ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাবা ও স্বামী হিসেবে প্রসেনজিৎ কেমন, সত্যিটা বলে দিলেন নিজেই

বাবা ও স্বামী হিসেবে প্রসেনজিৎ কেমন, সত্যিটা বলে দিলেন নিজেই
×

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:০৯ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:১০

টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে বারবার নতুন করে আবিষ্কার করেছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে বদলেছেন অভিনয়ের ধরন, কাজ করেছেন ভিন্নধর্মী চরিত্রে। এবার অভিনয়ের বাইরের প্রসেনজিৎকে নিয়ে খোলামেলা আড্ডায় বসেছিলেন এই অভিনেতা। সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা ঋদ্ধি সেন।

‘ডাক্তার কাকু’ সিনেমাকে ঘিরে এই আড্ডায় ব্যক্তিগত জীবন, বাবা-ছেলের সম্পর্ক, দাম্পত্য, প্রজন্মের ফারাক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাংলা সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন দুই প্রজন্মের দুই অভিনেতা।

ঋদ্ধির কাছে প্রসেনজিৎ শুধু সহশিল্পী নন, ছোটবেলা থেকে দেখে আসা একজন অভিনেতার দীর্ঘ পথচলার উদাহরণ। তার মতে, সময়ের সঙ্গে নিজের অভিনয়ের ধরন বদলে দর্শকের কাছে প্রাসঙ্গিক থেকেছেন প্রসেনজিৎ। ‘ডাক্তার কাকু’র শুটিংয়ে প্রায় ২৫-২৬ দিন একসঙ্গে কাজ করেছেন তারা।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক

নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছ থেকেও নিয়মিত শেখেন বলে জানান প্রসেনজিৎ। ঋদ্ধির কোনো কাজ বা ভিডিও ভালো লাগলে মাঝরাতেও তাঁকে বার্তা পাঠান তিনি। প্রসেনজিতের মতে, নতুন প্রজন্মের নিজস্ব একটি অভিনয়ের ভাষা তৈরি হয়েছে। সেই ভাষার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াও জরুরি। কোনো জটিল দৃশ্য থাকলে শুটিংয়ের আগে ঋদ্ধির সঙ্গে বসে স্ক্রিপ্ট পড়তেন বলেও জানান তিনি।

‘ডাক্তার কাকু’ ছবিতে প্রথমবার চিকিৎসকের চরিত্রে দেখা যাবে প্রসেনজিৎকে। তবে চরিত্রটি শুধু চিকিৎসকের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে রয়েছে মধ্যবিত্ত মানসিকতা, নিজস্ব বিশ্বাস ও আদর্শবোধ। এমনকি ছেলের সঙ্গে সম্পর্কেও রয়েছে টানাপোড়েন।

প্রসেনজিতের ভাষায়, ছবিটিতে বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের পরিচিত আবহ এবং শিকড়ের কাছাকাছি থাকা বাঙালিয়ানা রয়েছে।

আড্ডায় নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন অভিনেতা। নিজের সম্পর্কে প্রসেনজিৎ বলেন, ‘বাবা হিসেবে মোটামুটি, স্বামী হিসেবে যথেষ্ট খারাপ।’ এ ক্ষেত্রে স্ত্রী অর্পিতা তাঁকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেন বলেও জানান তিনি।

অভিনেতার ব্যস্ত পেশার কারণে ব্যক্তিগত জীবনের অনেক পরিকল্পনাই বদলে ফেলতে হয়। এমনকি একটি ছবির শুটিংয়ের কারণে ভ্রমণের টিকিটও মাত্র তিন দিন আগে বাতিল করতে হয়েছিল তাঁকে।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক

বাবা-ছেলের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন প্রসেনজিৎ ও ঋদ্ধি। ঋদ্ধি জানান, কৈশোরে রাগ-অভিমান থেকে বাবা-মাকে অনেক সময় এমন কিছু কথা বলে ফেলা হয়, যার জন্য পরে আফসোস হয়। তার উপলব্ধি, শুধু কী বলা হচ্ছে তা নয়, কীভাবে বলা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ভুল হলে দ্রুত ক্ষমা চেয়ে নেওয়া উচিত।

প্রসেনজিতের মতে, একটা বয়সের পর কাছের মানুষকে অতীতের ভুল দিয়ে বিচার করে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত। নিজের বাবার সঙ্গে এখনো অনেক কথা বলা বাকি রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে তার বাবা সুস্থ আছেন, এটিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ছেলে মিশুকের প্রসঙ্গ টেনে প্রসেনজিৎ বলেন, মিশুক কোনো কথা মনে চেপে রাখে না। ফলে অভিমান বা ভুল বোঝাবুঝিও বেশি দূর গড়ায় না। ঋদ্ধির মতে, মনের কথা সময় থাকতে বলে দেওয়া উচিত। কারণ দীর্ঘ সময় চুপ থাকলে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়তে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়েও নিজেদের ভাবনা জানান দুই অভিনেতা। প্রসেনজিৎ নতুন প্রজন্মকে নিজেদের মতামত প্রকাশে উৎসাহ দেন। তবে একই সঙ্গে ভারসাম্য রাখার পরামর্শও দেন। ঋদ্ধির মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া সহজ হলেও প্রকৃত পরিবর্তন আসে কাজের মাধ্যমে।

বাংলা সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রসেনজিৎ। তার মতে, বাংলা সিনেমা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, সেটি বিচার করা তার পক্ষে কঠিন। তবে একটি বিষয়ে তিনি নিশ্চিত—বাংলা সিনেমা ‘শুয়ে নেই’। দর্শকের আগ্রহ বেড়েছে। এখন প্রয়োজন সিনেমা নির্মাণে আরও মনোযোগ দেওয়া এবং আগামী তিন বছরের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা করা। সূত্র: দ্য ওয়াল

আরও পড়ুন

×