এ যেন সমাজে অপরাধ-সংঘাতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রানীর কঠিন বার্তা
‘মারদানি ৩’ এর পোস্টারে রানী মুখার্জি
সাইফান সানাফ
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৫:৫১
বলিউডে তারকাখ্যাতি আর জনপ্রিয়তার ভিড়ে কিছু চরিত্র সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলাদা হয়ে ওঠে; যা শুধু সিনেমার পর্দায় আটকে থাকে না, সমাজের কথোপকথনের অংশ হয়ে যায়। রানী মুখার্জি অভিনীত ইন্সপেক্টর শিবানী শিবাজি রায় ঠিক তেমনই এক চরিত্র।
‘মারদানি’ ফ্র্যাঞ্চাইজি শুধু একটি সফল অ্যাকশন থ্রিলার সিরিজ নয়; এটি নারীশক্তি এবং ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক অবস্থানের এক ধারাবাহিক গল্প। ২০১৪ সালে প্রদীপ সরকারের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া ‘মারদানি’ ছিল সেই সময়ের বলিউড প্রেক্ষাপটে এক সাহসী পদক্ষেপ। মানব পাচারের মতো ভয়াবহ বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত এ সিনেমা বিনোদনের গণ্ডি ছাড়িয়ে দর্শককে অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। সেখানে রানী ছিলেন না কোনো ‘সুপারহিরো পুলিশ’। তিনি ছিলেন একজন দায়িত্ববান অফিসার। বক্স অফিসে ছবিটির সাফল্য প্রমাণ করে, দর্শক বাস্তবধর্মী, শক্তিশালী নারী চরিত্র দেখার জন্য প্রস্তুত। সে ছবির সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা বেড়ে যায়।
২০১৯ সালে গোপী পুথরানের পরিচালনায় আসে ‘মারদানি ২’। এই পর্বে গল্প আরও অন্ধকার, আরও নিষ্ঠুর। এখানে শিবানীর লড়াই একজন সিরিয়াল অপরাধীর সঙ্গে; যার চিন্তাভাবনা সমাজের ভয়ংকর বিকৃত মানসিকতার প্রতিফলন। যদিও সিনেমাটি প্রথম পর্বের মতো বিস্তৃত প্রশংসা পায়নি; তবুও রানীর অভিনয় প্রশংসিত হয়। শিবানী তখন আর শুধু একজন পুলিশ অফিসার নন, তিনি সমাজের প্রতিটি নারীর নিরাপত্তা নিয়ে এক নীরব প্রশ্ন ছুড়ে দেন।
এই দুই ছবির মধ্য দিয়ে ‘মারদানি’ ফ্র্যাঞ্চাইজি একটি স্পষ্ট অবস্থান তৈরি করে। এটি গ্ল্যামারনির্ভর নয়, এটি অপরাধের বিরুদ্ধে নৈতিক লড়াইয়ের গল্প। সেই লড়াইয়ের মুখ হয়ে ওঠেন রানী। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আসছে সেই গল্পের তৃতীয় অধ্যায়। নাম ‘মারদানি ৩’। এবারের সিনেমাটি পরিচালনা করছেন অভিরাজ মিনাওয়ালা। গত বছর ঘোষণা করা হয়েছিল, সিনেমাটি আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাবে। দর্শকের আগ্রহ ও প্রত্যাশার মাত্রা এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে, নির্মাতারা মুক্তির তারিখ এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে ‘মারদানি ৩’। মুক্তির তারিখ ঘোষণার পর থেকেই সিনেমাটিকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা তুঙ্গে। কারণ, ‘মারদানি’ এখন আর কেবল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়। এটি রানীর অভিনয়জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়। নিজেও তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, শিবানী শিবাজি রায় তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কাছের চরিত্রগুলোর একটি। এই চরিত্রের মাধ্যমে তিনি সমাজকে বারবার একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন। তা হলো সাহস, সততা ও দৃঢ়তা থাকলে যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সম্ভব।
জানা গেছে, ‘মারদানি ৩’ সিনেমায় গল্পের পরিসর আরও বড় করা হয়েছে। এবার থাকবে আরও জটিল অপরাধচক্র, বহুমাত্রিক সংঘাত এবং আরও বাস্তবধর্মী পুলিশি তদন্ত। শুধু অপরাধ দমন নয়, তদন্ত প্রক্রিয়ার মানসিক চাপ, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সমাজব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও গুরুত্ব পাবে গল্পে। নারী নিরাপত্তা, সামাজিক ন্যায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার–এ বিষয়গুলোই কাহিনির কেন্দ্রে।
রানীর অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর সংযম। তিনি সংলাপ বা অতিরঞ্জিত আবেগে চরিত্রকে ভারী করেন না। শিবানী রায়ের চোখের দৃষ্টি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্তের নীরবতা, কিংবা হঠাৎ বিস্ফোরিত রাগ–এই সূক্ষ্ম মুহূর্তগুলোই চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। ‘মারদানি ৩’তেও সেই সংযত কিন্তু তীব্র অভিনয়ের ছাপ আরও গভীরভাবে দেখা যাবে বলেই প্রত্যাশা।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে রানী মুখার্জি বহু স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়েছেন। তবে শিবানী রায় এমন একটি চরিত্র, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। বাস্তবজীবনে যখন নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন–প্রতিবাদ ও আন্দোলন চলছে, তখন ‘মারদানি’ সিরিজ যেন সেই লড়াইয়ের এক চলচ্চিত্রিক প্রতিফলন। ‘মারদানি ৩’ তাই শুধু একটি সিনেমা নয়–এটি এক ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতার পুনর্নিশ্চয়তা।
- বিষয় :
- রানী মুখার্জি
- বিনোদন
- বলিউড
