চারদিক
পঞ্চগড়ের চা শিল্প
আব্দুল হাই রঞ্জু
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০
সমতল ভূমিতে চায়ের বাগান গড়ে উঠবে কিংবা চাষাবাদ করা যাবে, এটা এক সময় ছিল কল্পনার বাইরে। এখন তা রীতিমতো বাস্তব। গত ২০০০ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ডের উদ্যোগে দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা পঞ্চগড়ে চায়ের চাষ শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে মাত্র কয়েক হেক্টর জমিতে চায়ের চাষ শুরু হলেও ২০০৬ সালে এসে তা দাঁড়ায় প্রায় ৪০০ হেক্টরে। এখন ১৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে চায়ের আবাদ হচ্ছে। একমাত্র চা শিল্পের বদৌলতে পঞ্চগড় জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ব্যাপকতা লাভ করেছে। সরকারিভাবেও প্রণোদনা, সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। আশা করা যায়, আগামী দিনে পঞ্চগড়ের চায়ের বাগান আরও সম্প্রসারিত হবে; বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের দ্বার প্রসারিত হবে।
তথ্যমতে, ২০১৯ সালে ৯৫ লাখ ৯৯ হাজার কেজি, ২০২০ সালে ১ কোটি ৩ লাখ ও ২০২১ সালে ১ কোটি ৫২ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। এই হিসাবে দেখা যায়, উত্তরোত্তর চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পঞ্চগড়ের চা এখন দেশীয় চাহিদা পূরণ করছে; বিদেশে রপ্তানি করেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। পঞ্চগড়ের চা শিল্প অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর সেরা চা উৎপাদিত হচ্ছে এখানে। বাংলাদেশে একমাত্র প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ১০০ ভাগ অর্গানিক চা উৎপাদন করছে কাজী অ্যান্ড কাজী টি। এই কোম্পানির চা বাগান পুরোটাই কম্পোজিট টি এস্টেট। এই অর্গানিক চা বিক্রি হচ্ছে লন্ডনের হ্যারোড অকশন মার্কেটসহ দুবাই, জাপান ও আমেরিকায়।
দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চগড়ের চা চাষিরা চা পাতার উপযুক্ত মূল্য দাবি করে আসছেন। সরকার ২০২২ সালে পঞ্চগড় চা শিল্পের উন্নয়নে নিলাম কেন্দ্র চালু করার অনুমোদন দেয়। যার ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী পঞ্চগড়ে চা নিলাম কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। এই নিলাম কেন্দ্রের উদ্বোধন ঘিরে পঞ্চগড়জুড়ে ছিল আনন্দের আমেজ। চা নিলাম কেন্দ্রের উদ্বোধন করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেটে নিলাম কেন্দ্র চালু করতে শত বছর সময় লাগলেও পঞ্চগড়ে মাত্র ২৩ বছরের মধ্যে সরকার চা নিলাম কেন্দ্র চালু করল। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এখন পঞ্চগড়ের চা চাষিরা পাতার উপযুক্ত মূল্য পাবেন। ফলে চা শিল্পের সমূহ সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েকটি ব্রোকার ও ওয়্যারহাউস। এরই মধ্যে ১০টি ব্রোকার হাউসের মধ্যে ৫টিকে এবং ৮টি ওয়্যারহাউসের মধ্যে দুটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনলাইন অ্যাপস তৈরিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
আমরা আশা করি, সমতলের চা শিল্প হিসেবে পঞ্চগড় উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি অর্জন করবে। আর চা শিল্পের সমৃদ্ধি অর্জন করতে হলে চা পাতার উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। পঞ্চগড়ে তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র উদ্বোধন হওয়ায় এ সম্ভাবনা আরও গতি পাবে বলে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের বিশ্বাস। আব্দুল হাই রঞ্জু: সাবেক ছাত্রনেতা
- বিষয় :
- চারদিক
- পঞ্চগড়ের চা শিল্প
- আব্দুল হাই রঞ্জু