স্বাস্থ্য সচেতনতায় প্রচার অভিযান
মহিউদ্দিন রানা
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ | ১৪:০৭
ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে মানুষের স্বাস্থ্যচিত্র। ঠান্ডা, রোদ, হঠাৎ বৃষ্টি– এই আবহাওয়াজনিত অস্থিরতায় বিপাকে পড়েছেন শিশু থেকে বয়োজ্যেষ্ঠরা। বেড়েছে মৌসুমি জ্বর, সর্দি, কাশি ও গলাব্যথার প্রকোপ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসিগুলোর তথ্য বলছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ। অনেকেই জানেন না এই মৌসুমি রোগগুলোর প্রতিরোধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা কীভাবে করবেন। ওষুধের দোকানে ভিড় বাড়লেও সচেতনতা বাড়েনি সমানতালে।
এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী মানুষের দোরগোড়ায় ছুটে যায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ সমকাল সুহৃদ সমাবেশ। ‘সচেতনতা ছড়ান হাতে হাতে, সুস্থ থাকুন দিনে ও রাতে’ প্রতিপাদ্যে সংগঠনটির উদ্যোগে পৌর শহরের চরনিখলা এলাকায় কাঁচামাটিয়া নদীর পাড়ে আয়োজন করা হয় সচেতনতামূলক এক উঠান বৈঠকের। এতে অংশ নেন এলাকার নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। বৈঠকে প্রধান আলোচক ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা মিনহাজুল ইসলাম। তিনি ঋতুভিত্তিক রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক করণীয় নিয়ে সহজ ভাষায় বিস্তারিত ধারণা দেন। বিশেষভাবে নারীর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সচেতনতার দিকেও গুরুত্ব দেন তিনি। বৈঠকের আগে ‘সমকাল সুহৃদ’ সদস্যদের মৌসুমি রোগ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেন চিকিৎসক। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা।
কর্মসূচির আওতায় উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বর্ষার সময়ে ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, নিরাপদ পানি পান করা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সর্দি-কাশি হলেই ওষুধ না খেয়ে প্রথমে বিশ্রাম নেওয়ার কথা বলা হয়। জোর দিয়ে বলা হয়, ‘অপ্রয়োজনীয় ওষুধ নয়, সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাসই হতে পারে যে কোনো রোগের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।’
বৈঠকে আসা চরনিখলা এলাকার রুপা আক্তার বলেন, ছোট বাচ্চারা প্রায়ই সর্দি-জ্বরে ভোগে। আগে বুঝতাম না কী করব। এখন জানলাম সবসময় ওষুধ না দিয়ে আগে বিশ্রাম দিতে হয়, আর ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখতে হয়। সুহৃদের এই উঠান বৈঠক আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। আরেক গৃহবধূ বলেন, অনেক সময় মেয়েদের নিজের শরীরের সমস্যার কথাও বলা যায় না লজ্জায়। আজকের বৈঠকে ডা. সাহেব যেভাবে সহজভাবে বুঝিয়েছেন, তাতে সাহস পেয়েছি। এখন থেকে নিজের আর পরিবারের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখব। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, গ্রামের অধিকাংশ মানুষই স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন নয়। ছোট অসুখে বাড়তি ওষুধ খায়, আবার বড় অসুখকে অবহেলা করে। আজকের বৈঠকে বুঝেছি সচেতনতাই হচ্ছে সুস্থ থাকার মূল মন্ত্র। এখন থেকে নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবারকেও সচেতন করব। এমন উদ্যোগ আরও দরকার।
কর্মসূচিতে অংশ নেন ঈশ্বরগঞ্জ সুহৃদ আমজাদ হোসেন সোহেল, আমিনুল হক, বিলকিস জাহান সেতু, আব্দুল্লাহ আল মামুন বায়েজিদ, মনির উদ্দিন, সাবিবুর হাসান শাকিল, পারভেজ মিয়া, ঋত্বিক ভৌমিক, সাংবাদিক রেজাউল করিম রাজু ও শফিউল্লাহ সুমন। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সমকালের ঈশ্বরগঞ্জ সংবাদদাতা। এ উদ্যোগকে এলাকার মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। অনেকেই বলছেন, শুধু উঠান বৈঠক নয়– স্কুল, হাট ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও এমন কর্মসূচি হলে সচেতনতা আরও বাড়বে। আমজাদ হোসেন সোহেল বলেন, স্বাস্থ্য রক্ষার বার্তা নিয়ে আমরা মানুষের দোরগোড়ায় যাচ্ছি কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, সচেতনতার আলোই রোগ প্রতিরোধের প্রথম শর্ত। আমরা যত জানব, তত সচেতনতায় সক্ষম হব। এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
- বিষয় :
- ঈশ্বরগঞ্জ
- সুহৃদ সমাবেশ
