ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার: নীরব ঘাতক
ডা. ফারজানা ইসলাম বীথি
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
নারী প্রজননতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো ডিম্বাশয় বা ওভারি। দুঃখজনক হলেও সত্যি, নারীর স্তন ক্যান্সার বা জরায়ুমুখের ক্যান্সারের পাশাপাশি ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার একটি মরণঘাতী রোগ হিসেবে বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেক ক্যান্সারের তুলনায় একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ বা সাইলেন্ট কিলার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কারণ, এর প্রাথমিক লক্ষণ অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং সহজে ধরা পড়ে না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা পৃথিবীতে বছরে তিন লক্ষাধিক নারী এ রোগে আক্রান্ত হন এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে বিশাল এক অংশ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিবছর ৮ মে আন্তর্জাতিক ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার দিবস পালিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ক্যান্সার শনাক্ত করতে পারলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের প্রধান সমস্যা হলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগটি যখন অ্যাডভান্স স্টেজে বা ছড়িয়ে পড়ার পর শনাক্ত হয়, তখনই লক্ষণ প্রকাশ পায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে চিকিৎসাক্ষেত্রে এখনও এই রোগ শনাক্তকরণের কোনো নির্ভরযোগ্য স্ক্রিনিং বা সহজ পরীক্ষা তৈরি হয়নি। তবে কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক পরিবর্তনের দিকে নারীদের সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। যেমন– দীর্ঘস্থায়ী ক্ষুধামান্দ্য, পেট সব সময় ভরা মনে হওয়া, কোনো কারণ ছাড়াই হুট করে শরীরের ওজন কমে যাওয়া, পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া, পেটে ভারী ভাব অনুভব করা বা তীব্র ব্যথা হওয়া। এই লক্ষণ নিয়মিত দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
রোগ শনাক্তকরণের জন্য নিয়মিত বার্ষিক চেকআপ করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। লক্ষণ টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো পেটের আলট্রাসনোগ্রাম এবং রক্তের টিউমার মার্কার বা সিএ ১২৫ পরীক্ষা করা জরুরি। ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের সফল চিকিৎসার মূল চাবিকাঠি হলো দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ। শুরুর দিকে রোগ ধরা পড়লে অপারেশনের মাধ্যমে টিউমার বা আক্রান্ত অংশ সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। অনেক সময় অপারেশনের পাশাপাশি কেমোথেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন হয়। চিকিৎসা-সংক্রান্ত জটিলতা, দেরিতে রোগ নির্ণয় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণেই এ রোগের মৃত্যুর হার এত বেশি। শুরুর দিকে সচেতনতাই একজন নারীকে এ মরণব্যাধির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
লেখক: প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ এবং গাইনি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ।
- বিষয় :
- ক্যান্সার