ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সলিডারিটি গেমস ২০২১

রুপাজয়ী তিন তীরন্দাজ

রুপাজয়ী তিন তীরন্দাজ
×

তিন তীরন্দাজ শ্যামলী রায়, রোকসানা আক্তার ও পুষ্পিতা জামান

ফাহমিদা রিমা

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২২ | ২২:২৪ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২২ | ০০:২৮

গত ৯ আগস্ট তুরস্কের কনিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ইসলামিক সলিডারিটি গেমস-২০২১। এবারের আসরে এক আরচারিতেই তিনটি পদক জিতেছেন বাংলাদেশের তীরন্দাজরা। অল্পের জন্য স্বর্ণ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হলেও আরচারির কম্পাউন্ড দলীয় নারী ইভেন্টে বাংলাদেশকে রুপা জিতিয়েছেন তিন তীরন্দাজ শ্যামলী রায়, রোকসানা আক্তার ও পুষ্পিতা জামান।

আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা

গেল কমনওয়েলথ গেমসে ছিল না আরচারি। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় এই ইভেন্ট না থাকায় বার্মিংহাম গেমসে প্রত্যাশাও ছিল না বেশি। শুটিং ও আরচারি না থাকায় পদকহীন সমাপ্তি হয়েছে বাংলাদেশের। তবে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে এ দুটি ইভেন্ট থাকায় প্রত্যাশাও ছিল আকাশছোঁয়া। বিশেষ করে তীরন্দাজ রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকীর দিকে তাক করা ছিল সব আলো। কিন্তু রিকার্ভ ব্যক্তিগত ইভেন্টে দেশের দুই তারকা আরচার পারেননি নিশানা ভেদ করতে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে সাফল্য না পেলেও তুরস্কের কনিয়ায় সলিডারিটি গেমসে বাংলাদেশ পদকের হাসি হেসেছে এই আরচারির সৌজন্যেই। আরচারি থেকেই এসেছে তিনটি পদক। কম্পাউন্ড নারী দলগত ইভেন্টে রৌপ্য, রিকার্ভ পুরুষ দলগত ও রিকার্ভ নারী দলগত ইভেন্টে ব্রোঞ্জের হাসি হেসেছেন লাল-সবুজের তীরন্দাজরা।

সলিডারিটি গেমসে ২০২১

গত ৯ আগস্ট তুরস্কের কনিয়ায় ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে ২০২১-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং আইএসএসএফ এইচআরএইচ-এর সভাপতি প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন তুর্কি আল-ফয়সাল আল সৌদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভসহ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূতসহ অনেকেই। এবারের আসরে ৫৪ দেশের ৪ হাজার ২০০ ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করেন।

আগেই নিশ্চিত পদক!

কম্পাউন্ড নারী দলগত ইভেন্টে পদকটি আগেই নিশ্চিত ছিল। কারণ, ফাইনালে স্বাগতিক তুরস্কের প্রতিপক্ষ ছিল বাংলাদেশ। এদিন এই ইভেন্টে স্বর্ণের স্বপ্নও দেখাচ্ছিলেন রোকসানা আক্তার, শ্যামলী রায় ও পুষ্পিতা জামান। ফাইনালে স্বাগতিক তুরস্কের খেলোয়াড় বোস্তান ইয়েসিম, সুজের আইসে বেরা ও সেভিম ইয়েলদিরের কাছে ২২৯-২২২ সেট পয়েন্টে হারে বাংলাদেশের শ্যামলী রায়, রোকসানা আক্তার ও পুষ্পিতা জামান।

আরচারির আরও দুটি পদক

আরচারিতে আরও দুটি পদক জিতে বাংলাদেশ। রিকার্ভ নারী ও পুরুষ উভয় ইভেন্টেই ব্রোঞ্জ জিতেন রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকীরা। রিকার্ভ দলগত ইভেন্টেও ভালো সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশের। পুরুষদের দলীয় ইভেন্টে হাকিম আহমেদ রুবেল, রোমান সানা ও মো. সাগর ইসলাম প্রি-কোয়ার্টার, শেষ আটের গণ্ডি পেরিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন। প্রি-কোয়ার্টারে ৬-০ সেটে সুদান এবং কোয়ার্টারে ইরানকে ৫-১ সেটে হারানো রোমানরা সেমিফাইনালে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে পেরে ওঠেননি। হেরে যান ২-৬ সেট পয়েন্টে। এরপর সৌদি আরবকে ৬-০ সেটে হারিয়ে ব্রোঞ্জপদক জেতে বাংলাদেশ। রিকার্ভ নারী ইভেন্টে দুর্ভাগ্যের শিকার দিয়া সিদ্দিকী, নাসরিন আক্তার ও বিউটি রায়রা। ব্রোঞ্জের পরিবর্তে রৌপ্যও জিততে পারতেন তাঁরা। কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁরা মালয়েশিয়াকে ৬-০ সেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে। শেষ চারে প্রথম পর্যায়ে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ৪-৪ সেটে ড্র হয়। পরবর্তী সময়ে উভয় দলের তিন আরচার একটি করে তীর ছুড়ে বাংলাদেশের স্কোর হয় (৯+৭+৭) = ২৩ এবং ইন্দোনেশিয়ার স্কোর হয় (৯+৭+৭) = ২৩। ইন্দোনেশিয়ার আরচারদের তীর ১০-এর নিকটবর্তী হওয়ায় বাংলাদেশ ৪-৫ সেটে পরাজিত হয়। ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে ৬-২ সেটে হারায় বাংলাদেশ।

থেকে যায় আফসোস!

এ ছাড়া এবারের আসরে তেমন ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। সাঁতারে, পুরুষদের ৫০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টের সেমিফাইনালে ওঠেন মাহমুদুন নবী নাহিদ। তিনি সময় নিয়েছেন ২৬.২২ সেকেন্ড। পরে আর এগোতে পারেননি। কারাতের অনূর্ধ্ব ৬০ কেজি কুমিতে ইয়েমেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন বাংলাদেশের আল-আমিন। তাঁকেও থমকে যেতে হয় কোয়ার্টার ফাইনালেই। কারাতে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-৬১ কেজি ওজন শ্রেণিতে গত দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা হুমায়রা হেরেছেন মরক্কোর কাছে।

পেছনে ফিরে

ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের পাঁচ আসর মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তির পরিসংখ্যান ছয়টি পদক। একটি স্বর্ণ, দুটি রুপা ও তিনটি ব্রোঞ্জ। একটি করে স্বর্ণ, রুপা ও ব্রোঞ্জ মিলেছিল ২০১৭ সালে আজারবাইজানের বাকুর আসরে। সেবার ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের মিক্সড টিম ইভেন্টে আব্দুল্লাহ হেল বাকি ও সৈয়দা আতকিয়া হাসান দিশা স্বর্ণ জিতেছিলেন। ওই আসরেই ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের পুরুষ এককে রুপা জিতেছিলেন রাব্বী হাসান মুন্না। কুস্তিতে মেয়েদের ৬৯ কেজি ওজন শ্রেণিতে ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন শিরিন সুলতানা।

আগামীর স্বপ্ন

বাকু থেকে কনিয়া, মাঝে পেরিয়ে গেছে প্রায় পাঁচটি বছর। তবে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে তেমন উন্নতির ছাপ রাখতে পারেনি বাংলাদেশ; এমন কথা বলছেন বিশ্নেষকরা। তাঁরা আরও বলেন, এবারের আসরে তিনটি পদক মিলেছে বটে, কিন্তু স্বর্ণের হাসি ফোটেনি অ্যাথলেটদের মুখে। তুরস্কের কনিয়াতে ১৮ আগস্ট পর্দা নামল ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের পঞ্চম আসরের। একটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ নিয়ে এবার শেষ করেছে বাংলাদেশ। তিনটি পদকই এসেছে আরচারি থেকে। সমাপনী দিনে আরচারি থেকে আরেকটি পদক প্রাপ্তির আশা ছিল বাংলাদেশের। মেয়েদের কম্পাউন্ড ইভেন্টের ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে রোকসানা আক্তার ১৩৬-১৩৩ স্কোরে স্বাগিতক তুরস্কের সুজার আইসে বেরার কাছে হেরে যাওয়ায় তা আর পূরণ হয়নি। তবে কম্পাউন্ড নারী দলগত ইভেন্টে রুপা জয়ী তিন তীরন্দাজ শ্যামলী রায়, রোকসানা আক্তার ও পুষ্পিতা জামান আগামীতে স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন দেখেন।

আরও পড়ুন

×