ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হারানো দাঁত প্রতিস্থাপন: আধুনিক ডেন্টাল ইমপ্লান্টের গুরুত্ব

হারানো দাঁত প্রতিস্থাপন: আধুনিক ডেন্টাল ইমপ্লান্টের গুরুত্ব
×

 ডা. কামরুল হাসান

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

দাঁত হারানো শুধু সৌন্দর্যগত সমস্যা নয়; এটি ধীরে ধীরে মুখগহ্বর ও পরিপাকতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ডেন্টাল ক্যারিজ, মাড়ির রোগ যেমন জিনজিভাইটিস বা পেরিওডোন্টাইটিসের কারণে অনেক সময় দাঁত এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে তা আর সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। একটি দাঁত পড়ে গেলে পাশের দাঁতগুলো ধীরে ধীরে সেই ফাঁকা জায়গার দিকে সরে যায় এবং দাঁতের সারির স্বাভাবিক বিন্যাস নষ্ট হয়।
দাঁত না থাকলে বিপরীত চোয়ালের দাঁত ধীরে ধীরে নিচের দিকে বা ওপরের দিকে নেমে আসে। এর ফলে চিবানোর ক্ষমতা কমে যায় এবং চোয়ালের হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদে ওপর ও নিচের চোয়ালের উচ্চতার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মুখের গঠনেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

আগে দাঁত প্রতিস্থাপনের জন্য সাধারণত খুলে লাগানো যায়– এমন ডেনচার ব্যবহার করা হতো। পরবর্তী সময়ে ক্রাউন ও ব্রিজের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে দাঁত প্রতিস্থাপন শুরু হয়। তবে বর্তমানে দাঁত প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি হলো ডেন্টাল ইমপ্লান্ট। এ পদ্ধতিতে চোয়ালের হাড়ের ভেতরে টাইটেনিয়ামের একটি স্ক্রু স্থাপন করা হয়, যার ওপর কৃত্রিম দাঁত বসানো হয়। এটি দেখতে ও ব্যবহার করতে প্রায় প্রাকৃতিক দাঁতের মতোই।

ডেন্টাল ইমপ্লান্টের বড় সুবিধা হলো, এতে পাশের সুস্থ দাঁত কাটতে হয় না এবং অন্য দাঁতের ওপর কোনো চাপ পড়ে না। এটি দীর্ঘস্থায়ী একটি সমাধান এবং সঠিক যত্ন নিলে সারাজীবন ব্যবহার করা সম্ভব। কথা বলা বা খাবার চিবানোর ক্ষেত্রেও কোনো অসুবিধা হয় না। তবে সবাই ইমপ্লান্ট করাতে পারবেন না। যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত, হৃদরোগ গুরুতর, মুখ ও দাঁতের পরিচর্যা ভালো নয় বা যারা অতিরিক্ত ধূমপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই ইমপ্লান্টের আগে ডেন্টাল বিশেষজ্ঞের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন জরুরি।
লেখক : সিনিয়র লেকচারার, পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ, ঢাকা।

আরও পড়ুন

×