এক্সপ্লেইনার
হান্টাভাইরাসে কতজন আক্রান্ত, করোনা পরিস্থিতির শঙ্কা আছে?
প্রমোদতরীর যাত্রীদের বিমানবন্দরে নেওয়া হলে পিপিই পরে দায়িত্ব পালন করেন কয়েকজন কর্মী। রোববার স্পেনের তেনেরিফে। ছবি: এএফপি
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ১৪:৪১ | আপডেট: ১১ মে ২০২৬ | ২০:৫০
হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শিকার প্রমোদতরী থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ সোমবারের মধ্যে শেষ হবে। নেদারল্যান্ডসের পতাকাবাহী জাহাজটি বর্তমানে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফে দ্বীপে আছে। যাত্রীদের নিতে অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের দুটি উড়োজাহাজ সেখানে পৌঁছেছে।
স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার একটি ফ্লাইটে ছয়জন যাত্রীকে সরিয়ে নেওয়া হবে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের একটি ফ্লাইট ১৮ জন যাত্রীকে নিয়ে যাবে। যে দেশগুলো তাদের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে উড়োজাহাজ পাঠায়নি, সেসব দেশের যাত্রীদেরও এ দুটি ফ্লাইটে করে নিয়ে যাওয়া হবে।
কতজন আক্রান্ত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গত শুক্রবারের হিসাব অনুযায়ী, জাহাজটি ছেড়ে যাওয়া আটজন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ডাচ দম্পতি ও এক জার্মান নাগরিক।
স্থানীয় সময় রোববার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও জনসেবা বিভাগ জানিয়েছে, জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া ১৭ জন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে একজনের শরীরে ভাইরাসের ‘অ্যান্ডিজ স্ট্রেইন (হান্টাভাইরাসের ধরন)’ পজিটিভ এসেছে। আরেকজনের মধ্যে মৃদু উপসর্গ দেখা গেছে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, একজন ফরাসি যাত্রী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া ছয়জন আক্রান্তের তালিকায় আমেরিকান ও ফরাসি দুজন অন্তর্ভুক্ত কি না, তা স্পষ্ট নয়।
শ্বাসকষ্টের সমস্যা, এরপর...
আর্জেন্টিনা থেকে কেপ ভার্দের উদ্দেশে যাত্রা করা বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে শুরুতে ১৪৭ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। গত মার্চ মাসে যাত্রা শুরুর পর পথে ৩৪ জন বিভিন্ন স্থানে নেমে যান। এক যাত্রী শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগতে শুরু করলে ৩ মে প্রথম ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কথা জানতে পারে ডব্লিউএইচও।
হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায়, তবে বিরল ক্ষেত্রে নিবিড় সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষেও সংক্রমিত হতে পারে। জাহাজ থেকে নেমে যাওয়া ৩৪ জনের একজন (ব্রিটিশ নাগরিক) দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়। ঘটনাটি গত ২ মে’র। এরও বেশ কয়েকদিন আগে জাহাজ থেকে নামা এক যাত্রী মারা যান। ৩ মে যখন জাহাজে থাকা আরেক যাত্রীর অসুস্থতার কথা জানানো হয়, তখন সেটিতে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে বলে সন্দেহ করেন চিকিৎসকরা।
জাহাজটি কেপ ভার্দেতে নোঙরের কথা থাকলেও সংক্রমণের শঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুরোধে স্পেন নোঙরের অনুমতি দেয়।
যাত্রীদের কোথায় নেওয়া হচ্ছে
তেনেরিফে দ্বীপে নোঙরের পর জাহাজ থেকে কয়েকজন যাত্রীকে উড়োজাহাজে করে মাদ্রিদে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের কানাডা, নেদারল্যান্ডস, তুরস্ক, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার কথা। নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। এরপর তাঁদের হাসপাতালে, কোয়ারেন্টিন সেন্টারে অথবা নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারি ও অতিমারি বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারিয়া ভ্যান কেরখোভ এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, জাহাজের সব যাত্রীর জন্য ৪২ দিনের কোয়ারেন্টিনের সুপারিশ করা হয়েছে। ৩০ জন ক্রু সদস্য সোমবার সন্ধ্যায় প্রমোদতরীটি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছানোর পর জাহাজটি জীবাণুমুক্ত করা হবে।
কোভিড পরিস্থিতির শঙ্কা আছে?
কোভিড-১৯ মহামারির তিক্ত অভিজ্ঞতায় আতঙ্কিত জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এই ভাইরাসটি কোভিডের তুলনায় অনেক কম সংক্রামক। সাধারণ মানুষের জন্য এতে ঝুঁকির আশঙ্কা খুবই কম।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘এটি কোভিড নয়। কোভিডের মতো বিবেচনাও করা হচ্ছে না।’ স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকিকে অতটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। তারা জানিয়েছে, জাহাজটিতে কোনো ইঁদুরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
ডব্লিউএইচও’র মারিয়া ভ্যান কেরখোভ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি করোনাভাইরাস নয়, এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ভাইরাস। মানুষ ছয় বছর আগে যে পরিস্থিতির মধ্যে ছিল, এটি মোটেও তেমন কিছু নয়।
