ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

এনবিআরকে ব্যবসায়ীদের চিঠি

টায়ারে বাড়তি শুল্কে বাড়বে পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি

টায়ারে বাড়তি শুল্কে বাড়বে পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৩:৩৭ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৩:৩৯

আগামী বাজেটে আমদানি করা নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটেগরির টায়ারের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রস্তাব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর ফলে এসব টায়ারের ওপর মোট করভার ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ হবে। সরকারের এমন প্রস্তাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে টায়ার আমদানিকারক ও ডিলারদের মধ্যে।

প্রস্তাবিত শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার জন্য সম্প্রতি এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম টায়ার টিউব ইম্পোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ। সংগঠনটির পক্ষে এ-সংক্রান্ত আরেকটি চিঠি গতকাল শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

চিঠি দুটিতে বলা হয়েছে, ‘হালকা বাণিজ্যিক ট্রাক ও বাসের টায়ারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের বেশির ভাগ লোকাল বাস, মিনিবাস, হিউম্যান হলার, ট্রাক, কৃষি ও মালবাহী পরিবহনে এসব টায়ার ব্যবহৃত হয়। এভাবে শুল্ক বাড়ালে পরিবহন, কৃষি, নির্মাণ ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত টায়ারের দাম বেড়ে যাবে।’
আমদানিকারকদের হিসাব অনুসারে, এ ধরনের টায়ার এবং পিকআপ ভ্যানে ব্যবহৃত টায়ারের দাম তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় ও কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়বে। এতে চূড়ান্ত চাপ পড়বে ভোক্তার ঘাড়ে। ফলে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

সংগঠনটির অভিযোগ, ‘স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এমন প্রস্তাব করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তারা দেশের মোট চাহিদার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পূরণ করতে পারে। অথচ বাজারের বাকি ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ সরবরাহকারী এবং আমদানিনির্ভর খাতের ওপর বিশাল করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

দেশীয় উৎপাদনকারীরা যাত্রীবাহী গাড়ির কিছু টায়ার তৈরি করলেও ভারী যান ও বিশেষায়িত টায়ারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর। অল্প কিছু স্থানীয় উৎপাদকদের সুবিধা দিতে গিয়ে দেশের বিশাল আমদানি বাজারের ওপর এমন অতিরিক্ত কর কোনোভাবেই যৌক্তিক নয় বলে মনে করছেন আমদানিকারক ও ডিলাররা।

সংগঠনটির সভাপতি মাইন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘হঠাৎ করে টায়ারের দাম বাড়লে উৎপাদন, পরিবহনসহ সব পর্যায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ সংগঠনটির সদস্য ও ইফফাত ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউর রহমান সমকালকে বলেন, ‘এইচএস কোড ৪০১১.২০.১০-এর আওতায় বাণিজ্যিক যানবাহনের টায়ারের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এই জাতীয় টায়ারে এক লাফে প্রায় ৩২ শতাংশ করভার বাড়বে। এটি অত্যন্ত অযৌক্তিক।’
এমআরএফ টায়ারের এই পরিবেশক বলেন, ‘টায়ারের কারণে পরিবহন খরচ বাড়লে পর্যায়ক্রমে কৃষিপণ্য, নিত্য ভোগ্যপণ্য এবং শিল্পের কাঁচামালের দাম বেড়ে যাবে; যার চূড়ান্ত বোঝা বইতে হবে জনসাধারণকে।’ বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান মাস্টার বলেন, ‘এমনিতেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ট্রাক ভাড়া অনেক বেড়েছে। নতুন করে আবার বাড়লে পণ্যের দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

আরও পড়ুন

×