ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

২৪ আলিম শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বেতন আত্মসাতের অভিযোগ

২৪ আলিম শিক্ষার্থীর  পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা
×

 নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের আলিম পরীক্ষার মাত্র এক দিন আগে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ২৪ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হুমায়ুনুর রহমান লেখনের অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বেতন-ফি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে জমা না দেওয়ার কারণে এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আলিম বিভাগের অনুমোদন না থাকায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানটির ৪৪ শিক্ষার্থী ওসমানীনগর উপজেলার হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অধীনে পাঠদান কার্যক্রমে যুক্ত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা বেতন ও ফি আদায় করলেও তা সংশ্লিষ্ট কামিল মাদ্রাসায় জমা দেননি অধ্যক্ষ। পরবর্তী সময়ে কামিল মাদ্রাসার পাওনা পরিশোধ ছাড়াই ৪৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জনকে সৈয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসায় স্থানান্তর করা হয়। তবে পূর্বের প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় এখন তাদের আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ৬ এপ্রিল হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠান। সেখানে বলা হয়, পাওনা পরিশোধ না করে পরীক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করায় শিক্ষা কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও অধ্যক্ষ বকেয়া অর্থ পরিশোধ করেননি। ফলে পরীক্ষা শুরুর মাত্র দুই দিন আগে ২৪ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিষ্ঠানের ভুলের কারণে আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে বসেছে। পরীক্ষা দিতে না পারলে জীবনটাই অনিশ্চিত হয়ে যাবে।
গভর্নিং বডির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন কার্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আল আমিন বলেন, ‘বকেয়া বিল আদায়ের জন্য অফিস সহকারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’ 
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হুমায়ুনুর রহমান লেখন বেতন ও ফি নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আজকালের মধ্যেই হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, ‘পরীক্ষার্থীরা যাতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, প্রতিষ্ঠান-প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ২৪ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা বোর্ড ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, কোনো প্রশাসনিক বা আর্থিক অনিয়মের দায় শিক্ষার্থীদের ওপর বর্তানো উচিত নয়।
 

আরও পড়ুন

×