ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

স্বাস্থ্য

হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ২০৮

২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪২৩ শিশু

হাম ও উপসর্গে আরও সাত  শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ২০৮
×

হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুকে নেবুলাইজার দেওয়া হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতাল থেকে তোলা -সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০৯:১৫ | আপডেট: ২২ মে ২০২৬ | ০৯:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে হাম ও এ রোগের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে তিন শিশু। হামের উপসর্গে মারা গেছে চারজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১ হাজার ৪২৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২০৮ জনের শরীরে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ২৭৯-তে। এর মধ্যে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৪০৫ এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৮৩। মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৪৮৮-তে। একই সময়ে ৮ হাজার ২৭৫ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৪৬ হাজার ৪০৭ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪২ হাজার ৩৩৬ শিশু।

এদিকে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, হাম এখন বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। অতীতে হাম থাকলেও এখন এর ভয়াবহতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পোঁছেছে। আমার দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনে এ ধরনের পরস্থিতি খুব কম দেখেছি।
তিনি জানান, আগে হাম হলেও এত জটিলতা দেখা দিত না। বিশেষ করে শিশুদের আইসিইউ পর্যন্ত যেতে হয়নি। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, অপুষ্টি ও ভিটামিনের ঘাটতির কারণেও পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। 

একই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হামের টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি কাভারেজ অর্জন করা হয়েছে। সারাদেশে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে কোনো শিশু যাতে টিকার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 
তিনি আরও জানান, পর্যাপ্ত টিকা মজুত রয়েছে এবং ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে মার্কিং করে শিশু শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার কাজ চলছে।

নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালী সদর উপজেলায় এক চিকিৎসা সহকারীর ভুল চিকিৎসায় হামে আক্রান্ত শিশু মাহিয়া আক্তারের (৫) মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুরে উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের করমুল্যা বাজারের ইউনিয়ন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) মো. সিরাজ ইসলামের ফার্মেসিতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁর মোবাইল নম্বরে ফোন দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
জানতে চাইলে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, সিরাজুল ইসলাম চিকিৎসক নন। তিনি কোনোভাবেই হাম আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা করতে পারেন না। মেয়েটির পরিবার আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্পনা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যু বাড়তে থাকায় উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটি টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের দাবিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে। 
গতকাল দেওয়া স্মারকলিপিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকায় শিশুর মধ্যে হামের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির শঙ্কা, অনেক শিশু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যাওয়ায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও টিকাদান কার্যক্রমের ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে শিশুদের জীবন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নিয়মিত টিকাদান সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহিলা পরিষদ পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে– হামপ্রবণ ও দুর্গম এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালু, মাঠপর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো, আক্রান্ত শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পুষ্টি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

আরও পড়ুন

×