ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শাকিবের ‘রকস্টার’ আলোচনায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল রণবীরের ‘রকস্টার’

শাকিবের ‘রকস্টার’ আলোচনায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল রণবীরের ‘রকস্টার’
×

ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ১৮:৫৮ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ১৯:১৮

‘রকস্টার’ নামটি উচ্চারণ করলেই দর্শকের মনে ভেসে ওঠে ২০১১ সালের বলিউড সিনেমার দৃশ্যগুলো এবং রণবীর কাপুরের জর্ডান চরিত্র। আজও এই সিনেমা গুগল সার্চে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছবিগুলোর একটি হিসেবে সামনে আসে। এবার সেই ‘রকস্টার’ নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সিনেমা অঙ্গনেও। ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান একই নামে একটি নতুন সিনেমায় অভিনয় করছেন। এই খবর প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে আবারও ফিরে এসেছে রণবীর কাপুরের ‘রকস্টার’ নিয়ে আগ্রহ।

শাকিব খানের নতুন সিনেমার ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে বারবার উঠে আসছে বলিউডের ‘রকস্টার’ প্রসঙ্গ। যদিও নির্মাতা আজমান রুশো স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সিনেমা অন্য কোনো ‘রকস্টার’ থেকে অনুপ্রাণিত নয় বা কোনো কপি নয়, তবুও দর্শকের মনে তুলনা তৈরি হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ৫৪ সেকেন্ডের একটি অ্যানিমেটেড ভিডিওতে দেখা যায়-ঝুম বৃষ্টির মধ্যে একটি উঁচু ভবনের দেয়ালে ‘রকস্টার’ শাকিবের ছবি, রহস্যময় দুই চরিত্র এবং শেষে এক কনসার্টের দৃশ্য। সেখানে শোনা যায় আবেগঘন গান ও সংলাপ। ভিডিওর ক্যাপশনে শাকিব খান লেখেন-একটি গল্প, যা বদলে দেবে সবকিছু, খুব শিগগিরই আসছে।’

এবার শাকিব খানের রকস্টারের সূত্র ধরে রণবীর কাপুরের রকস্টারের বিষয়েও জেনে নেয়া যাক। 

রণবীর কাপুরের ক্যারিয়ার বদলে দেওয়া  সিনেমার গল্প

২০১১ সাল ছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রের জন্য এক ঘটনাবহুল বছর। সেই বছর একদিকে যেমন সিংঘাম দিয়ে রোহিত শেঠির পুলিশ ইউনিভার্স শুরু হয়, অন্যদিকে জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা- এর মাধ্যমে রোড-ট্রিপ ঘরানায় নতুন মাত্রা যোগ করেন জোয়া আখতার। পাশাপাশি দিল্লি বেলি, তানু ওয়েডস মানু  এবং নো ওয়ান কিল্ড জেসিকার  এর মতো সিনেমাগুলোর চমকপ্রদ সাফল্যও আসে।

কিন্তু বছরের শেষ দিকে মুক্তি পাওয়া রকস্টার বদলে দেয় বলিউডের এক নায়ককে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। এই সিনেমাই অনেকের মতে রণবীর কাপুরের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট, আর পরিচালক ইমতিয়াজ আলিকে প্রতিষ্ঠা করে তরুণ প্রজন্মের অন্যতম শক্তিশালী গল্পকার হিসেবে।

সাধারণ তরুণ থেকে ‘জর্ডান’ হয়ে ওঠা

‘রকস্টার’-এর গল্পে দেখা যায়, কলেজপড়ুয়া সাধারণ ছেলে জনার্দন জ্যাকসন ধীরে ধীরে রূপ নেয় বিদ্রোহী রকস্টার ‘জর্ডান’-এ। তার খ্যাতি, যন্ত্রণা, প্রেম এবং আত্মবিনাশ—সব মিলিয়ে সিনেমাটি দারুণ এক আবহ উপস্থাপন করে। এই ছবির মাধ্যমে রণবীর কাপুরের ইমেজ বদলে যায়। এর আগে আজব প্রেম কি গজব কাহানি ও রাজনীতি এর মতো ছবিতে সফলতা পেলেও, তার ক্যারিয়ারে সমানসংখ্যক ব্যর্থতাও ছিল। ‘রকস্টার’ তাকে নতুন পরিচয় দেয়- দারুণ একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে।

সংগীতই ছিল রকস্টাররে প্রাণ

সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল এর সংগীত। অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানের এর সুরে তৈরি গানগুলো আজও কালজয়ী—‘সাদা হক ’, ‘কুন ফায়া কুন ’, ‘তুম হো’, ‘নাদান পরিন্দে ’সহ প্রতিটি গান গল্পের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। গানগুলো দর্শক গ্রহণ করায় সিনেমাটিও তুমুলভাবে  আলোচনায় আসে। 

গীতিকার ইরশাদ কামিলের লেখা এবং মোহিত চৌহানের কণ্ঠের গানগুলো সিনেমার গল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। ‘রকস্টার’ ছিল বলিউড কিংবদন্তি শাম্মি কাপুর এর শেষ সিনেমাগুলোর একটি। তার উপস্থিতি সিনেমায় খ্যাতি ও একাকিত্বের দ্বন্দ্বকে আরও গভীর করে তোলে।

 সমালোচনার মুখেও পড়েছিল রকস্টার

সিনেমাটিকে ঘিরে কিছু সমালোচনাও রয়েছে। বিশেষ করে নারী চরিত্রগুলোর উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক সমালোচনাই ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে।
 

আরও পড়ুন

×