ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শিশুর মাথাব্যথা হলে করণীয়

শিশুর মাথাব্যথা হলে করণীয়
×

ফাইল ছবি

আবদুল্লাহ শাহরিয়ার

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ১১:৫৪ | আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ | ১২:১০

বড়দের মতো শিশুরও মাথাব্যথা হতে পারে এবং এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। শিশু এবং বড়দের মাথাব্যথার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। শিশুর মাথাব্যথা সাধারণত দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয় না; অনেক ক্ষেত্রে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই তা সেরে যায়। বড়দের তুলনায় শিশুর মাথাব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব বা বমি হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

মাথাব্যথার সাধারণ কারণ

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুর মাথাব্যথা গুরুতর কোনো কারণে হয় না। সাধারণত অতিরিক্ত গরমে ঘোরাঘুরি, বদহজমের সমস্যা বা অস্বস্তি, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, সারাক্ষণ ডিজিটাল ডিভাইসের (মোবাইল, ট্যাবলেট) স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, এমনকি স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা থেকে শিশু মাথাব্যথার শিকার হতে পারে। অনেক শিশু আবার স্কুল ফাঁকি দেওয়ার জন্য মাথাব্যথার অজুহাত দিয়ে থাকে। খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর কোনো রোগের কারণে শিশুর মাথাব্যথা হতে পারে।

কারণ অনুযায়ী করণীয়

চোখের সমস্যা: অনেক সময় দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে শিশুর মাথাব্যথা হয়। মাথাব্যথার পাশাপাশি যদি শিশুর চোখে কোনো উপসর্গ দেখা দেয়, যেমন– পড়ার সময় চোখ দিয়ে পানি পড়া, বই খুব কাছ থেকে পড়া বা চোখ কুঁচকে দেখা, তাহলে দ্রুত চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সঠিক পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করলেই সাধারণত এ ধরনের মাথাব্যথা সেরে যায়।

রোদ ও গরম: বেশির ভাগ শিশু অতিরিক্ত রোদ বা গরম সহ্য করতে পারে না। অনেক সময় দেখা যায়, স্কুলে পিটি করার বা অ্যাসেমব্লিতে দাঁড়িয়ে থাকার সময় শিশুর মাথাব্যথা শুরু হয়। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে শিশুকে ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করতে হবে। রোদে দীর্ঘক্ষণ দৌড়াদৌড়ি করতে নিষেধ করতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবককে স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে শিশুর রোদজনিত সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।

মাইগ্রেন ও অন্যান্য রোগ: শিশুর মাথাব্যথা যদি বংশগত হয় এবং চিকিৎসকের মাধ্যমে মাইগ্রেন (Migraine) হিসেবে ডায়াগনসিস হয়, তবে নির্দিষ্ট নিয়ম ও ওষুধ মেনে চলতে হবে। সাইনোসাইটিস (Sinusitis) বা খুব রেয়ার ক্ষেত্রে ব্রেইন টিউমারের কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে ব্যথা সব সময় খুব তীব্র নাও হতে পারে, অনেক সময় বমি করার পর ব্যথা হালকা হয়ে যায়। শিশুর মৃগীরোগ (Epilepsy) থাকলেও মাথাব্যথা হতে পারে, এমনকি খিঁচুনি ছাড়াও।

প্যারাসিটামল সেবন ও চিকিৎসা

আজকাল অনেক অভিভাবকই শিশুর মাথাব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই প্যারাসিটামল বা ব্যথার ওষুধ খাইয়ে দেন। এটি মোটেও উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথার ওষুধ শিশুকে সেবন করানো থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশুর মাথাব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, ঘন ঘন হতে থাকে বা সময়ের সঙ্গে ব্যথার তীব্রতা বাড়তে থাকে, তবে কারণ অনুযায়ী শিশু বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ বা নিউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক ডায়াগনসিস শিশুর সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

লেখক : অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার: জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট।

আরও পড়ুন

×