গপ্পো
বাবার জন্য মন খারাপের দিন
ছবি এঁকেছেন সাফায়েত সাগর
লিখেছে সাইফ আবরার
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০৬:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেখতে দেখতে ২০২৬ সালের অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলো। একটা পরীক্ষাও শেষ হয়ে গেলো। দুটি ঈদ যে কীভাবে চলে গেলো বুঝতেই পারলাম না। কোরবানির ঈদের ঘটনা। আমরা সবাই মিলে গেলাম দাদার বাড়ি। ফুফুরা এলেন। আমরা সবাই মজা করে তাদের বানানো পিঠা খেয়েছি। কতো রকমের যে পিঠা বানালেন তারা। আমরা ফুফাতো ও চাচাতো ভাইবোনেরা একসঙ্গে বসে পিঠা খেলাম। মাংসের ঝোলে ডুবিয়ে চালের গুঁড়ির পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। কথায় আছে, সুখের দিন বেশি স্থায়ী হয় না! বাস্তবে তাই হলো। মজার দিনগুলো ফুরিয়ে এলো। ছুটিও শেষ হয়ে গেলো। আমরা ঢাকার পথ ধরলাম। বাবা গাড়িতে বসেই ড্রাইভার চাচ্চুকে সাবধানে গাড়ি চালাতে বললেন। তিনি সবসময় একটু খামখেয়ালি স্বভাবের। কুমিল্লা হাইওয়ে রােডে উঠে তিনি একটা মাইক্রোবাসের সঙ্গে আমাদের গাড়ি ধাক্কা দিলেন। বাবা সামনে বসা ছিলেন। বাবা পায়ে খুব ব্যথা পেলেন। তবু তিনি বারবার আমাদের জিজ্ঞেস করছিলেন, তোমাদের কোথাও লাগেনি তো? আমরা না বলি তবু বাবা নিজের খেয়াল না রেখে কেবল আমাদের জন্য অস্থির হয়ে উঠলেন। মা ড্রাইভার চাচ্চুকে বললেন, হসপিটাল যেতে। তিনি হসপিটাল গেলেন। বাবার পায়ে ব্যান্ডেজ করা হলো। আমরা ফের বাসার পথ ধরলাম। বাসায় এসেও বাবা আমাদের জিজ্ঞেস করছিলেন, তোমরা ভয় পাওনি তো? এটাই আমাদের বাবা। এমন বাবাকে ভালো না বেসে থাকা যায়?
বয়স: ২+৪+৪ বছর; পঞ্চম শ্রেণি, আইডিয়াল একাডেমি, ঈশ্বরদী, পাবনা
- বিষয় :
- গল্প
