ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পোড়াজনিত জটিলতা প্রতিরোধ ও সঠিক পথে চিকিৎসা

পোড়াজনিত জটিলতা প্রতিরোধ ও সঠিক পথে চিকিৎসা
×

 ডা. মাসরুর-উর-রহমান আবীর

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ | ১১:৫৪

পুড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে আগুন, গরম তরল, বিদ্যুৎ, এসিড বা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। যদিও প্রথম চিকিৎসার পর রোগী অনেকটা সুস্থ মনে হতে পারে, তবুও পোড়াজনিত দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হওয়ার প্রবণতা থাকে।

এ ধরনের জটিলতা রোধ করতে প্রথমেই প্রয়োজন একটি বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। তার নির্ধারিত চিকিৎসাক্রম– ড্রেসিং, ওষুধ বা অস্ত্রোপচার– যদি সঠিক সময়ে ও সঠিক পন্থায় নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়। ভরণপোষণ ও পুনর্বাসনের ধাপেও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ফিজিওথেরাপিস্টের গুরুত্ব অপরিহার্য। তারা রোগীর হাত-পা বিকলাঙ্গতা প্রতিরোধে ব্যায়াম নির্দেশ করবেন এবং প্রয়োজনে স্প্লিন্ট পরানোর পরামর্শ দেবেন।

যদি পোড়াজনিত আঘাতে হাত-পা বা আঙুল বাঁকা হয়ে যায়, তাহলে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ব্যায়াম করা যেতে পারে। কিন্তু যদি বিকলাঙ্গতা বেশি গঠন হয়, তাহলে সাধারণত অস্ত্রোপচারের পথেই জটিলতা সংশোধন করা হয় এবং অনেক সময় একাধিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর জন্য স্প্লিন্ট বা প্লাস্টারের মাধ্যমে অঙ্গকে স্থির রাখা হয় এবং উঁচু অবস্থানে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া নির্ধারিত ব্যায়াম নিয়মিত করতে হয়– অপারেশনের পর যদি এই ব্যায়াম শিথিলভাবে করা হয়, তাহলে আগের মতো জটিলতা আবার ফিরে আসতে পারে। তাই সার্জনের পরামর্শ ও ব্যায়াম নির্দেশিকা মেনে চলা অপরিহার্য।

পুড়ে যাওয়ার থেকে শুরু করে পুরো পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জনের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত। দীর্ঘ মেয়াদে যদি হাত-পা বা আঙুল বাঁকা অবস্থায় থাকে, তাহলে স্থায়ী বিকৃতি হয়ে যেতে পারে, যা পরে অস্ত্রোপচার করেও পুরোপুরি চাঙ্গা করা সম্ভব নাও হতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মিত ব্যায়াম করলে এ ধরনের দৃষ্টিকোণীয় জটিলতা অনেকাংশে প্রতিরোধযোগ্য।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক (প্লাস্টিক সার্জারি), জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং কনসালট্যান্ট, মনোয়ারা হসপিটাল, সিদ্ধেশ্বরী রোড, ঢাকা।

আরও পড়ুন

×