ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ওরাল ক্যান্সার: প্রতিকারে যেসব বিষয় মেনে চলা জরুরি

ওরাল ক্যান্সার: প্রতিকারে যেসব বিষয় মেনে চলা জরুরি
×

 ডা. রওশন সাইয়ারা নাওয়াল

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ওরাল ক্যান্সার বা মুখগহ্বরের ক্যান্সারের সংখ্যা। বাংলাদেশেও এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ মানুষ রোগটি সম্পর্কে সচেতন না থাকায় অনেক দেরিতে চিকিৎসকের কাছে আসেন। ফলে চিকিৎসা জটিল হয়ে যায় এবং মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়। অথচ শুরুতেই রোগ শনাক্ত করা গেলে ওরাল ক্যান্সার অনেকাংশেই প্রতিরোধ ও সফলভাবে চিকিৎসা সম্ভব।

ওরাল ক্যান্সার কী?
মুখের ভেতর বা আশপাশের অংশে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি পেলে তাকে ওরাল ক্যান্সার বলা হয়। এটি সাধারণত জিহ্বা, মাড়ি, ঠোঁট, গালের ভেতরের অংশ, মুখের তালু কিংবা গলার অংশে হতে পারে।

কেন বাড়ছে ওরাল ক্যান্সার?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষতিকর অভ্যাস ও অসচেতনতার কারণেই এ রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো– ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ, জর্দা, গুল, সাদাপাতা বা পান-সুপারি খাওয়া, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ। মুখের অপরিচ্ছন্নতা, ভাঙা দাঁত বা ধারালো দাঁতের কারণে দীর্ঘদিন 
ঘা হওয়া। এইচপিভি ভাইরাস সংক্রমণ, বিশেষ করে জর্দা ও সুপারি সেবনের কারণে অনেক মানুষ অল্প বয়সেই মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকিতে পড়ছেন।

যেসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়
ওরাল ক্যান্সারের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে, যেগুলো দ্রুত শনাক্ত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ; যেমন– মুখে দীর্ঘদিনের ঘা, যা সহজে ভালো হয় না, জিহ্বা বা মাড়িতে সাদা বা লাল দাগ, মুখে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা, চিবাতে বা গিলতে কষ্ট হওয়া, মুখ পুরোপুরি খুলতে সমস্যা, দাঁত নড়ে যাওয়া, গলায় বা চোয়ালে অস্বাভাবিক ফোলা। অনেক সময় ব্যথা না থাকায় রোগীরা বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু দুই সপ্তাহের বেশি কোনো ঘা বা অস্বাভাবিকতা থাকলে অবশ্যই ডেন্টিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় উপায়
ওরাল ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সাধারণ অভ্যাস পরিবর্তন করলেই ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব। 

কী করবেন?
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সম্পূর্ণ পরিহার করুন।
পান-জর্দা ও সুপারি খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন।
নিয়মিত দাঁত ও মুখ পরিষ্কার রাখুন।
বছরে অন্তত দুবার ডেন্টাল চেকআপ করুন। 
মুখে দীর্ঘদিন ঘা থাকলে অবহেলা করবেন না। স্বাস্থ্যকর খাবার ও ফলমূল বেশি খান।

প্রাথমিক শনাক্তকরণ কেন জরুরি?
ওরাল ক্যান্সার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে, তাহলে চিকিৎসার সফলতার হার অনেক বেশি। কিন্তু দেরিতে শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির মতো জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তাই নিজের মুখের যে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া এবং নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করানো অত্যন্ত জরুরি।

শেষ কথা 
একটু সচেতনতা, একটি সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ– এ তিনটি বিষয়ই ওরাল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র। মনে রাখতে হবে, মুখের ছোট একটি ঘাও কখনও কখনও বড় বিপদের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই অবহেলা নয়, সচেতনতাই হোক সুস্থ জীবনের প্রথম পদক্ষেপ।
লেখক: বিডিএস, ইন্টার্ন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

আরও পড়ুন

×