ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নেগেটিভ, পজিটিভ– সব ধরনের চরিত্রেই কাজ করতে চাই: সোহেল মণ্ডল

নেগেটিভ, পজিটিভ– সব ধরনের চরিত্রেই কাজ করতে চাই: সোহেল মণ্ডল
×

সোহেল মণ্ডল। ছবি: রাফ

এমদাদুল হক মিল্টন

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৫০ | আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:২৫

সোহেল মণ্ডল। অভিনেতা। গত ঈদে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘রাক্ষস’। নতুন সিনেমা আর দর্শকের প্রতিক্রিয়া সব মিলিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত সময় পার করছেন তিনি। নতুন এ সিনেমা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তাঁর সঙ্গে

‘রাক্ষস’ ছবিতে আপনার কাজের জন্য কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

সত্যি বলতে সিনেমাটি নিয়ে অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি। সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকেই প্রশংসা করছেন। আমার চরিত্রটা আগে প্রকাশ করা হয়নি, তাই হলে গিয়ে দর্শক চমক পেয়েছে– এটা খুব উপভোগ করছি।

প্রধান চরিত্র না হয়েও আপনি কীভাবে আলাদা করে নজর কাড়েন?

আমি মনে করি, চরিত্র ছোট বা বড়, এটা আসল বিষয় নয়। আমি চেষ্টা করি চরিত্রটা যতটা সম্ভব সত্যি করে ফুটিয়ে তুলতে। পরিচালক যেমনটা চান, সেটার প্রতি সৎ থাকার চেষ্টা করি। আমার বিশ্বাস, আমি সৎ থাকলে দর্শক আমাকে গ্রহণ করবেই। আমার জন্য চরিত্রটি যারা নির্মাণ করছেন। যদি সিনেমার চরিত্রটি ভালোভাবে লেখা হয় তা দর্শকদের মনে দাগ কাটবেই বলে আমি মনে করি।

 সিনেমাটির জন্য আপনার প্রস্তুতি কেমন ছিল?

এই সিনেমার জন্য প্রস্তুতিটা একটু আলাদা ছিল। বিশেষ করে শারীরিক গঠন নিয়ে কাজ করেছি। চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিজের লুক পরিবর্তন করেছি। পরে কস্টিউম ও মেকআপ টিম মিলে পুরো বিষয়টা সম্পূর্ণ করেছে। গল্প শুনে প্রথমে চরিত্রটি বোঝার চেষ্টা করেছি। সাধারণত আমি প্রোটাগনিস্ট চরিত্রে অভিনয় করি। নতুন করে ভিলেন বা মন্দ চরিত্রে অভিনয় করলে দর্শক কীভাবে নেয়, এটা ভেবে একটু চিন্তিত ছিলাম। পরে গল্প ও নির্মাতার ভিশন শুনে মনে হলো এক্সপেরিমেন্ট করাই যায়। নির্মাতা চরিত্রটি ভালোই ডিল করেছেন। 

সিনেমাটি বড় পর্দায় দেখেছেন? অভিজ্ঞতা কেমন?

হ্যাঁ, একবার দেখেছি। পুরো টিম একসঙ্গে বসে ছবিটা দেখেছি, অনেক মজা হয়েছে। ডাবিংয়ের সময় তো নিজের অংশটুকুই দেখা যায়, তাই পুরো ছবিটা একসঙ্গে দেখা আলাদা অভিজ্ঞতা। সরাসরি দর্শক প্রতিক্রিয়া দেখে আমি অভিভূত। দর্শক আমাকে নতুনভাবে দেখছে, এটা দারুণ লাগছে। 

খল চরিত্রে আপনাকে আবারও দেখা গেল। ভবিষ্যতে কি এ ধরনের চরিত্র বেশি করবেন?

যে কোনো চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করতে ভালো লাগে। একই ছকে আটকে থাকতে চাই না। আমি চাই নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে উপস্থাপন করতে। নেগেটিভ, পজিটিভ– সব ধরনের চরিত্রেই কাজ করতে চাই, তবে সবসময় নতুনত্ব রাখতে চাই। ক্যারিয়ার গ্রাফ দেখলেই বুঝবেন, আমি নানা ধরনের সিনেমায় অভিনয় করেছি। নানা অবতারে দর্শকের কাছে হাজির হয়েছি। আমি যে চরিত্র বা গল্পে অভিনয় করব তা যদি আমাকে টানে তাহলে সেখানে অভিনয়ে আমার আপত্তি নেই। 

সামনে আপনার আর কী কাজ আসছে?

সামনের কোরবানি ঈদে আমার নতুন চমক ‘বনলতা সেন’। সিনেমাটি এখন সেন্সরে আছে। এটা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। সিনেমার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। এখানে অনেক তারকাশিল্পী অভিনয় করেছেন। জীবনানন্দ দাশের ওপর নির্মিত সিনেমা এটি। পর্দায় আমি জীবনানন্দ দাশ ও জীবনানন্দ দাশের জীবনকে আমি খুঁজিফিরি। এর বেশি কিছু আপাতত বলতে চাই না। যখন এ সিনেমাটির প্রচারণায় যাব, তখন আরও একটু বলা সম্ভব হবে। মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের নামের সঙ্গে যারা পরিচিত, তারা এ সিনেমাটির জন্য দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। আশা করি, দর্শক এটি পছন্দ করবেন। 

ঈদের অন্য কোনো ছবি দেখা হয়েছে?

এরই মধ্যে তামিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি দেখেছি। এ ধরনের সিনেমা হওয়া দরকার। অন্য তিনটি সিনেমা দেখার ইচ্ছা রয়েছে। ‘রাক্ষস’ সিনেমার প্রচারণা নিয়ে এখনও ব্যস্ত সময় কাটছে। তবে সময় করে সব ছবিই দেখার ইচ্ছা রয়েছে।

দর্শকদের জন্য আপনার বার্তা কী?

দর্শকদের ভালোবাসাই আমাদের কাজের প্রেরণা। তারা যেভাবে হলে গিয়ে সিনেমা দেখছেন, এটা খুবই ইতিবাচক দিক। দর্শক আমাকে নতুন নতুন চরিত্রে আবিষ্কার করুক। আমি চাই তারা এভাবেই পাশে থাকুক, আর আমিও চেষ্টা করব সবসময় ভালো কিছু উপহার দিতে।  

আরও পড়ুন

×