ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খল চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন মীর রাব্বি

খল চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন মীর রাব্বি
×

মীর রাব্বি

এমদাদুল হক মিলটন

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:৪২

মীর রাব্বি। অভিনেতা ও মডেল। অভিনয় ক্যারিয়ারে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এনটিভিতে প্রচার হচ্ছে তাঁর অভিনীত নতুন নাটক ‘চাওয়া পাওয়া’। এ ছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় আছে এ অভিনেতার সিনেমা ‘বকুলের বুকে রক্তকরবী’ ও ‘কুরকাব’। নতুন নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন।

‘চাওয়া পাওয়া’ নাটকটিতে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
রাকেশ বসুর ‘চাওয়া পাওয়া’ নাটকটির গল্প অসাধারণ। ম্যাচিউর গল্প বলার প্রবণতা তাঁর আছে। এ কারণে দর্শকের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগে, যখন দর্শক শুধু অভিনয় নয়, চরিত্র ও গল্প নিয়েও কথা বলেন। ‘চাওয়া পাওয়া’তেও তেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। আমি সবসময় চেষ্টা করি প্রতিটি কাজেই নতুন কিছু দেওয়ার। এখানে মম থেকে শুরু করে আফসানা মিমি, ডলি জহুর, ইন্তেখাব দিনারের মতো গুণী শিল্পীরা অভিনয় করছেন। তাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া এটি বড় বিষয়।

এখানে আপনি অভিনয় করেছেন একজন কবির চরিত্রে। বাস্তবে কি আপনি সাহিত্যপ্রেমী?
ছোটবেলা থেকে সাহিত্যের প্রতি আমার অনুরাগ বা ভালোবাসা আছে। খুব নিয়মিত পাঠক–এমন দাবি করব না, তবে ভালো লেখা পড়তে ভালো লাগে। কবি ও সাংবাদিকের চরিত্রটি করতে গিয়ে চরিত্রটির ভাবনা, অনুভূতি ও জীবনবোধ বোঝার চেষ্টা করেছি।

‘বকুলের বুকে রক্তকরবী’ সিনেমায় আপনাকে খল চরিত্রে দেখা যাবে। এ ধরনের চরিত্রে কাজ কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
প্রতিটি কাজ চ্যালেঞ্জিং। তবে এই সিনেমার গল্পটা একটু অন্য ধরনের। একটু ফ্যান্টাসি, থ্রিলার ঘরানার। সিনেমায় দর্শক আমাকে নেতিবাচক চরিত্রে দেখবেন। ফ্যান্টাসির মধ্যে খল চরিত্রে অভিনয় একটু কঠিন। এর আগে বিভিন্ন ধরনের চরিত্র করেছি, কিন্তু এই চরিত্র একেবারে আলাদা। চরিত্রটির লুকও এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা দর্শকের কাছে ভিন্ন অনুভূতি তৈরি করবে। শুটিংয়ের সময় নিজের লুক দেখে আমিও চরিত্রটির মধ্যে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। এখনই চরিত্রটি নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। টিজার বা ট্রেলার প্রকাশ হলে দর্শক অনেকটা বুঝতে পারবেন।

অভিনেত্রী ও মডেল প্রিয়ন্তী ঊর্বীর সঙ্গে আপনার জুটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ আছে। কেমন ছিল অভিজ্ঞতা?
প্রিয়ন্তীর সঙ্গে আগে নাটকে কাজ করেছি। আমাদের অভিনীত ‘বুক পকেটের গল্প’ দর্শকের ভালো লেগেছিল। চলচ্চিত্রে এর আগেও আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। ‘বকুলের বুকে রক্তকরবী’তে আমাদের সম্পর্ক ও চরিত্রের জায়গাটা আবার ভিন্ন। প্রিয়ন্তী খুব মনোযোগী ও পরিশ্রমী অভিনেত্রী। ডিসেম্বরে প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে শুটিং করেছি। এমনও হয়েছে কাজ করতে করতে সকাল হয়ে গেছে। দুই ঘণ্টা ঘুমিয়ে আবার শুটিং শুরু করেছি। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে।

‘কুরকাব’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমাটি নিয়ে আপনি কেমন আশাবাদী?
আমি খুব আশাবাদী। নূর ইমরান মিঠুর পরিচালনায় ‘কুরকাব’ একেবারে ভিন্ন একটি জগতের গল্প। আমার চরিত্রটিও আগের অনেক কাজের চেয়ে আলাদা। গল্প ও নির্মাণে নতুনত্ব আছে। আমার বিশ্বাস, দর্শক নতুন কিছু পাবেন। সিনেমাটি আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে মুক্তি পাবে। এবার দেশের দর্শক সিনেমাটি দেখবেন। এখানে আমি মোশাররফ করিম ভাইয়ের সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি। এটি আমার জন্য শিক্ষণীয় ছিল। 

ছোটপর্দার পাশাপাশি বড়পর্দায় কাজ করছেন। কোন কাজটিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
সব কাজই আমার কাছে টেনশনের লাগে। আমি মাধ্যম দিয়ে স্বচ্ছন্দ বিচার করি না। ভালো চরিত্র ও ভালো গল্প পেলেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। নাটক, ওয়েব সিরিজ কিংবা সিনেমা– প্রতিটি মাধ্যমের নিজস্ব চ্যালেঞ্জ আছে। অভিনয়ের জায়গা থেকে আমি সব মাধ্যমকেই সমান গুরুত্ব দিই। আমি যে কাজগুলো করছি সেগুলো স্বাধীন প্রজেক্ট। এটি এমন নয় যে খুব বড় বাজেটের সিনেমা। বড় সমারোহে মুক্তি পাবে। এ রকম কাজে আমার স্বচ্ছন্দ। 

বড় ক্যানভাসের সিনেমার কাজে কি আপনার অনাগ্রহ আছে?
বিষয়টি ঠিক সে রকম নয়। আমি বড় জায়গায় কাজ করতে এখনও প্রস্তুত নই। এ জন্য হয়তো আমাকে অনেক শিখতে হবে। পাড়ি দিতে হবে অনেক পথ। 

একটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করেন?
প্রথমে চিত্রনাট্য মনোযোগ দিয়ে পড়ি। চরিত্রটি কীভাবে চিন্তা করে, তার আচরণ কেমন, কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়–এসব বোঝার চেষ্টা করি। নির্মাতা ও লেখক চরিত্রটিকে কীভাবে দেখছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একটা কাজ থেকে আরেকটা কাজের মধ্যে আমি কিছুটা বিরতি রাখার চেষ্টা করি, যাতে আগের চরিত্রটি থেকে বের হয়ে নতুন চরিত্রে ঢুকতে পারি।

২০ বছরের মিডিয়া ক্যারিয়ারকে কীভাবে দেখেন?
আমি এটিকে শেখার যাত্রা হিসেবে দেখি। এই সময়ে অনেক কিছু পেয়েছি, অনেক বন্ধুকেও হারিয়েছি। শুরুতে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলেছি। মাঝে কিছুটা বিরতিও ছিল। তবে আড়াই বছর ধরে সিরিয়াসলি কাজ করছি। এত কম সময়ে দর্শক আমাকে তাদের কাছের করে নিয়েছে। অনেকে দীর্ঘদিন কাজ  করেও এই ভালোবাসা পায় না। আমি দর্শক ও সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ। অভিনয়জীবনে কখনও ভিউয়ের পেছনে দৌড়াইনি। কেউ ভিউয়ের জন্য আমাকে কাস্টও করেননি। আমি চেষ্টা করেছি চরিত্রটি ভালোভাবে করার। দর্শকের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। সেই ভালোবাসাই আমাকে এখনও নতুন চরিত্র ও নতুন গল্পের দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। এখন অভিনয়ই আমার ধ্যান-জ্ঞান। 

আরও পড়ুন

×