ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল

অভিযোগের সুষ্ঠু সমাধান চাই

অভিযোগের সুষ্ঠু সমাধান চাই
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের পক্ষ হইতে জুন-জুলাই মাসে অস্বাভাবিক বিলপ্রাপ্তির যে অভিযোগ উঠিয়াছে, তাহা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত আমলে লওয়া উচিত বলিয়া আমরা মনে করি। গত ২২ জুলাই বুধবার প্রকাশিত সমকালের শীর্ষ প্রতিবেদন অনুসারে, রাজধানী ঢাকা তো বটেই; নারায়ণগঞ্জ, সাভার, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম, হবিগঞ্জসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকা হইতে ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের এহেন অভিযোগ আসিয়াছে। 

ঢাকার আদাবরের এক বাসিন্দার অভিযোগ, তাঁহার বাসায় প্রতি মাসের বিদ্যুৎ বিল এতদিন গড়ে দেড় সহস্র টাকা থাকিলেও জুনে তাহা সাড়ে ১৪ সহস্র টাকায় গিয়া ঠেকিয়াছে। নিকেতনের এক বাসিন্দার বিল মে মাসে ছিল প্রায় সাত সহস্র টাকা; জুন মাসে যাহা ৪৮ সহস্র টাকা অতিক্রম করে।

রাজধানীর বাহিরের চিত্রও এমনই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকের নিয়মিত বিল দেড় সহস্র টাকা হইলেও জুনে আসিয়াছে প্রায় চার সহস্র টাকা। বিদ্যুতের এহেন অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ ইতোপূর্বেও আমরা দেখিয়াছি। কিন্তু দুঃখজনক, গ্রাহকের ভোগান্তির সমাপ্তি হয় নাই। সমস্যাটি এমন সময়ে ঘটিতেছে যখন গত তিন বৎসর যাবৎ নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে উঠিয়াছে; অন্যদিকে বিশেষত মধ্যবিত্তের প্রকৃত আয় এক কপর্দকও বাড়ে নাই। অনেকে চাকরি হারাইয়াছেন, অনেকের চাকুরিস্থলে সুযোগ-সুবিধা কর্তিত হইয়াছে। উপরন্তু গত কয়েক মাসব্যাপী বিদ্যুতের লোডশেডিং প্রায় সর্বত্র তীব্র হইয়া উঠিয়াছে। একে তো নিরবিচ্ছন্ন সেবা হইতে গ্রাহকরা বঞ্চিত, তদুপরি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাইতে পারে, যাহা সামাজিক, এমনকি রাজনৈতিক অস্থিরতায়ও ইন্ধন দিতে পারে।

অভিযোগ রহিয়াছে, পোস্টপেইড মিটার রিডিংয় নিয়মিত হয় না। মিটার রিডাররা অনেকাংশে মনগড়া বিল লিখিয়া দেন। তবে জুনে অস্বাভাবিক বিল আসিবার ক্ষেত্রে বলা হইতেছে, অর্থবৎসরের শেষে কয়েক মাসের ইউনিট যোগ হইয়া উচ্চ স্ল্যাবে চলিয়া গিয়াছে, যাহা অবিশ্বাস্য। প্রতিবেদনে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ আসিয়াছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থবৎসরের শেষে রাজস্ব আয় অধিক দেখানো বা সিস্টেম লস কমাইয়া দেখাইবার প্রবণতাও অতিরিক্ত বিলের কারণ হইতে পারে। এই সকল অভিযোগ গুরুতর বলিয়া আমরা মনে করি। 

দেশের উল্লেখযোগ্য গ্রাহকের বিল লইয়া যেহেতু প্রশ্ন উঠিয়াছে, সেহেতু জুন-জুলাই মাসের বিল পুনর্বিবেচনা করিতে হইবে। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণও জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহককে ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট এবং নির্ধারিত কিছু চার্জ পরিশোধ করিতে হয় বটে, কিন্তু গ্রাহকরা জানেন না, তাহাদের কী কারণে কত টাকা কর্তন করা হইতেছে। অথচ বিদ্যুৎ খাতে সেবা সহজ ও আধুনিক করিবার লক্ষ্যেই দেশে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা চালু হইয়াছিল। প্রত্যাশা ছিল, ইহার মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার করিতে পারিবেন, বিল বকেয়ার ঝুঁকি হ্রাস এবং সেবার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাইবে। বাস্তবে দেখা যাইতেছে, প্রিপেইড মিটার রিচার্জ সংক্রান্ত বিবিধ জটিলতা ও কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্রাহক চরম ভোগান্তির শিকার।
গ্রাহকের অতিরিক্ত বিলের বিষয়টির সমাধান জরুরি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সমকালকে বলিয়াছেন, তাহারা সমস্যা সমাধানে প্রতিটি বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ সেল স্থাপন করিয়াছেন। আমরা ইহাকে সাধুবাদ জানাই, তবে অভিযোগ জানাইতে গিয়া গ্রাহক হেনস্তার শিকার হইলে তাহা বিরূপ ঘটনার জন্ম দিতে পারে। সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান না পাইলেও গ্রাহকদের ক্ষোভ বৃদ্ধি পাইতে পারে। সংক্ষুব্ধ সকল বিদ্যুৎ গ্রাহককে সন্তুষ্টকরণ, তৎসহিত আলোচ্য সংকটের কারণ বিদ্যুৎ বিভাগকে তদন্ত করিয়া উদ্ঘাটন এবং সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করিতে হইবে।
 

আরও পড়ুন

×