ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

৩২,৫০০ প্রধান শিক্ষকসহ এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার পদে নিয়োগের পরিকল্পনা

৩২,৫০০ প্রধান শিক্ষকসহ এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার পদে নিয়োগের পরিকল্পনা
×

ফাইল ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৪৬ | আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৪৪

দেশে এক লাখের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক এবং বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক ও প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আপিল বিভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মামলায় সরকারের আপিল গ্রহণ করেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরও প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক ও প্রভাষক নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭৮ হাজার শূন্যপদে নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের আবেদন গ্রহণের পরিবর্তে সরাসরি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক, প্রভাষক ও ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর নিয়োগের সুপারিশ করা হবে।

এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অতীতে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনের নামে শিক্ষার্থীদের অযথা বিঘ্নিত করার প্রবণতা ছিল। তবে এখন সে সংস্কৃতিতে পরিবর্তন এসেছে। এবারও পরীক্ষা শুরুর দিন তিনি নিজে এবং সংশ্লিষ্টরা কেন্দ্র পরিদর্শনে না গিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে ঝরে পড়ার হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় না। তার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ শিক্ষায় প্রায় ৩৩ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। এ পরিস্থিতিকে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে শিক্ষা খাতে নেওয়া ঋণ ও অনুদানের একটি অংশ সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা খাতে কোনো ধরনের অপচয় বা অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না এবং প্রতিটি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে চলতি অর্থবছরে জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়ের তুলনায় বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া মনে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগসংক্রান্ত মামলাগুলোর নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ২০১৭ সালে দায়ের করা প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মামলার রায় পেতে এত বছর অপেক্ষা করতে হওয়াকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×