ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে প্রতি মাসে ৬ জনের শরীরে এইডস শনাক্ত

চট্টগ্রামে প্রতি মাসে ৬ জনের শরীরে এইডস শনাক্ত
×

শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম 

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১০:২৭

চট্টগ্রাম বিভাগে এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক বছরে নতুন করে ৭৫ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। এই হিসাবে প্রতি মাসেই অন্তত ছয়জন ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছেন। প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে গত তিন বছরে রেকর্ড ২১৭ জন আক্রান্ত এবং ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ায় বাড়ছে প্রাণহানি। এই পরিস্থিতিকে আশঙ্কাজনক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। গত কয়েক বছরের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে মত তাদের। 

জাতিসংঘের এইডস কমর্সূচির পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে দেশে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ২০০। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস-এসটিডি প্রোগ্রামের (এএসপি) তথ্য বলছে, দেশে এইডসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৮৬৫। এর মধ্যে ৩০০ শিশু। ৯২৪ রোগী মারা গেছেন। চট্টগ্রামসহ ২৩টি জেলা ভাইরাসটির ঝুঁকিতে রয়েছে। 

চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশই প্রবাসী ও তাদের স্বজন। প্রবাসে অবস্থানরতদের ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান না থাকায় ভাইরাসটিতে আক্রান্তের হার ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। অসচেতনতার কারণেও নতুন করে শিশুসহ অনেকেই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হচ্ছে। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের তত্ত্বাবধানে অ্যান্টি রিক্টোভাইরাল থেরাপি সেন্টারে (এআরটি) এই অঞ্চলের এইডস রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির গত তিন বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এইডস রোগে আক্রান্ত হন ৫৮ জন, মারা যান ২৭ জন। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪ তে, মৃত্যু হয় ১১ জনের। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত নতুন করে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭৫ এবং মারা যান ১৩ জন। 

চলতি বছর নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৩ জন চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা। এ ছাড়া কক্সবাজারের বাসিন্দা চারজন, ফেনীর সাতজন, রাঙামাটির দুজন এবং কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নাটোর ও নোয়াখালী জেলার একজন করে বাসিন্দা আক্রান্ত হয়েছেন। 

চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের প্রধান ডা. জুনায়েদ মাহমুদ খান বলেন, নানা কারণে এইডসের ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রামের বাসিন্দারা। এর অন্যতম কারণ প্রবাসীরা। অসচেতনতার কারণেই তাদের মাধ্যমে স্ত্রী, স্বজনরা ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। না জানার কারণে প্রবাসীরা ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক করছেন। 

তিনি বলেন, গত এক বছরে যেসব রোগী মারা গেছেন, তারা খুব খারাপ অবস্থা নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। যে কারণে ওষুধ শুরুর আগেই মারা যান তারা। আগেভাগে এলে এমন পরিণতি হতো না। 

চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় চর্ম ও সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান রাহাত বলেন, ‘কয়েক বছর ধরেই অভিবাসীদের মাধ্যমে নতুন করে বাড়ছে এইচআইভি রোগীর সংখ্যা। সচেতনতার অভাবে অনেক রোগী শনাক্তের বাইরে থাকছে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে এই ভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব।’ 

আরও পড়ুন

×