ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রথম অনারারি ফেলোশিপ পেলেন পিটার সিঙ্গার

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রথম অনারারি ফেলোশিপ পেলেন পিটার সিঙ্গার
×
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:০৫

নৈতিকতা, পরোপকার ও প্রাণী অধিকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় অস্ট্রেলীয় দার্শনিক প্রফেসর পিটার সিঙ্গারকে অনারারি ফেলোশিপ দিয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন তামারা হাসান আবেদ ও উপাচার্য প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার। এটি বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম অনারারি ফেলোশিপ।

ব্র্যাক ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পিটার সিঙ্গারকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত অনারারি ফেলোশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে তাঁর নৈতিক দর্শন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অবদানের কথা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে সম্মাননাপত্র পাঠ করেন উপাচার্য প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার। তিনি বলেন, স্যার ফজলে হাসান আবেদের ভাবনার সঙ্গে পিটার সিঙ্গারের কাজের মিল রয়েছে। এই সম্মাননা শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জন এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরিতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

পিটার সিঙ্গারের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রবন্ধ ‘ফেমিন, অ্যাফ্লুয়েন্স অ্যান্ড মোরালিটি’, ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত বই ‘অ্যানিমেল লিবারেশন’ এবং ‘দ্য লাইফ ইউ ক্যান সেভ’ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা। তিনি এই উদ্যোগের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার লেখা বইয়ের সংখ্যা ৫০টির বেশি।

অনুষ্ঠানে তামারা হাসান আবেদ বলেন, আপনার কাজ আমাদের মনে একটি সহজ প্রশ্ন তুলে ধরে। সেটি হলো, অন্যকে সাহায্য করার সামর্থ্য থাকলে আমাদের কী করা উচিত? এই প্রশ্নটি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জন্যও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার মাধ্যমে পাওয়া সুযোগগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে ভাবেন। একই সঙ্গে নিজেদের কাজের মাধ্যমে অন্য মানুষের উপকার করার বিষয়টিও তাঁদের বিবেচনায় রাখা উচিত।

পিটার সিঙ্গারের ৮০তম জন্মবার্ষিকীর বছরে তাকে স্বাগত জানিয়ে তামারা হাসান আবেদ বলেন, আপনাকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আমাদেরই একজন হিসেবে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি।

সম্মাননা গ্রহণ করে পিটার সিঙ্গার বলেন, স্যার ফজলে হাসান আবেদের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ স্বীকৃতি পাওয়া আমার কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সত্য ও জ্ঞানের অনুসন্ধান, স্বাধীনভাবে চিন্তা করা, প্রশ্ন তোলা এবং নিজের মত প্রকাশের সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফেলোশিপ প্রদান অনুষ্ঠানের আগে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন পিটার সিঙ্গার। আলোচনায় আসিফ সালেহ ১৯৭১ সালের নভেম্বরের কথা তুলে ধরেন। সে সময় অক্সফোর্ডে তরুণ দার্শনিক হিসেবে কর্মরত সিঙ্গার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং লাখ লাখ শরণার্থীর ভারতে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন।

আসিফ সালেহ বলেন, ওই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় সিঙ্গার ‘ফেমিন, অ্যাফ্লুয়েন্স অ্যান্ড মোরালিটি’ প্রবন্ধটি লেখেন। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত এই প্রবন্ধের মধ্য দিয়ে ধনী দেশগুলোর মানুষের দরিদ্র মানুষের প্রতি দায়িত্ব নিয়ে তাঁর পাঁচ দশকের কাজের সূচনা হয়।

প্রফেসর সিঙ্গার বলেন, এই আন্দোলনের লক্ষ্য হলো মানুষ যেন অন্যের উপকার করাকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এবং সেই কাজ কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিও দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

পিটার সিঙ্গার জানান, ইতিহাসবিদ রুটগার ব্রেগম্যান প্রতিষ্ঠিত নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংগঠন স্কুল অফ মোরাল এমবিশন এর সঙ্গে যৌথভাবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতেও বর্তমানে সংগঠনটির একটি কার্যালয় রয়েছে। স্কুল অফ মোরাল এমবিশন এমন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়, যারা নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও কাজের লক্ষ্য নতুনভাবে নির্ধারণ করতে চান।

দুই বছর আগে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেওয়ার কথা জানিয়ে পিটার সিঙ্গার বলেন, এখন তিনি লেখালেখিতে কম সময় দিয়ে যেসব কাজে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা সম্ভব, সেগুলোতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল, ব্র্যাক ইউনভার্সিটির বোর্ড অফ ট্রাস্ট্রিজের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ব্র্যাক ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি পরিবারের সদসবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন

×