ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

ঝটপট সতেজ ত্বক

ঝটপট সতেজ ত্বক
×

--

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২২ | ১২:০০

রোদ, বৃষ্টি, ঘামের সঙ্গেই দিনযাপন আমাদের। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর খেয়াল করে দেখবেন ত্বকেও পড়েছে ক্লান্তির ছাপ। দিনের পর দিন ক্লান্ত ত্বকের যত্ন না নিলে ত্বক লাবণ্য হারায়। ত্বক হয়ে যায় রুক্ষ, নির্জীব ও নিষ্প্রাণ। বাইরে থেকে ফিরে কিছু বিষয় মানলেই পেতে পারেন সতেজ ত্বক। ঝটপট সতেজ ত্বক পাওয়ার উপায় নিয়ে লিখেছেন রাফিয়া আহমেদ
নির্জীব ও নিষ্প্রাণ ত্বকে প্রাণ ফেরাতে কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চলতে পারেন। সপ্তাহে দু'দিন ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন নির্দিষ্ট ফেসপ্যাক। এতে ত্বক হারিয়ে যাওয়া লাবণ্য ফিরে পাবে। ধীরে ধীরে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
ঠান্ডা পানির ঝাপটা
বাইরে থেকে এসে মুখ, ঘাড়, গলায় ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিতে পারেন। ফ্রিজের ঠান্ডা পানি নয় কিন্তু। ফেসওয়াশ কিংবা সাবান দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ত্বকে বরফ ঘষতে পারেন। এতে ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়বে। রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পেলে ঔজ্জ্বলও বৃদ্ধি পাবে। বরফ ঘষলে পোরসগুলো ছোট হবে এবং ত্বক সতেজ হবে। গরমে যাঁদের ত্বক জ্বালাপোড়া করে, তাঁরা ত্বকে বরফ ঘষলে উপকার পাবেন।
মাল্টার রসের আইসকিউব
ত্বকে প্রায় ব্রণ, কালো ছাপ কিংবা ত্বকে র‌্যাশ দেখা দেয়। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মাল্টার রস ব্যবহার করতে পারেন। মাল্টার রস পোরস ছোট করে ত্বক টানটান করতে কাজ করে। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে মাল্টার রস আইসকিউব করে পুরো মুখে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে। এতে করে ত্বকের ছিদ্রগুলো স্বাভাবিক থাকবে।
মাল্টা দিয়ে ত্বকে স্ট্ক্রাবও করতে পারেন। এ জন্য মসুর ডালের পেস্ট কিংবা মসুর ডালের গুঁড়া এবং চালের গুঁড়ার সঙ্গে মাল্টার রস ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর এই মিশ্রণটিকে ত্বকের ওপর ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করে লাগাতে হবে। কিছুক্ষণ রাখার পর শুকিয়ে গেলে নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটি গলা এবং ঘাড়েও ব্যবহার করতে পারেন।
ময়দা, মধু, টকদই ও মাল্টার রস ভালোভাবে মিশিয়ে পুরো ত্বকে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে যাওয়ার পর তা নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্যাক হিসেবে মাল্টার রসের সঙ্গে ডিমের কুসুম, টকদই ও পরিমাণমতো ময়দা ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
শুস্ক ত্বকে মাল্টার রসের সঙ্গে গাজরের রস মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এই মিশ্রণটি কটন বলের সাহায্যে ত্বকে ব্যবহার করুন। এটি ক্লিনজার হিসেবে ভালো কাজ করবে।
গোলাপজল
ঘরে ফিরে কিংবা কর্মব্যস্ত দিনে বাইরে থাকলেও মুখে গোলাপজল স্প্রে করতে পারেন। এর শীতলভাব নিস্তেজ ত্বককে সতেজ করবে। কিছুক্ষণের মধ্যে ত্বক স্বস্তি পাবে। চোখের নিচের কালো ভাব দূর করতেও গোলাপজল ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে একটি তুলার বল গোলাপজলে ভিজিয়ে চোখের পাতার ওপরে রাখুন। চোখ শীতল রাখার পাশাপাশি এটি চোখের নিচের ফোলাভাব কমাবে।
ত্বক শীতল করবে শসা
ত্বক শীতল রাখার পাশাপাশি প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে শসা। শসা টুকরা করে ব্লেন্ড করে মুখে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক শীতল হবে।
মুখ ধোয়ার পর শুধু শসার রস টোনার হিসেবে মুখে ব্যবহার করতে পারেন। শসার রসের সঙ্গে আপেল সিডার ভিনেগার, টমেটোর রস এবং অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিতে পারেন।
ত্বক উজ্জ্বল করতে শসা ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর শসার রসের সঙ্গে ২ চামচ লেবুর রস এবং ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে মুখে এবং ঘাড়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন।
তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে কাঁচা হলুদ, লেবুর রস এবং শসা পেস্ট একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। শুকিয়ে গেলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে।
শুস্ক ত্বকে ব্যবহারের জন্য ১ চা চামচ ওটমিল এবং পরিমাণমতো শসা পেস্ট একসঙ্গে মিশিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর মুখে এবং ঘাড়ে মিশ্রণটি ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। চাইলে এর সঙ্গে মধুও যোগ করতে পারেন। শুকিয়ে যাওয়ার পর ম্যাসাজ করতে করতে ধুয়ে ফেলুন।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বক বুড়িয়ে যায়। ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধে ২ টেবিল চামচ টকদই, আধা চামচ মধু এবং লেবুর রসের সঙ্গে ২ চামচ গ্রেট করা শসা এবং দুটি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাক লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এটি ত্বককে টানটান ও সুন্দর করে তুলবে। া

মডেল:মাফিন
ছবি: মঞ্জু আলম

আরও পড়ুন

×