ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

ভালোবাসা

চিরসবুজ এক নতুন কুঁড়ি

চিরসবুজ এক নতুন কুঁড়ি
×

ওপরের ছবির এই ভাবুকটা তোমাদের অনেক ভালোবাসতেন। তোমাদের জন্য ভাবতেন। তাঁর পাশে যাদের দেখছো, তারা হচ্ছে পারুল, বাউল আর ষাঁড়। তাঁর বানানো তিনটি মজার পুতুল। এই পুতুলদের নিয়ে বানিয়েছেন কত কত গল্প। টিভি অনুষ্ঠানসহ কত কী। নাম তাঁর মুস্তাফা মনোয়ার। জন্ম ১৯৩৫ সালে

মাসুম মাহমুদ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

একদিন স্যার অঙ্কের খাতা দিচ্ছিলেন। ভালো নম্বর পাওয়া কয়েকজন ছাত্রের নাম ধরে খাতা দেওয়ার পর তিনি মজা করে আরেকটি ছেলেকে ডাকলেন।
হাসিমুখে ছেলেটি উঠে দাঁড়াতেই স্যার অবাক হয়ে বললেন, ‘এই ছেলে, তুমি অঙ্কে কত পেয়েছ জানো? এত হাসছ কেন? তুমি তো পেয়েছ চার!’
স্যারের কথা শুনেও ছেলেটির হাসি থামল না। তখন স্যার বললেন, ‘লজ্জা করছে না তোমার? অঙ্কে কেউ কোনোদিন চার পায়?’
ছেলেটি হেসে উত্তর দিল, ‘স্যার, কোন অঙ্কটা ঠিক হয়েছে, সেটাই ভাবছি!’
গ্রামের সবুজে মুগ্ধ হওয়া, ধানক্ষেতের ঢেউ দেখে স্বপ্নে হারিয়ে যাওয়া আর গামছা হাতে মাছ ধরতে ছুটে বেড়ানো সেই স্কুলপড়ুয়া ছেলেটিই একদিন হয়ে উঠলেন শিশুদের প্রিয় বন্ধু–মুস্তাফা মনোয়ার।
সবাই তাঁকে চেনেন ‘পাপেটম্যান’ নামে। পুতুল আর গল্প ছিল তাঁর খুব প্রিয়। তাই তিনি পাপেটের মাধ্যমে বাংলাদেশের লোককাহিনি আর মজার মজার গল্প নতুন করে শিশুদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর হাত ধরেই জন্ম নিয়েছে পারুল, বাউল, বাঘা আর মিনি। এই পুতুল চরিত্রগুলো বছরের পর বছর শিশুদের হাসিয়েছে আর গল্পের রঙিন জগতে নিয়ে গেছে।
পারুলকে নিয়ে একটি দারুণ মজার গল্প আছে! একবার ইউনিসেফের প্রতিনিধি র‍্যাচেল কার্নেগি বাংলাদেশে এসেছিলেন। তখন তিনি মুস্তাফা মনোয়ারের তৈরি চঞ্চল আর বুদ্ধিমান পাপেট চরিত্র ‘পারুল’কে দেখে খুব মুগ্ধ হন। পারুলকে তাঁর এতই ভালো লাগে যে, পরে সেই চরিত্র থেকেই অনুপ্রেরণা নেওয়া হয় নতুন একটি কার্টুন চরিত্র তৈরির জন্য। সেই চরিত্রটির নাম ‘মীনা’। হ্যাঁ, সেই মীনাই–যাকে তোমরা টেলিভিশনে দেখেছো, যার গল্প শুনেছো! আজ মীনা শুধু একটি কার্টুন চরিত্র নয়, দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি শিশুর পরিচিত বন্ধু। মেয়েদের অধিকার, শিক্ষা আর সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে সে বহু বছর ধরে।
মুস্তাফা মনোয়ারের আরেকটি দারুণ পরিচয় আছে। তিনি ছিলেন বিটিভির জনপ্রিয় শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র স্বপ্নের নায়ক, পরিকল্পনাকারী ও প্রযোজক। বাংলাদেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা শিশুদের গান, নাচ, অভিনয় আর আবৃত্তির প্রতিভা খুঁজে বের করে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন এই আয়োজন। ‘নতুন কুঁড়ি’ শুধু একটি অনুষ্ঠানই নয়, হাজারো শিশুর স্বপ্ন মেলে ধরার সুন্দর মঞ্চ।
তাঁকে নিয়ে বলে শেষ করা যাবে না। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনের লাল সূর্যের নকশার অন্যতম স্থপতি ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিশুদের এই সত্যিকারের বন্ধু আজ নেই, কিন্তু বাংলাদেশের শিশুদের হাসি, আনন্দ আর স্বপ্নের ভেতর তিনি চিরকাল লাল সূর্য হয়ে থাকবেন। 

আরও পড়ুন

×