জন্মদিন
গণসংগীতের মাদল ও মন্দিরা
×
ফকির আলমগীর
সুরাইয়া আলমগীর
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১২:০০
পুরোনো পাতা ঝরে যায়। ঝরে যায় কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি। কালের রথ মহাকালের পথে এগিয়ে চলে। ফুটে ফুল, ডাকে পাখি। স্বপ্নের ফাগুন এসে কড়া নাড়ে দ্বারে। অনেক স্মৃতির ব্যথা নিয়ে আমরা ফকির আলমগীরকে স্মরণ করি। ভাষা আন্দোলনের মহান ২১ ফেব্রুয়ারি এই গণসংগীতশিল্পীর জন্মদিন। গত পাঁচ দশক ফকির আলমগীর সংগীতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য পদচারণা ও অনবদ্য পরিবেশনা দ্বারা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। সেই সঙ্গে কালের স্থবিরতা অতিক্রম করে হয়ে ওঠেন সমকালের আধুনিকতম শিল্পীও। দারিদ্র্য আর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মানচিত্রের যে কোনো প্রান্তেই হোক না কেন, এ শিল্পীর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের উচ্চারণ প্রস্ম্ফুটিত হয়েছে অতীব সজাগ প্রক্রিয়ায়। ফকির আলমগীর তার সংগীতজীবনের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় দেশপ্রেমের চেতনা এবং বোধকে মনন, মানস ও কর্মে ধারণ করে দেশ-জাতির মঙ্গল সাধনে নিরলস প্রচেষ্টার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।
তিনি '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বে এবং মহান মুক্তিসংগ্রামে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছেন। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কণ্ঠশিল্পীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য পদচারণা ও অনবদ্য পরিবেশনা আমাদের অনুপ্রাণিত করে যাবে সব সময়। মওলানা ভাসানী পদক, জসীম উদ্দীন স্বর্ণপদক, তর্কবাগীশ স্বর্ণপদক, সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অব অনার; ২০১৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার কর্তৃক সংগীতে মহাসম্মান পেয়েছেন ফকির আলমগীর। এত পুরস্কার ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় পাওয়া দেশে-বিদেশে মানুষের ভালোবাসা। গুণী এই শিল্পী খেটে খাওয়া মানুষের জন্য গান করেছেন। গান করেছেন দেশের জন্য। যেখানে অন্যায় দেখেছেন, সেখানে তিনি গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ করে গেছেন। প্রতিবাদ করেছেন লেখনীর মাধ্যমেও। নানা স্মৃতি ধরে রেখেছেন তার প্রকাশিত একাধিক গ্রন্থে। ফকির আলমগীর একজন শিল্পী, লেখক, সাংবাদিক, সংগঠক, সর্বোপরি একজন মুক্তিযোদ্ধা। একাধারে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা। তাকে নিয়ে দেশবাসীর সঙ্গে আমিও গর্ববোধ করি। বিশ্বের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে ছুটে গেছেন, গানের মালা হাতে, বাংলাদেশের পতাকা আর স্বাদেশিকতার চেতনাকে সমুন্নত করেছেন; একজন অলিখিত রাষ্ট্রদূত যেন ফকির আলমগীর। তিনি একজন সুবক্তা, একজন সফল লেখক। একজন গীতিকার, একজন সুরকার, একজন সফল সংগঠক ছিলেন। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন গণসংগীতের দল 'ঋষিজ' শিল্পীগোষ্ঠী। গণসংগীতের দল নিয়ে গঠিত গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ছিলেন তিনি।
সলিল চৌধুরী, হেমাঙ্গ বিশ্বাস, ভূপেন হাজারিকা, আবদুল লতিফ, শহীদ আলতাফ মাহমুদ, শেখ লুৎফর রহমান, নিজাম-উল হক, সাধন দাস, কামাল লোহানীর মতো ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে-সাহচর্যে তার এ জীবনকে করেছিল বর্ণিল আর কানায় কানায় পূর্ণ। একজন মানুষের এত গুণ কম মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। আমরা ধন্য, কাছ থেকে অনেক বছর অতিবাহিত করার সুযোগ ঘটেছে বলে। তিনি গভীরভাবে একাত্ম হতে চেয়েছেন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে; প্রান্তিক লাঞ্ছিত ও অবহেলিত মানুষের সঙ্গে। লোকায়ত সংস্কৃতি, সামাজিক দ্রোহ ফকির আলমগীরের সংগীতের মূল উপজীব্য উপাদান। তিনি যেসব গান লিখেছেন, পরিবেশন ও সুর দিয়েছেন, সেসব সংগীতে দেখা যায় তার প্রান্তজনপ্রীতির গভীর অঙ্গীকার। শত প্রতিকূলতায়, কত কিছু অগ্রাহ্য করে তাকে সামাল দিয়ে সংগ্রামে নিয়োজিত থাকতে হয়েছে। দেশের দুঃসময়ে ও সুসময়ে ফকির আলমগীরের গলার গান কখনও থেমে থাকেনি। দেশের সঙ্গে, মাটির সঙ্গে, দেশমাতৃকার সঙ্গে এই গণগায়ক এক ভালোবাসার অচ্ছেদ্য বন্ধনে জড়িয়ে থাকবেন সব সময়। দেশ যখন সংকটে তখন তার গলায় বেজে উঠেছে আশার গান। দেশ যখন আনন্দে, তখনও তার কণ্ঠ মানুষকে আন্দোলিত করেছে। গত বছরের ২৩ জুলাই মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে প্রকাশিত জীবনের শেষ বইটি পবিত্র হজব্রত নিয়ে লেখা 'ইহরাম থেকে আরাফাত'। ২০১৯ সালে হজ পালন করেন। তার অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপির মধ্য থেকে চারটি বই প্রকাশ হচ্ছে এই বইমেলায়।
ফকির আলমগীরের ৭১তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছিল গাজীপুর হোতাপাড়ার বৃদ্ধাশ্রমে। অসহায় বৃদ্ধদের মাঝে এক আনন্দের আবহ সৃষ্টি করেছিলেন। তার ইচ্ছে ছিল, এই ৭২তম জন্মদিন উদযাপিত হবে পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা ভাইদের নিয়ে- সে ইচ্ছা অপূর্ণ রেখে করোনার কাছে হার মেনে তিনি চলে গেছেন। জন্মদিন উপলক্ষে তাকে আমরা স্মরণ করছি।
সুরাইয়া আলমগীর: প্রয়াত ফকির আলমগীরে স্ত্রী ও সভাপতি, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী
তিনি '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বে এবং মহান মুক্তিসংগ্রামে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছেন। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কণ্ঠশিল্পীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য পদচারণা ও অনবদ্য পরিবেশনা আমাদের অনুপ্রাণিত করে যাবে সব সময়। মওলানা ভাসানী পদক, জসীম উদ্দীন স্বর্ণপদক, তর্কবাগীশ স্বর্ণপদক, সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অব অনার; ২০১৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার কর্তৃক সংগীতে মহাসম্মান পেয়েছেন ফকির আলমগীর। এত পুরস্কার ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় পাওয়া দেশে-বিদেশে মানুষের ভালোবাসা। গুণী এই শিল্পী খেটে খাওয়া মানুষের জন্য গান করেছেন। গান করেছেন দেশের জন্য। যেখানে অন্যায় দেখেছেন, সেখানে তিনি গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ করে গেছেন। প্রতিবাদ করেছেন লেখনীর মাধ্যমেও। নানা স্মৃতি ধরে রেখেছেন তার প্রকাশিত একাধিক গ্রন্থে। ফকির আলমগীর একজন শিল্পী, লেখক, সাংবাদিক, সংগঠক, সর্বোপরি একজন মুক্তিযোদ্ধা। একাধারে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা। তাকে নিয়ে দেশবাসীর সঙ্গে আমিও গর্ববোধ করি। বিশ্বের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে ছুটে গেছেন, গানের মালা হাতে, বাংলাদেশের পতাকা আর স্বাদেশিকতার চেতনাকে সমুন্নত করেছেন; একজন অলিখিত রাষ্ট্রদূত যেন ফকির আলমগীর। তিনি একজন সুবক্তা, একজন সফল লেখক। একজন গীতিকার, একজন সুরকার, একজন সফল সংগঠক ছিলেন। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন গণসংগীতের দল 'ঋষিজ' শিল্পীগোষ্ঠী। গণসংগীতের দল নিয়ে গঠিত গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ছিলেন তিনি।
সলিল চৌধুরী, হেমাঙ্গ বিশ্বাস, ভূপেন হাজারিকা, আবদুল লতিফ, শহীদ আলতাফ মাহমুদ, শেখ লুৎফর রহমান, নিজাম-উল হক, সাধন দাস, কামাল লোহানীর মতো ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে-সাহচর্যে তার এ জীবনকে করেছিল বর্ণিল আর কানায় কানায় পূর্ণ। একজন মানুষের এত গুণ কম মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। আমরা ধন্য, কাছ থেকে অনেক বছর অতিবাহিত করার সুযোগ ঘটেছে বলে। তিনি গভীরভাবে একাত্ম হতে চেয়েছেন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে; প্রান্তিক লাঞ্ছিত ও অবহেলিত মানুষের সঙ্গে। লোকায়ত সংস্কৃতি, সামাজিক দ্রোহ ফকির আলমগীরের সংগীতের মূল উপজীব্য উপাদান। তিনি যেসব গান লিখেছেন, পরিবেশন ও সুর দিয়েছেন, সেসব সংগীতে দেখা যায় তার প্রান্তজনপ্রীতির গভীর অঙ্গীকার। শত প্রতিকূলতায়, কত কিছু অগ্রাহ্য করে তাকে সামাল দিয়ে সংগ্রামে নিয়োজিত থাকতে হয়েছে। দেশের দুঃসময়ে ও সুসময়ে ফকির আলমগীরের গলার গান কখনও থেমে থাকেনি। দেশের সঙ্গে, মাটির সঙ্গে, দেশমাতৃকার সঙ্গে এই গণগায়ক এক ভালোবাসার অচ্ছেদ্য বন্ধনে জড়িয়ে থাকবেন সব সময়। দেশ যখন সংকটে তখন তার গলায় বেজে উঠেছে আশার গান। দেশ যখন আনন্দে, তখনও তার কণ্ঠ মানুষকে আন্দোলিত করেছে। গত বছরের ২৩ জুলাই মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে প্রকাশিত জীবনের শেষ বইটি পবিত্র হজব্রত নিয়ে লেখা 'ইহরাম থেকে আরাফাত'। ২০১৯ সালে হজ পালন করেন। তার অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপির মধ্য থেকে চারটি বই প্রকাশ হচ্ছে এই বইমেলায়।
ফকির আলমগীরের ৭১তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছিল গাজীপুর হোতাপাড়ার বৃদ্ধাশ্রমে। অসহায় বৃদ্ধদের মাঝে এক আনন্দের আবহ সৃষ্টি করেছিলেন। তার ইচ্ছে ছিল, এই ৭২তম জন্মদিন উদযাপিত হবে পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা ভাইদের নিয়ে- সে ইচ্ছা অপূর্ণ রেখে করোনার কাছে হার মেনে তিনি চলে গেছেন। জন্মদিন উপলক্ষে তাকে আমরা স্মরণ করছি।
সুরাইয়া আলমগীর: প্রয়াত ফকির আলমগীরে স্ত্রী ও সভাপতি, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী
- বিষয় :
- জন্মদিন
- সুরাইয়া আলমগীর
- ফকির আলমগীর
