গাছ কেটে গড়ে উঠছে দোকানপাট ক্ষতিপূরণ নিয়েও ফের দখল
বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে স্থাপনা। সম্প্রতি পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন গঙ্গামতি ধোলাই মার্কেট এলাকায় সমকাল
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুয়াকাটার গঙ্গামতি ধোলাই মার্কেট এলাকায় ফের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের সৃজিত গাছপালা কেটে সাফ করে গড়ে তোলা হচ্ছে দোকানঘর। এক মাসেই সেখানে গড়ে উঠেছে অন্তত ১২টি নতুন দোকান। নির্বিঘ্নে কাজ করতে দখলদার চক্র বেছে নিচ্ছে গভীর রাতকে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে ঝাউবাগান পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রিভার সাইডে ছোট-বড় অসংখ্য অবৈধ অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। গঙ্গামতি সেতু হয়ে ধোলাই মার্কেট পর্যন্ত বাঁধের দু-পাশেই চলছে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের প্রতিযোগিতা। বসানো হচ্ছে কাঠের ও টিনের ঘর। সরকারি জমিতে এভাবে প্রকাশ্যে দখলবাজি চললেও বাধা না আসায় ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে। এতে সরকারের বিপুল টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মিত বেড়িবাঁধটি স্থায়িত্ব হারাচ্ছে, একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে বাড়ছে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি।
গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে ঘরগুলো তোলা হয়। বারণ করলেও দখলদাররা শুনছে না বলে দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, বন বিভাগের লোকজন চলে গেলেই শুরু হয় হাতুড়ি-প্যারেকের শব্দ। রাতের মধ্যেই এসব দোকানের একটি অংশ আবার চড়া দামে গোপনে বিক্রিও করে দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলাকাকে ভাঙন থেকে বাঁচাতে এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কলাপাড়ার ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ ও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৯ সালে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত এবং রিভার ও কান্ট্রি সাইডে বনায়নের কাজ শেষ করা হয়। সাগরের ঢেউয়ের ঝাপটা সামলাতে বসানো হয় কংক্রিটের ব্লক, সচল করা হয় ৯টি স্লুইসগেট। এমনকি বাঁধের স্লোপে থাকা ৬৭৩টি অবৈধ স্থাপনা সরাতে ক্ষতিপূরণ বাবদ সরকার সাধারণ মানুষকে দেওয়া হয় ৭ কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। কিন্তু সেই বিশাল বিনিয়োগ ও পুনর্বাসনের সুফল আজ আবার ভেস্তে যেতে বসেছে দখলদারদের থাবায়।
ধোলাই মার্কেটে নতুন ঘর নেওয়া ইব্রাহিম নামে এক ব্যবসায়ী জানান, সরকার যার বাবাকে আগে ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিল, সেই রাকিব নামে এক ব্যক্তিই তাকে নতুন দোকান বানিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি স্বীকার করে রাকিব বলেন, তার বাবার পুরোনো দোকানের সূত্র ধরেই তিনি আবার ঘর তুলেছেন এবং সেটি ভাড়া দিয়ে মাসে দেড় হাজার টাকা আয় করছেন। আশপাশের সবাই তুলছে বলেই তিনিও হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি।
ওবায়দুল্লাহ নামে আরেক দখলদার বলেন, এই জায়গায় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি ছিল। সবাই দখল করছে দেখে আমিও নিজের অংশ বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছি। পাউবো চাইলে সরে যাব।
ধোলাই মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বাদল সরদার নিজের দায়
এড়িয়ে বলেন, সমিতি কাউকে কোনো অনুমতি দেয়নি এবং তারা কাউকে সহযোগিতাও
করছেন না। সবাই সমিতিকে না জানিয়েই গভীর রাতে এসব ঘর তুলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহআলম জানান, সৈকতের আশপাশের অবৈধ স্থাপনা সরাতে মাইকিং করা হয়েছে এবং ধোলাই মার্কেটের দখলদারদের ইতোমধ্যে উচ্ছেদ নোটিশও পাঠানো হয়েছে।
একই কথা বলেন, কুয়াকাটা সি-বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও পৌরসভার প্রশাসক (সহকারী কমিশনার-ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক। তাঁর ভাষ্য, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব
বেআইনি স্থাপনা ভেঙে দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
- বিষয় :
- গাছ