এনওসির জন্য আগের চেয়ে ১০ গুণ টাকা নেবে এফডিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ০৩:৪৫
ঢাকাই ছবির দুর্দিন চলছে। ভালো ভালো সিনেমাও ব্যবসা এনে দিতে পারছেনা। এই পরিস্থিতিতে কম সিনেমায় যথাসম্ভব খরচ কমানোর প্রচেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে প্রযোজক সমিতি,শিল্পী সমিতি ও পরিচালক সমিতির মধ্যে দফায় দফায় মিটিংও হয়েছে একাধিকবার। সিনেমার শিল্পীদের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন নীতিমালাও।
এই সময়ে জানা গেলো বিএফডিসির শুটিংয়ের কারিগরি যন্ত্রপাতি ও স্থাপনার ভাড়ার হার কমানোর বদলে বাড়ানো হয়েছে আরও। শুধু তাই নয় কোন প্রযোজক যদি এফডিসির যন্ত্রপাতি ও স্থাপনার ভাড়া না নিয়ে বাইরে থেকে ছবি নির্মাণ করে তাহলে তাকে ছবির প্রত্যায়নপত্র (এনওসি) নিতে এফডিসিকে এক লাখ টাকা দিতে হবে। যা আগে দশ হাজার টাকা ছিলো বলে জানিছেন একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাতা। এতো টাকা বাড়ানোর জন্য যে নির্মাতারা এফডিসির বাইরে সিনেমা নির্মাণ করেন তাদের মধ্য দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। তারা জানান, যেখানে এফডিসির একটাকাও খরচ করা হয়না সেখানে এনওসির জন্য এতো টাকা বাড়ানো চলচ্চিত্রের জন্য সত্যিই হুমকি।
এদিকে খোজ নিয়ে জানা গেছ ভাড়া বেড়েছে শুটিংয়ের কারিগরি যন্ত্রপাতি ও স্থাপনার ভাড়ার পরিমানও। বিশেষ করে প্রশাসনিক ভবনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রুম ও কনফারেন্স রুমের শুটিং ভাড়া ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। ভিআইপি প্রজেকশন হলের ভাড়া ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়েছে। একই হলে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ব্যতীত চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অন্য সব অনুষ্ঠান করতে গেলে ২১ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হবে।
ডিটিএস ভবনের হলরুমে বিএফডিসিতে নির্মিত সিনেমা প্রদর্শনীর জন্য ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। এফডিসির বাইরে নির্মিত চলচ্চিত্রের জন্য ১৫ হাজার ৭৫০ টাকা করা হয়েছে। কালার ল্যাবে শুটিং ভাড়া ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। দেশের মধ্যে এফডিসির সব ধরনের ক্যামেরা ভাড়া অল্প কিছু বাড়লেও শুটিং করতে দেশের বাইরে নিতে রেড ড্রাগনের ভাড়া ১ হাজার ৩০০ থেকে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা, সনি ১১ হাজার থেকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা, রেড স্কারলেটের ভাড়া ৯ হাজার থেকে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। মেকআপ রুমের ভাড়া ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা হয়েছে। সেন্সর বোর্ডে ছবি জমা দিতে বিএফডিসির অনাপত্তিপত্র লাগে। বিএফডিসির বাইরে শুটিংকৃত ছবির জন্য অনাপত্তিপত্র বাবদ ১০ হাজার টাকার পরিবর্তে নতুন তালিকায় ১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রযোজক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম সমকালকে বলেন, ‘ বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি আমরা। আমাদের সমিতি থেকে সিনেমার খরচ কমানোর জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা করা হচ্ছে। তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছিলাম এফডিসির সবকিছুতেই ভাড়ার হার অর্ধেক কমানোর জন্য। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখছি কমানো তো দূরের কথা, আগে যে ভাড়ার হার ছিল তা থেকে সবকিছুতেই কমবেশি বেড়েছে।
পরিচালক সমিতরি সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজারও এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি আমরা দেখছি। কম খরচে কমানোর জন্য আমরা বার বার বলছি। দেখা যাক কি হয়। আর যদি ভাড়া কমানো না হয়ে তাহলে ধীরে ধীরে নির্মাতারাও এফডিসিতে ছবির শুটিং করা কমিয়ে দেবে। এটা এফডিসির জন্যই ক্ষতিকর।
এদিকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র বিভাগের উপসচিব নজরুল ইমলাম জানান, প্রযোজক সমিতির ভাড়া কমানোর আবেদনটি পুনর্বিবেচনা করতে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিএফডিসিতে পাঠানো হয়েছেন ।
