বিশেষ কিছু
ফাইনাল থেকে পালিয়ে গেলো রেফারি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
মানুষের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল তো ১৯ জুলাই। তাই বলে বনের পশুপাখিরা এতদিন বসে থাকবে? ওদেরও বিশ্বকাপের এত সময় নেই! তাই তো ওরা আজকেই ফাইনাল খেলছে। ওদের ফাইনালে উঠেছে নীল দল ও হলুদ দল। ওপরের ছবি দেখে নিশ্চয়ই সেটি বুঝতে পারছো? এত্তো সুন্দর ছবিটি এঁকেছেন প্রাণীদের কাকু সাফায়েত সাগর। চলো আশিক মুস্তাফা’র লেখায় সেই খেলা উপভোগ করি...
সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আজকের ফাইনাল খেলার ধারা বিবরণী। ইতোমধ্যেই তোমরা সরি, আপনারা জেনে গিয়েছেন লাল এবং হলুদ দলের খেলোয়াড়দের বায়োগ্রাফিসহ হিজিবিজি সব। আজকের খেলার অনারেবল রেফারি জনাব শিয়াল পণ্ডিত লেজ তুলে না দৌড়ে লেজ শুইয়ে দৌড়াচ্ছেন। কারণ, শিয়ালমশাই খেলায় নির্দিষ্ট বাঁশি ব্যবহার না করে ভুভুজেলা ব্যবহার করতে চেয়েছেন। কিন্তু ইএফএ মানে অ্যানিম্যাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দু’দলের দুই খেলোয়াড় ডায়নোসর ও টিকটিকির কথা মাথায় রেখে ভুভুজেলা ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন।
খুব বড় হওয়ায় ডায়নোসর এবং খুব ছোট হওয়ায় টিকটিকির কানে ভুভুজেলার আওয়াজ নাকি পৌঁছাবে না! তবে লাল দলের ইঁদুর বাঁশিটাশির ধার ধারে না, সে মাঠ খুঁড়ে হলুদ দলের গোলপোস্টের দিকে পথ বানিয়ে যাচ্ছে। হলুদ দলের বানরের কাঁপাকাঁপি শুরু হয়েছে খেলা শুরুর দুই মিনিট পর থেকেই, শুধু কি তাই! প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় তার চোখ দুটো আন্ডা আন্ডা মানে ডিম ডিম হয়ে যাচ্ছে। জানি না, লাল দলের হাঁস আবার কখন নিজের আন্ডা বলে হলুদ দলের বানরের চোখ ঠুকরে তুলে নেয়! হায় হায় বলতে না বলতেই ডান পাশের ডিফেন্স ভেঙে ডিবক্সের ভেতর ঢুকে পড়েছে লাল দলের ঘরিয়াল। দর্শক, ভয়াবহ কিছু ঘটে যেতে পারে এখন থেকে কিছুক্ষণের মধ্যে। কারণ, বামপাশ দিয়ে ৯ নম্বর জার্সি পরিহিত একই দলের খেলোয়াড় অ্যানাকোন্ডা ফাঁকফোকর দেখে নিচ্ছে। আড়াআড়িভাবে শুট করলেন ঘরিয়াল। দেখা যাক কী হয়, হ্যাঁ বল এগিয়ে আসছে অজগর সাপের দিকে, নাহ্, অজগর বাঁকা হয়ে মাথা উঁচু করতে দেরি হয়ে গেলো। তাই বল চলে গেলো মাঠের বাইরে। গোল কিক হলুদ দলের।
ওমা! গোল কিক মারার সঙ্গে সঙ্গেই রেফারি শিয়ালমশাই ঘড়ি না দেখে হাফ টাইমের বাঁশি বাজিয়ে দিলেন। যাক, যেহেতু বাঁশি বাজিয়ে দিয়েছেন সেহেতু বাঁশির আওয়াজ তো আর খেলোয়াড়দের কান থেকে বের করে আনা যাবে না। তাই আমরাও হাফ টাইমের বিরতি মেনে নিলাম। তবে দর্শক, দুনিয়া টিকে আছে আমাদের চাপাবাজির কল্যাণে। তাই দুনিয়ার কথা ভেবে, পশুপাখির কথা ভেবে আমরা বিরতি নিচ্ছি না। আমরা ১০ মিনিট বকবক করে যাব। আকাশের অবস্থা ভালোই দেখছি, তবে বন-জঙ্গলের আকাশ বলে কথা। যে কোনো সময় আকাশ ভেঙে থুক্কু! মেঘ ভেঙে বৃষ্টি নামতে পারে।
যাক! বৃষ্টি নামুক আর উঠুক তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। শুধু রেফারি মশাইকে নিয়ে একটু চিন্তা!
বাহ্, এই তো খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে পড়েছেন, রেফারি বাঁশি বাজিয়ে দিয়েছেন, আক্রমণে হলুদ দলের সিংহ, বেশ তর্জন গর্জন করে এগিয়ে যাচ্ছে ১০ নম্বর জার্সি পরিহিত এ খেলোয়াড়। তার পিছু পিছু লাফাচ্ছে আর হাঁপাচ্ছে একই দলের দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তারকা খেলোয়াড় ব্যাঙ। দর্শক, একটু আগে আমরা যা বলেছি তাই হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ ইলশে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে পড়তেই হয়তো ব্যাঙ তার ফর্মের থার্মোমিটারের পারদের মাথায় উঠে যাচ্ছে। যাক ব্যাঙকে আটকে দিলেন লাল দলের ফ্লপ ফরোয়ার্ড বাঘ। তার আটকানোর কৌশল দেখে মনে হচ্ছে অন্য গ্রহের অ্যালিয়েন-ট্যালিয়েন টাইপের কারও কাছ থেকে সে এ কৌশল রপ্ত করেছে। বল এখন মাঝমাঠে রয়েছে লাল দলেরই অনুকূলে। লাল দলের ডায়নোসরের মনে হচ্ছে গোঁফ গজাচ্ছে। মুখ টিপে টিপে হাসছে একই দলের হাঁসও। বৃষ্টির পানি মাঠে জড়ো হওয়া দেখেই মনে হয় তাদের এত খুশি। হলুদ দলের ইঁদুরের অবস্থা তেমন সুবিধার নয়। নাক উঁচু করে সে নিঃশ্বাস নিতে নিতে পানিতে সাঁতার কেটে এগিয়ে যাচ্ছে। তার এগিয়ে যাওয়ার কৌশল ভালো ঠেকছে না।
ওমা! যা বললাম, ঠিক তাই হলো, ইঁদুর বল না ধরে ডায়নোসরের পেটে কামড় দিয়ে দাঁত বসিয়ে দিয়েছে নিশ্চয়ই লাল কার্ড পাওয়ার অপরাধে। কই? বাঁশি তো বাজছে না। রেফারিকেও তো দেখা যাচ্ছে না। অই যে, অই যে দেখা যাচ্ছে রেফারি শিয়ালমশাইকে। তিনি দেখি দৌড়াচ্ছেন। আজব ব্যাপার, পৃথিবীর ইতিহাসে, প্রাণী জগতের ফুটবল ইতিহাসে এটা বিরল ঘটনা। খেলা শেষ না হতেই মাঠ ছেড়ে রেফারির পলায়ন। আরে, রেফারি দেখি লেজ তুলে দৌড়াচ্ছেন!
দর্শক, টা টা, বাই বাই, আমরা এবার
বনে যাই!
- বিষয় :
- খেলা
