'আগে মিশা-জায়েদের পদত্যাগ, পরে সমঝোতা'
অনিন্দ্য মামুন
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২০ | ১১:২৬ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০২০ | ১২:০৮
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির থেকে মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে জায়েদ খান পদত্যাগ করলেই তাদের সঙ্গে সমঝোতায় বসবে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮টি সংগঠন। বুধবার এফডিসিতে চলচ্চিত্র পরিবারের আওতায় ১৮ টি সংগঠনের জরুরী এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বৈঠকে সংগঠনের নেতারা বলেন, মিশা-জায়েদের পদত্যাগের আগে সমঝোতা বা আলোচনা সুযোগ নেই। তাই পদত্যাগের পরই তাদের সঙ্গে আলোচনা বসা হবে। এইসব সিদ্ধান্ত চলচ্চিত্রের স্বার্থেই নেয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ জুলাই চলচ্চিত্র স্বার্তে চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট ১৮টি সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে মিশা সওদাগর ও জায়েদ খানকে বয়কটের ঘোষণা দেয়। কাজ করার আহ্বান জানান।
মূলত মিশা-জায়েদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা,ক্ষমতার অপব্যবহার করে যখন-তখন শিল্পীদের সদস্যপদ বাতিল করা, দুর্নীতি, চলচ্চিত্রের উন্নয়ননীতির বিরুদ্ধে শিল্পীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিসহ নানা অভিযোগ এনেই বয়কট ঘোষণা করেন।
এই বয়কটের প্রতিবাদে গত ১৯ জুলাই এফডিসির জহির রায়হান মিলনায়তনের প্রদর্শন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। সেখানে নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান করেন। পাশাপাশ জায়েদ মিশাকে বয়কটের সমালোচনাও করেন সেখানে।

বুধবার চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮ সংঘটনের জরুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক শামসুল আলম, পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, চলচ্চিত্র পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, সোহানুর রহমান সোহান, ফিল্ম ক্লাবের নেতা ওমর সানী, ১৮ দলের সমন্বয়ক বিপ্লব শরীফ প্রমুখ।
বৈঠক শেষে প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন‘ তারা বলছে তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোন অভিযোগ নেই। অথচ আমরা তাদের দুজনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ পেয়েছি, তার প্রমাণও হাতে পেয়েছি। এছাড়াও নতুন করে কিছু দুর্নীতির অভিযোগও এসেছে। ২০১৯ সালে চলচ্চিত্র দিবসে যে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান কাজ করেছিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে খরচ বাবদ তারা জায়েদ খানকে ছয় লাখ টাকা দিয়েছিল। বারবার চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও চলচ্চিত্র উদযাপন কমিটির আহ্বায়ককে সেই খরচের হিসাব দেননি জায়েদ খান। এ হিসাবের বাইরেও ঘুষ হিসেবে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আরও দুই লাখ টাকা নিয়েছেন।’
খসরুর এ কথার সূত্র ধরে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যে দুই লাখ টাকা ঘোষ বাবদ নিয়েছে তার প্রমাণ আছে কোন? কেউ বললো আমি দুই লাখ টাক ঘোষ নিয়েছি আর অমনি তা বিশ্বাস যোগ্য হবে না। আগে প্রমাণ দেখাতে বলেন এরপর এটা নিয়ে কথা বলবো। '
এছাড়াও জায়েদ খান প্রশ্ন রাখেন,‘ যারা আমাদের পদত্যাগের দাবী করছেন তারা কারা? তারা কেনো আমাদের পদত্যাগের দাবী করবে? আমরা কোন অন্যায় করলে একমাত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সংসদই পদত্যাগের দাবী করতে পারে। ’
দুই লাখ টাকা ঘুষ ও ছয় লাখ টাকার বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র দিবসের অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান রাউন্ড দ্য ক্লকের প্রধান সালমান মাহমুদের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র দিবসের পুরো আয়োজনের জন্য রাউন্ড দ্য ক্লক ৩২ লাখ টাকার কাজ করেছে। তার মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য জন্য জায়েদ খান ছয় লাখ টাকা নিয়েছেন। তবে যেভাবে করার কথা ছিলো সেভাবে তিনি করেননি। বলেছিলেন রিয়াজ-পূর্ণিমাকে দিয়ে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করাবেন। কিন্তু তা করাননি। বড় কোন শিল্পীও সেখানে পারফর্ম করেননি।’
তবে ঘুষ নেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। এ বিষয়ে বলেন, ‘সেটা ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটা আমার বলার বিষয় না।’
এদিকে যারা মিশা-জায়েদের পদত্যাগ চাইছেন তারা কারা? এ প্রশ্নের উত্তরের জন্য যোগাযোগ করা হয় প্রযোজক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮টি সংগঠনের লোক। যে সংগঠনগুলো ছাড়া চলচ্চিত্রের অস্তিত্ব থাকবেনা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বার্থে যারা যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমিও যদি চলচ্চিত্রের স্বার্থ বিরোধী কোন কার্যে লিপ্ত থাকি তারা আমাকেও বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেবে। কাজেই তারা কারা? এ প্রশ্ন করে জায়েদ তার সেচ্ছাচারিতারই প্রমাণ দিচ্ছে।