রাজনীতি
আওয়ামী লীগ কি বিএনপিকে ভয় পাচ্ছে?
×
মহিউদ্দিন খান মোহন
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কি বিরোধী দল বিএনপিকে ভয় পাচ্ছে? রংপুর ও বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ ও খুলনার পরিস্থিতিরই পুনরাবৃত্তি অন্তত সে ইঙ্গিতই করে। বাস মালিকরা ধর্মঘট ডেকেছে সমাবেশের দিনগুলো ঘিরেই। এর নেপথ্যে অবধারিতভাবেই রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের কারসাজি। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির সমাবেশগুলোকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছিল তারা। কিন্তু কাজে প্রমাণ করছে- ভেতরে ভেতরে ভয় পেয়েছে।
জ্ঞানীজন বলে থাকেন, শত্রু বা প্রতিপক্ষকে কখনও ছোট করে দেখতে নেই। বরং প্রতিপক্ষের শক্তিকে আমলে নিয়ে তাকে মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ কিংবা খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশে লোকসমাগম নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও সরকারের মন্ত্রীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য দেখে মনে হয়, তাঁরা এসব আপ্ত বাক্য জানেন না বা জানলেও মানেন না। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা তাঁদের কাছে শুনছি- বিএনপির ডাকে জনগণ সাড়া দেয়নি; বিএনপিকে মোকাবিলায় যুবলীগই যথেষ্ট ইত্যাদি বক্তব্য।
এসব যদি রাজনীতির 'কথার কথা' বলেও ধরে নিই, তারপরও প্রশ্ন আসে- কেন এ ধরনের তুচ্ছতাচ্ছিল্য? বিএনপির ডাকে জনগণ যদি সাড়া না দেয়, তাতে আওয়ামী লীগ নেতাদের তো দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং স্বস্তি বোধ করার কথা। আর বিএনপিকে মোকাবিলায় 'যুবলীগই যথেষ্ট'- এমন মন্তব্য গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার সঙ্গে কতটা সংগতিপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাও অসংগত নয়।
একটি রাজনৈতিক দলকে আরেকটি রাজনৈতিক দল অবশ্যই মোকাবিলা করবে। তবে সে মোকাবিলা হতে হবে রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচিভিত্তিক। দলগুলো রাজপথে মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে নিজ নিজ সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের জানান দিয়ে থাকে। বিএনপিও দিচ্ছে। আশা করা যায়, আওয়ামী লীগও দেবে। তবে তা হতে হবে শান্তিপূর্ণ। সে মোকাবিলা জনগণও প্রত্যাশা করে। কিন্তু বিএনপিকে যুবলীগ মোকাবিলা করতে যাবে কেন? তাহলে কি তারা বিএনপিকে রাজপথে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? আমরা কিন্তু সে আশঙ্কা করছি।
দীর্ঘদিন রাজপথে অনুপস্থিত থাকার পর বিএনপি একটু নড়াচড়া শুরু করতেই আওয়ামী লীগ যেভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে চলেছে, তাতে সে আশঙ্কাকে অমূলক বলি কীভাবে? চট্টগ্রামের পর বিএনপির ময়মনসিংহ ও খুলনা সমাবেশ ঘিরে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়ার উপায় নেই। ময়মনসিংহের সমাবেশের আগের দিন কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই ওই বিভাগে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যতই বলা হোক- ক্ষমতাসীন দল এসবের সঙ্গে জড়িত নয়; তা কারও কাছে বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না। কেননা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে জড়িত। সুতরাং কেন ময়মনসিংহ-খুলনায় গণপরিবহন বন্ধ করা হয়েছিল, তা দিনের আলোর মতোই পরিস্কার।
খুলনার সমাবেশের আগে তাঁরা চেয়েছিলেন আরও এক কাঠি সরেস চাল। সেখানে দুই দিন আগে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের মিটিংয়ে মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ, যত্রতত্র বিআরটিসির কাউন্টার বন্ধ ইত্যাদি দাবিতে ২১ ও ২২ অক্টোবর পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হলো। এমন স্থূল চালাকিও যে মানুষ করতে পারে, তা ছিল ধারণার বাইরে। কেন, ওই সমস্যাগুলো কি নতুন? ওইসব দাবি আদায়ের জন্য ধর্মঘট ডাকার 'উপযুক্ত' সময় হলো বিএনপির গণসমাবেশের তারিখেই!
গত ২০ অক্টোবর সমকালের প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল- 'বিরোধী দলকে আটকাতে জনগণকে জিম্মি'। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- 'বিরোধী দলের কর্মসূচিতে জনসমাগম ঠেকাতে গণপরিবহন বন্ধের রাজনীতির মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগের সমাবেশ ঠেকাতে মালিকদের নিয়ে গণপরিবহন বন্ধ করত বিএনপি। অঘোষিত হরতালের এই কৌশল এখন বিএনপির বিরুদ্ধে প্রয়োগ করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এতে সমাবেশে জনসমাগম যতটা কমে, তার বহুগুণ ভোগান্তি হয় সাধারণ মানুষের।'
সমকালের প্রতিবেদনে উল্লিখিত মন্তব্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। কেননা, অতীতেও দেখা গেছে, সরকারের নানা রকম ফন্দিফিকির সত্ত্বেও বিরোধী দলের সমাবেশে জনসমাগম কম হয়নি। এখনও সে রকমই হচ্ছে। নানা রকম বাধাবিঘ্ন সত্ত্বেও বিএনপির তিনটি গণসমাবেশে আগত নেতাকর্মীর সংখ্যাই সে কথা বলে দেয়।
সমকালে খুলনার সমাবেশের খবরের শিরোনাম ছিল- 'বাধার পাহাড় ঠেলে খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশ'। শিরোনামই বলে দেয় খবরের সারমর্ম। প্রকৃতই খুলনায় একটি সফল সমাবেশ করতে বিএনপিকে বাধা-বিঘ্নের হিমালয়কে অতিক্রম করতে হয়েছে। অবশ্য সমাবেশগুলোতে সাধারণ মানুষ যোগ দিচ্ছে কিনা, তা নিয়ে মতদ্বৈধতা থাকলেও বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিয়ে কারও দ্বিমত আছে বলে মনে হয় না।
অনেকের মতে, ক্ষমতাসীন দলের বাধার কারণেই বিএনপির সমাবেশগুলোতে জনসমাগম বেড়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ 'নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের সহজাত আকর্ষণ।' অতীতেও আমরা দেখেছি, বিরোধী দলের কর্মসূচিতে সরকার বা ক্ষমতাসীন দল যত বেশি বাধা দিয়েছে, তত বেশি লোক তাতে অংশ নিয়েছে। বিএনপির বাধা যেমন আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশে জনসমাগম ঠেকাতে পারেনি; তেমনি আওয়ামী লীগেরও 'কৌশলী বাধা' বিএনপি নেতাকর্মীকে থামিয়ে রাখতে পারছে না।
পোড় খাওয়া দুটি রাজনৈতিক দল আমাদের দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে; সন্দেহ নেই। একাধিকবার সরকারে ও বিরোধী দলে থেকে তারা নিশ্চয় বিপুল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। সেই সঙ্গে তাদের এ উপলব্ধিও নিশ্চয় হয়েছে- কারও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের ফল ভালো হয় না।
শুধু আজ নয়, অতীতেও দেখা গেছে, সরকার সব সময় সন্ত্রস্ত থাকে বিরোধী দলের মিছিল-সমাবেশ নিয়ে। মুখে তারা অবশ্য বলে, 'জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে।' কিন্তু বিরোধী দল মাঠে নামলেই তারা নানারকম নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। রাজনীতি দিয়ে নয়; শক্তি দিয়ে বিরোধী দলকে দমনের এক অপরিণামদর্শী প্রবণতায় তারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তারা ভুলে যায়- আজ যিনি পুত্রবধূ, আগামীকাল তিনি শাশুড়ি। কিংবা আজ যিনি বৃদ্ধা শাশুড়ি, গতকাল তিনি ছিলেন পুত্রবধূ।
রাজনীতির খেলায় দৈহিক শক্তি নয়; মস্তিস্কপ্রসূত কৌশলই অভীষ্টে পৌঁছার প্রধান নিয়ামক। কথাটি আমাদের রাজনীতিকরা সম্যক উপলব্ধি করতে পারলেই মঙ্গল। রংপুর ও বরিশাল সমাবেশের আগে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে এই বোধোদয় ঘটলে আরও ভালো।
মহিউদ্দিন খান মোহন: সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্নেষক
জ্ঞানীজন বলে থাকেন, শত্রু বা প্রতিপক্ষকে কখনও ছোট করে দেখতে নেই। বরং প্রতিপক্ষের শক্তিকে আমলে নিয়ে তাকে মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ কিংবা খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশে লোকসমাগম নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও সরকারের মন্ত্রীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য দেখে মনে হয়, তাঁরা এসব আপ্ত বাক্য জানেন না বা জানলেও মানেন না। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা তাঁদের কাছে শুনছি- বিএনপির ডাকে জনগণ সাড়া দেয়নি; বিএনপিকে মোকাবিলায় যুবলীগই যথেষ্ট ইত্যাদি বক্তব্য।
এসব যদি রাজনীতির 'কথার কথা' বলেও ধরে নিই, তারপরও প্রশ্ন আসে- কেন এ ধরনের তুচ্ছতাচ্ছিল্য? বিএনপির ডাকে জনগণ যদি সাড়া না দেয়, তাতে আওয়ামী লীগ নেতাদের তো দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং স্বস্তি বোধ করার কথা। আর বিএনপিকে মোকাবিলায় 'যুবলীগই যথেষ্ট'- এমন মন্তব্য গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার সঙ্গে কতটা সংগতিপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাও অসংগত নয়।
একটি রাজনৈতিক দলকে আরেকটি রাজনৈতিক দল অবশ্যই মোকাবিলা করবে। তবে সে মোকাবিলা হতে হবে রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচিভিত্তিক। দলগুলো রাজপথে মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে নিজ নিজ সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের জানান দিয়ে থাকে। বিএনপিও দিচ্ছে। আশা করা যায়, আওয়ামী লীগও দেবে। তবে তা হতে হবে শান্তিপূর্ণ। সে মোকাবিলা জনগণও প্রত্যাশা করে। কিন্তু বিএনপিকে যুবলীগ মোকাবিলা করতে যাবে কেন? তাহলে কি তারা বিএনপিকে রাজপথে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? আমরা কিন্তু সে আশঙ্কা করছি।
দীর্ঘদিন রাজপথে অনুপস্থিত থাকার পর বিএনপি একটু নড়াচড়া শুরু করতেই আওয়ামী লীগ যেভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে চলেছে, তাতে সে আশঙ্কাকে অমূলক বলি কীভাবে? চট্টগ্রামের পর বিএনপির ময়মনসিংহ ও খুলনা সমাবেশ ঘিরে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়ার উপায় নেই। ময়মনসিংহের সমাবেশের আগের দিন কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই ওই বিভাগে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যতই বলা হোক- ক্ষমতাসীন দল এসবের সঙ্গে জড়িত নয়; তা কারও কাছে বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না। কেননা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে জড়িত। সুতরাং কেন ময়মনসিংহ-খুলনায় গণপরিবহন বন্ধ করা হয়েছিল, তা দিনের আলোর মতোই পরিস্কার।
খুলনার সমাবেশের আগে তাঁরা চেয়েছিলেন আরও এক কাঠি সরেস চাল। সেখানে দুই দিন আগে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের মিটিংয়ে মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ, যত্রতত্র বিআরটিসির কাউন্টার বন্ধ ইত্যাদি দাবিতে ২১ ও ২২ অক্টোবর পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হলো। এমন স্থূল চালাকিও যে মানুষ করতে পারে, তা ছিল ধারণার বাইরে। কেন, ওই সমস্যাগুলো কি নতুন? ওইসব দাবি আদায়ের জন্য ধর্মঘট ডাকার 'উপযুক্ত' সময় হলো বিএনপির গণসমাবেশের তারিখেই!
গত ২০ অক্টোবর সমকালের প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল- 'বিরোধী দলকে আটকাতে জনগণকে জিম্মি'। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- 'বিরোধী দলের কর্মসূচিতে জনসমাগম ঠেকাতে গণপরিবহন বন্ধের রাজনীতির মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগের সমাবেশ ঠেকাতে মালিকদের নিয়ে গণপরিবহন বন্ধ করত বিএনপি। অঘোষিত হরতালের এই কৌশল এখন বিএনপির বিরুদ্ধে প্রয়োগ করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এতে সমাবেশে জনসমাগম যতটা কমে, তার বহুগুণ ভোগান্তি হয় সাধারণ মানুষের।'
সমকালের প্রতিবেদনে উল্লিখিত মন্তব্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। কেননা, অতীতেও দেখা গেছে, সরকারের নানা রকম ফন্দিফিকির সত্ত্বেও বিরোধী দলের সমাবেশে জনসমাগম কম হয়নি। এখনও সে রকমই হচ্ছে। নানা রকম বাধাবিঘ্ন সত্ত্বেও বিএনপির তিনটি গণসমাবেশে আগত নেতাকর্মীর সংখ্যাই সে কথা বলে দেয়।
সমকালে খুলনার সমাবেশের খবরের শিরোনাম ছিল- 'বাধার পাহাড় ঠেলে খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশ'। শিরোনামই বলে দেয় খবরের সারমর্ম। প্রকৃতই খুলনায় একটি সফল সমাবেশ করতে বিএনপিকে বাধা-বিঘ্নের হিমালয়কে অতিক্রম করতে হয়েছে। অবশ্য সমাবেশগুলোতে সাধারণ মানুষ যোগ দিচ্ছে কিনা, তা নিয়ে মতদ্বৈধতা থাকলেও বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিয়ে কারও দ্বিমত আছে বলে মনে হয় না।
অনেকের মতে, ক্ষমতাসীন দলের বাধার কারণেই বিএনপির সমাবেশগুলোতে জনসমাগম বেড়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ 'নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের সহজাত আকর্ষণ।' অতীতেও আমরা দেখেছি, বিরোধী দলের কর্মসূচিতে সরকার বা ক্ষমতাসীন দল যত বেশি বাধা দিয়েছে, তত বেশি লোক তাতে অংশ নিয়েছে। বিএনপির বাধা যেমন আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশে জনসমাগম ঠেকাতে পারেনি; তেমনি আওয়ামী লীগেরও 'কৌশলী বাধা' বিএনপি নেতাকর্মীকে থামিয়ে রাখতে পারছে না।
পোড় খাওয়া দুটি রাজনৈতিক দল আমাদের দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে; সন্দেহ নেই। একাধিকবার সরকারে ও বিরোধী দলে থেকে তারা নিশ্চয় বিপুল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। সেই সঙ্গে তাদের এ উপলব্ধিও নিশ্চয় হয়েছে- কারও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের ফল ভালো হয় না।
শুধু আজ নয়, অতীতেও দেখা গেছে, সরকার সব সময় সন্ত্রস্ত থাকে বিরোধী দলের মিছিল-সমাবেশ নিয়ে। মুখে তারা অবশ্য বলে, 'জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে।' কিন্তু বিরোধী দল মাঠে নামলেই তারা নানারকম নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। রাজনীতি দিয়ে নয়; শক্তি দিয়ে বিরোধী দলকে দমনের এক অপরিণামদর্শী প্রবণতায় তারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তারা ভুলে যায়- আজ যিনি পুত্রবধূ, আগামীকাল তিনি শাশুড়ি। কিংবা আজ যিনি বৃদ্ধা শাশুড়ি, গতকাল তিনি ছিলেন পুত্রবধূ।
রাজনীতির খেলায় দৈহিক শক্তি নয়; মস্তিস্কপ্রসূত কৌশলই অভীষ্টে পৌঁছার প্রধান নিয়ামক। কথাটি আমাদের রাজনীতিকরা সম্যক উপলব্ধি করতে পারলেই মঙ্গল। রংপুর ও বরিশাল সমাবেশের আগে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে এই বোধোদয় ঘটলে আরও ভালো।
মহিউদ্দিন খান মোহন: সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্নেষক
- বিষয় :
- রাজনীতি
- মহিউদ্দিন খান মোহন
