে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছেন। এখানে মাছ উৎপাদন আগের তুলনায় কমে গেছে। এর পেছনে পরিবেশ দূষণসহ নানা কারণ কাজ করছে। এর ফলে তাদের জীবিকার সমস্যা বেড়েছে। স্থানীয় পত্রিকা ও সাপ্তাহিক কিছু প্রকাশনায় এ ধরনের খবর থাকলেও নিয়মিত জরিপ বা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন খুব কমই হয়। এ ক্ষেত্রে মনোযোগী সাংবাদিকের অভাব রয়েছে। দুর্যোগ যেমন বন্যা বা অল্পকালের তীব্র ঝড়ের সময়ও এ ধরনের প্রতিবেদন খুব সীমিত মাত্রায় প্রকাশ পায়।

 

রিয়াদ ব্যাপারী
মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা নদীতে জেলেদের পাঠানো বন্ধ করে দিই। কিন্তু কিছু লোক আছে, যারা জেলেদের প্রলোভন দিয়ে নদীতে পাঠায়।  অনেক ক্ষেত্রে পুলিশকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে মাছ ধরতে যায়। আবার নদীতে গেলে ওই পুলিশই তাদের ধরে নিয়ে যায়। গ্রেপ্তার জেলেদের পরিবারের সদস্যরা দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আবার আমাদের কাছে আসেন। আমরা জেলেদের নদীতে পাঠাতে হয়তো একটা নৌকার পেছনে এক-দুই লাখ টাকা খরচ করেছি; বন্দি জেলেদের পরিবারকেও আবার দিতে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে টেকসই সমাধান দরকার। 

 

জেসমিন আক্তার
আমাদের অনেক কষ্টের জীবন। আমরা আমাদের অধিকারটুকুও পাই না। নৌকায় বসবাস করি বলে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে সবাই ঘৃণা করত, দূরে ঠেলে দিত। হাসপাতালেও চিকিৎসা পেতাম না। আমরা অবৈধভাবে মাছ ধরি না। এর পরও মাছ ধরতে গেলে পুলিশ আমাদের মারে। তাদের টাকা দিলে মাছ ধরতে দেয়। নইলে দেয় না। বৈঠা বেয়ে নদীর মাঝখানে যেতে অনেক কষ্ট হয়। নৌকার তেল কেনার টাকা থাকে না। কোনো পরিবারের পুরুষ মানুষকে ধরে নিয়ে গেলে সেই সংসার কত কষ্টে চলে, সেটা বলে বোঝানো যাবে না। 
ভিজিএফে কেবল চাল দেয়। ২৫ কেজি দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় কম দেওয়া হয়। চালের মানও ভালো না। এর সঙ্গে তেল, ডাল, লবণও লাগে। সকালে রান্না করলে দুপুরের মধ্যেই সে ভাত নষ্ট হয়ে যায়। অধিকার পেতে আমাদের সাহায্য করুন। আমাদের পাশে দাঁড়ান।

 

শাহেদ মুহাম্মদ আলী
জেলে সম্প্রদায়ের সমস্যাগুলো আরও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কীভাবে তুলে ধরা যায়, এই আলোচনায় তার কিছু দিকনির্দেশনা পাওয়া গেল। আমরা এ তথ্যও জানলাম, মাছ ধরাসংক্রান্ত যেসব খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় তার ৬৮ শতাংশ আইন প্রয়োগকেন্দ্রিক। এতে ইলিশ রক্ষার আইন বলবৎ হলেও ঢালাওভাবে জেলেদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আবার গণমাধ্যমে গরিব জেলেরা যে সরকারি সাহায্য ঠিকমতো পান না, যথাসময়ে পান না; সে তথ্যও আসে। 

ফলে এ আলোচনা থেকে চাওয়া হলো–জেলেদের নিয়ে করা সংবাদ যেন সুষম হয়। এ-সংক্রান্ত খবরে সংবেদনশীলতার জায়গায় সমকাল আরও গুরুত্ব দেবে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে অগ্রগতি সাধন সম্ভব। 

পাশাপাশি জেলেদের নিয়ে প্রকাশিত খবরগুলো মনিটর করে এর প্রবণতা সম্পর্কে আমাদের নিয়মিত জানালে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব এবং তা আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে। এতে গণমাধ্যম কেবল তথ্যই পরিবেশন করবে না, পরিবর্তনেরও অংশ হতে পারবে।

শেখ রোকন
ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি ও জেলেদের অধিকারের প্রশ্নটি ব্যক্তিগতভাবে আমার জীবনঘনিষ্ঠ ইস্যু। কারণ নদী বিষয়ে আমার প্রথম গবেষণা এর ওপরেই করেছিলাম। সেই ২০০৪ সালে এ কর্মসূচির পাইলটিং হয়েছিল চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চরভৈরবি পর্যন্ত। সমকালের সম্পাদকীয় নীতি হলো সব ধরনের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা। যেমন ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মৎস্যজীবীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না–সে ব্যাপারে আমরা অনেকবার সম্পাদকীয় অবস্থান ব্যক্ত করেছি। এ ব্যাপারে কেউ অভিমত লিখলে আমরা গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছি। তবুও আরও সংবেদনশীলতা ও মনোযোগ নিশ্চয়ই প্রয়োজন। এ আলোচনা যেমন আমাদের, তেমনই অংশগ্রহণকারী অন্যান্য সংবাদমাধ্যমকেও নতুন চিন্তাভাবনা ও উপলব্ধির খোরাক জোগাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

 

 

সুপারিশ

জেলেবান্ধব নীতি প্রণয়ন। জেলেদের নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং মানবিক ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা।
মৎস্য ব্যবস্থাপনায় জেলেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে জেলেদের জন্য কার্যকরী সংগঠন গড়ে তোলা।
সংবাদ, প্রেস কনফারেন্স ও মানববন্ধনের মাধ্যমে জেলেদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা।
জেলেদের জীবন ও সমস্যা নিয়মিত গণমাধ্যমে প্রচার।
প্রকৃত জেলেদের জন্য স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভিজিএফ, খাদ্যসহায়তা ও প্রণোদনা নিশ্চিত করা
নদী-খাল দখল রোধ, মাছের প্রজনন ও জলজ পরিবেশ সংরক্ষণ করা।
মাছের প্রজনন মৌসুমে জেলেদের আয়ের ক্ষতি ও শাস্তি থেকে মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
নীতিনির্ধারণে জেলেদের অভিজ্ঞতা ও প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা।
নারী ও প্রান্তিক পরিবারকে সমানভাবে নীতি ও সহায়তায় অন্তর্ভুক্ত করা।
পরিবেশবান্ধব ও সম্প্রদায়ভিত্তিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত করা।
 

আলোচক

লোটন একরাম
সম্পাদক, ডিবিসি টেলিভিশন

আসিফ রশীদ
উপসম্পাদক, যুগান্তর

মোখলেসুর রহমান চৌধুরী
সিনিয়র ম্যানেজার (প্রোগ্রাম), সিএনআরএস

শান্তা সোহেলী ময়না
প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, অক্সফাম ইন বাংলাদেশ

ফরহাদ মাহমুদ
সম্পাদকীয় বিভাগের প্রধান, কালের কণ্ঠ

শাহনাজ মুন্নী
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

উদিসা ইসলাম
নির্বাহী সম্পাদক, বাংলা ট্রিবিউন

সারফুদ্দিন আহমেদ
সহকারী সম্পাদক
সম্পাদকীয় বিভাগ, প্রথম আলো

এফ এম আনোয়ার হোসেন
প্রেসিডেন্ট, রিভারাইন পিপল

মো. এমদাদুল হক হাওলাদার
জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক, টাইমস অব বাংলাদেশ

সাবিদিন ইব্রাহিম
জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক, বণিক বার্তা

ফাহমিদা আক্তার
ইনপুট এডিটর, চ্যানেল আই

মেসবাহ য়াযাদ
ন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ, এখন টেলিভিশন

এমিলিয়া খানম
সহকারী সম্পাদক, দৈনিক আমাদের সময়

সানাউল হক দোলন
ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ম্যানেজার, এমআইডিআই

বি এম হান্নান
সাবেক সভাপতি, চাঁদপুর প্রেস ক্লাব

মোতাসিম আলী
আবাসিক সম্পাদক, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর

রিয়াদ ব্যাপারী
জেলে, চাঁদপুর

জেসমিন আক্তার
জেলেনি, চাঁদপুর

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন

এনামুল মাজিদ খান
প্রোগ্রাম ম্যানেজার, অক্সফাম ইন এশিয়া

সভাপতি 

শাহেদ মুহাম্মদ আলী
সম্পাদক, সমকাল

সঞ্চালনা

শেখ রোকন
সহযোগী সম্পাদক, সমকাল

সমন্বয়

হাসান জাকির 
হেড অব ইভেন্টস, সমকাল

আরও পড়ুন

×