ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হৃদ্‌রোগ ঠেকাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ

হৃদ্‌রোগ ঠেকাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ
×

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশন আয়োজিত সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:৪৭

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং খাবারে লবণের ব্যবহার কমানোর সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

আজ বুধবার বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সেমিনারে এসব সুপারিশ করা হয়। রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘এভরি হার্টবিট ম্যাটার্স’।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ শুধু ব্যক্তির সচেতনতার ওপর নির্ভর করে না। কার্যকর জনস্বাস্থ্যনীতি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।

তিনি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে তিনটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এগুলো হলো—তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী খাবারে লবণের ব্যবহার কমানো। সমন্বিতভাবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ফাজিলা-তুন-নেছা মালিক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর হৃদ্‌রোগে দুই কোটি পাঁচ লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। হৃদ্‌রোগ এখনও বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, শুধু চিকিৎসা নয়, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় আরও গুরুত্ব দিতে হবে। জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশন গবেষণা, জনসচেতনতা ও নীতিগত উদ্যোগের মাধ্যমে সারা বছর হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে কাজ করছে।

সেমিনারে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসাইন বলেন, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির কারণগুলো প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে হৃদ্‌রোগের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্যশিক্ষা ও জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরীফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কর্মস্থল তামাকমুক্ত করার পাশাপাশি ই-সিগারেট ও নতুন ধরনের নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তামাক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং হৃদ্‌রোগ দ্রুত শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে চিকিৎসক নিয়োগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খোন্দকার আবদুল আউয়াল রিজভী বলেন, হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তামাকের ব্যবহার, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদ্‌রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি।

তিনি বলেন, সরকার, চিকিৎসক, গবেষক, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। গবেষণা, চিকিৎসাসেবা ও জনসচেতনতার পাশাপাশি হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে নীতিগত উদ্যোগ এগিয়ে নিতে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশনের যুগ্ম মহাসচিব নওশাদ হোসাইন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনা মূল্যে হৃদ্‌রোগ পরীক্ষা, সচেতনতামূলক পোস্টার ও লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। ঢাকার বাইরে ফাউন্ডেশনের ৪৫টি সহযোগী সংগঠনও নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে।

এর আগে সোমবার বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনের এলাকা থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

আরও পড়ুন

×