চীনা পণ্যে তুষ্টি, জার্মানিকে দ্বিতীয় ‘চায়না শকের’ সতর্কতা
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির কারণে জার্মানিকে দ্বিতীয় ‘চায়না শকের’ বিষয়ে সতর্ক করেছে একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। ছবি: সংগৃহীত
দ্য গার্ডিয়ান
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ২০:৫৭
ইউরোপে চীনের সাফল্য ও দেশটির পণ্য আমদানির বিষয়ে জার্মানিকে সতর্ক করেছে বেলজিয়ামভিত্তিক একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। বার্লিনকে সতর্ক করে তারা বলেছে, চীনা পণ্যে অতিরিক্ত মুগ্ধতা ‘চায়না শক ২.০’ ডেকে আনতে পারে।
সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান রিফর্ম (সিইআর) নামের ওই থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বলছে, জার্মানি বর্তমানে ‘চায়না শক ১.০’ এর পুনরাবৃত্তির ঝুঁকিতে আছে। ২৫ বছর আগে (২০০১ সালে) যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের আমদানি বেড়ে যাওয়ার ঘটনাটি ‘চায়না শক ১.০’ নামে পরিচিত। এর প্রভাবে দেশটির ২৫ লাখ মানুষ কাজ হারায়। অনেক শহরে শিল্পায়ন থেমে যায়। সামাজিক জীবনে এর প্রভাব হিসেবে আত্মহত্যা, বিবাহবিচ্ছেদ ও মাদকাসক্তির হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছিল।
২০২৪ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে জার্মানির সঙ্গে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১২ বিলিয়ন ডলার থেকে ২৫ বিলিয়ন হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৯৪ বিলিয়ন ডলার। এমন প্রেক্ষাপট জার্মানিকে ‘চায়না শক ২.০’ এর ঝুঁকিতে ফেলেছে বলে মনে করছে সিইআর।
বুধবার ‘চায়না শক ২.০: দ্য কস্ট অব জার্মানিজ কমপ্লেসেন্সি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিইআর। এতে বলা হয়েছে, ২৫ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক কাঠামোতে ভাঙনের সেই ঘটনা জার্মানির ভলফসবুর্গ ও স্টুটগার্টের মতো শিল্প শহরের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এই দুই শহরেই বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফক্সওয়াগন ও মার্সিডিজ-বেঞ্জের সদসদপ্তর।
একটি রূপক উদাহরণ দিয়ে সিইআর বলছে, চীন বর্তমানে জার্মানদের দুপুরের খাবারের বড় অংশ সাবাড় করেছে। এখন রাতের খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অথচ জার্মানি এখনো চীনের বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। তীব্র ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দেশটির রাজনৈতিক নেতারা সমস্যাটি পরিষ্কারভাবে অনুধাবন করতে পারছেন না।
সম্প্রতি চীনের পঞ্চবার্ষিকী নীতিমালা বা ‘ফাইভ ইয়ার পলিসি সাইকেল’ নিয়ে অনেকের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের শঙ্কা চীনের পণ্য আমদানির যে জোয়ার চলছে, তা দ্বিতীয় ‘চায়না শক’ তৈরি করছে। যেটির প্রভাবে বিভিন্ন দেশের শিল্প ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে। এমন উদ্বেগের মাঝেই সিইআর জার্মানিকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলো।
