ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘোরাঘুরি

চাঁদের আলোয় পাহাড়ের দেশে...

চাঁদের আলোয় পাহাড়ের দেশে...
×

শাশ্বত দে

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বান্দরবানের দেবতাখুমের কাছাকাছি এক জায়গায় আমরা ঘুরতে এসেছি। আজকের দিনটা তাঁবুতে থাকবো বলে আসার পথে শুরু থেকে আমার মধ্যে টানটান উত্তেজনা কাজ করছিল। পুরো জায়গাটা বেশ ভালো করে ঘুরে দেখলাম, দুই পাশে উঁচু পাহাড়, একেবারে সবুজ। আর মাঝখান দিয়ে নদী বয়ে চলেছে, যেন প্রকৃতি নিজের হাতে পাহাড়ের মাঝখানে রাস্তা বানিয়ে দিয়েছে।
রাত হয়ে গেছে। তখন তাঁবুর ভেতরে বসে ছিলাম। হঠাৎ ইচ্ছে হলো একটু বাইরে থেকে হেঁটে আসি। যা ইচ্ছে হলো তা-ই করলাম। ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে তাঁবু থেকে বেরিয়ে এলাম। আশপাশে কিন্তু কোথাও কোনো লাইট জ্বলছিল না। মাটির ওপরে হালকা করে চাঁদের আলো এসে পড়ছে। একটু ভয় লাগছে। তবু ভাইয়ের সঙ্গে হাত ধরে সামনের দিকে এগোতে লাগলাম। ধীরে ধীরে সামনের দিকে। 
এগোতে এগোতে একসময় চলে এলাম সেইখানে, যেখানে দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে 
নদী বয়ে যায়। 
কী এক অপূর্ব দৃশ্য! পাহাড় দেখতে কালো লাগে। আর নদীর ওপরে চাঁদের আলো পড়ে ঝিকিমিকি করে। আমার হাত পায়ের ওপরে সে চাঁদের আলো পড়ছিল। কী যে ভালো লাগছিল! হঠাৎ খেয়াল করলাম, অনেক অনেক জোনাকি পোকা একসঙ্গে খেলা করছে। যেন চাঁদ আর জোনাকি মিলে একসঙ্গে আলোর 
খেলা খেলছে।
তাদের আলোর খেলা দেখে অনেক মুগ্ধ হলাম। মনের ভেতর অনেক অন্যরকম কিছু অনুভূতি হচ্ছিল। কোন গ্রহে যে চলে এসেছি বুঝতে পারছিলাম না। আমি মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে 
আছি। কোনো নড়াচড়া নেই। শুধু দেখছি চারপাশের সৌন্দর্য।  
মাথার ওপরে তাকিয়ে চাঁদ দেখলাম। 
ঠিক যেন পূর্ণিমার চাঁদের মতো গোল দেখাচ্ছিল, যদিও ওইদিন পূর্ণিমা ছিল না। আকাশ ভর্তি কত তারা‌। আহা, মনটা যে কত ভালো হয়ে গেলো! মনে হলো স্বর্গের চেয়েও সুন্দর কোনো স্থানে প্রবেশ করেছি। 
ঢাকা শহরে বিল্ডিং-এর মাঝে 
আকাশ দেখা যায় না! আর চাঁদের আলো? 
শহরভর্তি বৈদ্যুতিক আলোর মাঝখানে 
কীভাবে বোঝা যাবে আলাদা করে 
চাঁদের আলোকে! এই প্রথম আমি চাঁদের আলোকে আলাদা করে দেখলাম! আমার 
আর এই স্থান থেকে ফিরে যেতে ইচ্ছে 
করছে না। আমার মনে হলো যে, পাহাড়ি 
জীবনযাপন কষ্টের হলেও 
এখানে সবচেয়ে বেশি শান্তি। 
বয়স: ৪+৪+৪ বছর; সপ্তম শ্রেণি, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা

আরও পড়ুন

×