অসহায় মানুষের পাশে 'মাস্তুল ফাউন্ডেশন'
সৌমিক মহাজন
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২২ | ২২:৩৫
কখনও শিশুদের দায়িত্ব, কখনও দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের পাশে, আবার কখনও করোনায় প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়া- সব মিলিয়ে সুন্দর একটা সমাজের লক্ষ্যে কাজ করা এক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান 'মাস্তুল ফাউন্ডেশন'। সম্প্রতি নিজেদের গড়ে ওঠার গল্প শোনান সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা কাজী রিয়াজ রহমান।
গল্পের শুরু
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন একবার রবীন্দ্র সরোবরে গান গাওয়ার সময় পরিচয় হয় অসংখ্য পথশিশুর সঙ্গে। আবদার ছিল কিছু বই ও রংপেন্সিল দেওয়ার। বাসা থেকে পাঁচ-ছয়জনের জন্য সে আবদার পূরণ করতে গিয়েই দেখেন অপেক্ষমাণ প্রায় ৪০ জন। পথশিশুদের আগ্রহ আর উপেক্ষা করতে পারলেন না কাজী রিয়াজ রহমান। সাতপাঁচ না ভেবে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে তৈরি করে বসলেন পথশিশুদের জন্য একটি ছোট স্কুল। সেই থেকেই শুরু মাস্তুলের গল্প।
বর্তমানে নিজস্ব সেই স্কুলটি ছাড়াও মাস্তুল থেকে ২৫টি স্কুলে, ১২ জেলায় ১ হাজার ৪০০ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীকে নিয়মিতভাবে দেওয়া হচ্ছে স্কুল ব্যাগ, জুতা, মোজা, বই, খাতাসহ সব শিক্ষা উপকরণ। পেটের ক্ষুধায় যেন পড়ালেখা ছাড়তে না হয় সে জন্য নিশ্চিতের চেষ্টা করেছেন সব মৌলিক চাহিদা। অসহায়, যাদের মা-বাবা নেই তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে 'মাস্তুল শেল্টার হোম'; যার আশ্রয়ে রয়েছে আবাসিক/অনাবাসিক মিলিয়ে ৭১ জনেরও বেশি শিশু। নিজেদের কার্যক্রম শিশুকেন্দ্রিক না রেখে রিয়াজ মাস্তুলের কাজ বিস্তৃত করেছেন আরও দূরে। দেশের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কর্মক্ষম করে তুলতে তৈরি করেছেন সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে নিয়মিতভাবে চলছে নারীর আত্মকর্মসংস্থান তৈরির কাজ।
করোনায় ছিলেন সামনের সারিতে
করোনাকালে যখন মানুষের মধ্যে বেড়ে গিয়েছিল সন্দেহ, সন্তান যখন তার মা-বাবার লাশ গ্রহণে জানিয়েছিল অস্বীকৃতি, তখন আরও অনেকের মতো রিয়াজও তা দেখে চুপ থাকতে পারেননি। স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়লেন মৃত ব্যক্তিদের জানাজা, দাফন-কাফন কার্যক্রম ও সৎকারের কাজে। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করায় আর্থিক সংকট দেখা গেলে এগিয়ে এলেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। ফাউন্ডেশনে দিলেন একটি অ্যাম্বুলেন্স।
মুখোমুখি হাজারো চ্যালেঞ্জ
রিয়াজ বললেন, 'প্রতিবন্ধকতা ছাড়া কোনো বৃহৎ উদ্দেশ্যই সফল হয় না। বাংলাদেশে তরুণ বা নতুনদের জন্য কাজ করা অনেক চ্যালেঞ্জিং। শুরুতে পরিবারের অনুদানে শুরু করলেও একসময় আর্থিক সংকটে পড়ে যায় এই কার্যক্রম। এমনকি বাড়ি ভাড়া বাকি থাকায় বাড়িওয়ালাও বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন।' অনুদানের আশায় ঘুরেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে। এ ধরনের অসংখ্য দুঃখগাথা দিয়ে মাস্তুলের পথচলা শুরু হলেও সেই দুঃখকে শক্তিতে রূপান্তর করে গড়ে তুলেছেন ফাউন্ডেশনটির ভিত্তি।
আগামীর পথচলা
মাস্তুল বর্তমানে হাজারো কোম্পানি ও মানুষের অনুদানে দায়িত্ব নিয়েছে হাজারো অনাথ শিশুর। স্বপ্ন রয়েছে লাশ গোসলের জন্য মাস্তুলের নিজস্ব গোসলখানা বানানো ও পাশাপাশি দেশব্যাপী গরিবদের জন্য একটি ভালোমানের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস তৈরি করা। যেন অসহায়দের অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে ইমার্জেন্সিতে মৃত্যুমুখে ঢলে পড়তে না হয়। রিয়াজ আরও স্বপ্ন দেখেন লাখো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করার, যেন অসহায়রা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। আগ্রহ রয়েছে কৃষি, সমবায়, মৎস্য খামারের মতো স্বাবলম্বী খাতগুলোতে কাজ করার।
- বিষয় :
- মাস্তুল ফাউন্ডেশন
