মরটাল কমব্যাট টু: ২৪ ঘণ্টায় ভেঙেছে সব রেকর্ড
ছবি-সংগৃহীত
মীর সামী
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ১৩:৪৯ | আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ | ১৩:৫৫
২০২১ সালের ‘মরটাল কমব্যাট’ সিনেমার শেষ দৃশ্যে দেখা গিয়েছিল, কোল ইয়ং ও তাঁর সহযোদ্ধারা আর্থ্রিল্মের পক্ষে প্রথম যুদ্ধে জয়লাভ করলেও বিপদ কাটেনি। সেই যুদ্ধের পর কেটে গেছে বেশ কিছু সময়। কোল ইয়ং, লিউ কাং, স্কর্পিয়ন, সাব-জিরো, সোনিয়া, জ্যাক্স আর ক্যানো–সবাই ফিরে এসেছেন নিজ নিজ জীবনে। আর্থ্রিল্মের আকাশে তখনও বজ্রপাত হয় রেইডেনের হাতে, কিন্তু সেই বজ্রের আড়ালে শোনা যায় শাও কানের ভয়ংকর হাসির শব্দ।
বাইরের পৃথিবীর অন্ধকার সিংহাসনে বসে শাও কান দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রিল্ম ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর চোখে পৃথিবী ধ্বংস করার একটাই পথ–আর্থ্রিল্মের যোদ্ধাদের ভেতর থেকে বিভক্ত করা, একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো। সেই কাজে সহায়তা করবেন কুখ্যাত ‘মরটাল কমব্যাট টুর্নামেন্ট’; যেখানে নিয়ম একটাই–তিন রাউন্ড নয়, এক রাউন্ড। মরো অথবা মেরে বাঁচো। সেখান থেকেই শুরু হয় ‘মরটাল কমব্যাট ২’ সিনেমার কাহিনি। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন সাইমন ম্যাককুইড।
এবারের সিনেমার শুরুতে দেখা যায় লস অ্যাঞ্জেলেসের এক বিলাসবহুল মঞ্চে জনি কেজ, যার আসল নাম জনাথন কার্লটন। একটি অ্যাকশন সিনেমায় শুটিং করছেন তিনি। তাঁর দেহের গতিবিধি, পাঞ্চ ও কিকের স্টাইল দেখে বোঝা যায়, তিনি সাধারণ অভিনেতা নন। তাঁর পূর্বপুরুষেরাও একসময় আর্থ্রিল্মের যোদ্ধা ছিলেন, কিন্তু জনি সেই উত্তরাধিকারকে কেবল ট্রেডমার্ক করা কৌশল বানিয়ে ফেলেছেন। হঠাৎ সেটে আক্রমণ চালান বরফশক্ত এক যোদ্ধা বি-হান, অর্থাৎ সাব-জিরো। জনি প্রথমে ভাবে এটি কোনো প্রচারণার ফাঁদ, কিন্তু যখন বরফের অস্ত্র তাঁর গায়ে লাগে, বাস্তবতা টের পান। কোনো রকমে পালিয়ে গিয়ে তিনি আশ্রয় নেন পুরোনো এক মার্শাল আর্ট একাডেমিতে, যেখানে দেখা হয় লিউ কাং ও কুং লাওয়ের সঙ্গে।
অন্যদিকে, আউটওয়ার্ল্ডের রাজধানীতে শাও কান তাঁর সেনাপতি শাং সুং ও কুয়ান চিকে নির্দেশ দেন–আর্থ্রিল্মের যোদ্ধাদের নির্মূল করতে হবে, কেবল টুর্নামেন্ট নয়, সরাসরি যুদ্ধ ডাকতে হবে। সেই যুদ্ধের অগ্রদূত হয়ে আসেন কিতানা, আউটওয়ার্ল্ডের রাজকন্যা যিনি জানেন না তাঁর আসল বাবা কিং জেরোডকে হত্যা করেছেন শাও কানই।
রেইডেন (বজ্রের দেবতা) পৃথিবীর সব যোদ্ধাকে ডেকে পাঠান ‘উ পাং’ মন্দিরে। সেখানে উপস্থিত হন কোল ইয়ং, জ্যাক্স, স্কর্পিয়ন (যার আসল নাম হানজো হাসাশি), মাইলিনা (শাং সুংয়ের তৈরি ক্ষিপ্র ও নৃশংস সন্তান) এবং সন্যা ব্লেড। রেইডেন ঘোষণা করেন, এবারের মরটাল কমব্যাট হবে ‘ডেডলি অ্যালায়েন্স’-এর অধীনে; যার নিয়ম–প্রতিটি যুদ্ধে পরাজিত না হলে মৃত্যু অনিবার্য। জনি প্রথমে সবকিছুকে উপহাস করেন। তিনি বলেন, ‘আমি অভিনেতা, যোদ্ধা নই।’ কিন্তু যখন তিনি দেখেন স্কর্পিয়ন কীভাবে এক নিঃশ্বাসে দশজন শত্রুকে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছেন, রীতিমতো আঁতকে ওঠেন। শুরু হয় ট্রেনিং।
একপর্যায়ে হঠাৎ হামলা চালায় শাও কানের লোকেরা। সেই লড়াইয়ে জনি তাঁর পূর্বপুরুষের ‘শ্যাডো কিক’ ও ‘নাট ক্র্যাকার’ মুভ ব্যবহার করে বাঁচেন। ঠিক তখনই তাঁর মধ্যকার শক্তি জেগে ওঠে। অন্যদিকে কিতানা তাঁর অনুগত সহচরী জেডকে নিয়ে গোপনে আর্থ্রিল্মে আসেন। একদিন রাতে কোল ইয়ংয়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। কিতানা জানান, শাও কান কেবল যুদ্ধ নয়, বরং আর্থ্রিল্মের ভেতরে বিভাজন তৈরি করছেন। কোল তাঁকে বিশ্বাস করতে চান না।
শাং সুংয়ের জাদুতে জ্যাক্স, সন্যা ও কুং লাও বন্দি হন। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় আউটওয়ার্ল্ডের লিভিং ফরেস্টে, যেখানে গাছেরাও যোদ্ধাদের আক্রমণ করে। কোল, লিউ কাং, জনি ও স্কর্পিয়ন তাদের উদ্ধারে যান। সিনেমার শেষে টুর্নামেন্টের ফাইনাল রাউন্ড বসে। শাও কান নিজে মাঠে নামেন। কোল ইয়ং, লিউ কাং, জনি কেজ ও কিতানা একসঙ্গে লড়াই করেন। শাও কানের শক্তির সঙ্গে তারা সহসাই পেরে ওঠেন না। শেষ পর্যন্ত জনি কেজ তাঁর ‘আর্কনা শক্তি’ পুরোদমে ব্যবহার করেন। তার ‘আইকনিক পোজ’ থেকে এমন শক্তির ঢেউ বের হয় যা শাও কানের বর্ম ফাটিয়ে দেয়। এতে শাও কান কিছু সময়ের জন্য দুর্বল হয়ে পড়েন। শাও কান মরে না, বরং পিছু হটে প্রতিজ্ঞা করেন, ‘আমি ফিরব।’
পরিচালক সাইমন ম্যাককুইড এই গল্পকে কেবল অ্যাকশন দিয়ে ভরিয়ে দেননি; বরং প্রতিটি চরিত্রকে দিয়েছেন নিজস্ব জায়গা। ক্যামেরা কখনও থেমে যায় চরিত্রের মুখে; যেখানে যুদ্ধের আগে দেখা যায় দ্বিধা, ভয়, আর নীরব প্রতিজ্ঞা। আবার কখনও বিস্ফোরিত হয় ভয়ংকর লড়াই, যেখানে প্রতিটি আঘাতের সঙ্গে যেন কেঁপে ওঠে পর্দা।
এবারের সিনেমায় প্রথম সিনেমার চেনা চরিত্ররা ফিরছেন। সোনিয়া ব্লেড ও ক্যানোর ভূমিকায় যথাক্রমে ফিরছেন জেসিকা ম্যাকনামি ও জোশ লসন। আছেন লুডি লিন (লিউ কাং), মেহাদ ব্রুকস (জ্যাক্স), লুইস ট্যান (কোল ইয়ং), চিন হান (শাং সুং), তাদানোবু আসানো (লর্ড রেইডেন)। জো তাসলিম ও হিরোয়ুকি সানাদাকে দেখা যাবে বি-হান ও নুব সাইবট চরিত্রে। হানজো হাসাশি অভিনয় করেছেন স্কর্পিয়ন চরিত্রে। ম্যাক্স হুয়াং ফিরছেন কুং লাও হয়ে।
তারা ছাড়াও এই সিনেমায় নতুন অভিনয় করেছেন জনি কেজের ভূমিকায় কার্ল আরবান, কিতানা চরিত্রে অ্যাডলিন রুডলফ, জেডের ভূমিকায় টাটি গ্যাব্রিয়েল, শাও কান চরিত্রে মার্টিন ফোর্ড। রাজা চরিত্রে জেরোড (ফ্ল্যাশব্যাকে) ডেসমন্ড চিয়াম। রানী সিন্ডেল চরিত্রে আছেন আনা থু গুয়েন।
ড্যামন হেরিম্যান অভিনয় করেছেন কুয়ান চির ভূমিকায়; যিনি ২০২১ সালের সিনেমায় কাবালের কণ্ঠ দিয়েছিলেন, এবার তিনি প্রত্যক্ষ প্রতিপক্ষ।
‘মরটাল কমব্যাট ২’-এর প্রিমিয়ার হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেসের টিসিএল চাইনিজ থিয়েটারে ২৭ এপ্রিল। ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্স পরিবেশনায় সিনেমাটি আগামীকাল বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে।
এরই মধ্যে সিনেমার প্রকাশ হওয়া ট্রেলার সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ট্রেলার প্রকাশের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ১০ কোটি ৬৮ লাখ (১০৬.৮ মিলিয়ন) ভিউ হয়েছে; যা কোনো রেড-ব্যান্ড ট্রেলারের জন্য সর্বকালের সেরা ওপেনিং। সেই ট্রেলারটি ছড়িয়ে পড়েছে ৬৮টি দেশে, ৪৭টি ভাষায়। ফলে আশা করাই যায়, বিশ্বব্যাপী দর্শক এই সিনেমার জন্য পাগলপ্রায়।
