চলতি অর্থবছরের ১০ মাস
ইইউতে পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা, সামান্য বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ১৩:৩১
দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ২ দশমিক ৮২ শতাংশ। তবে প্রধান বাজার ইইউ থেকে কমেছে ৪ শতাংশের বেশি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক পোশাক রপ্তানির ওপর হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানিতে বড় ধরনের পতনই সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচক করেছে।
আলোচ্য সময়ে ইইউ অঞ্চলে ১৫ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৪৯ শতাংশ। তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে অর্থনৈতিক ধীরগতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের কারণে পোশাকের চাহিদা কমেছে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলো নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানিতে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সামান্য ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে দেশটিতে ৬ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ০ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
এ ছাড়া কানাডা ও যুক্তরাজ্যের বাজারেও কিছুটা ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। কানাডায় রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে বেড়েছে ০ দশমিক ৩০ শতাংশ। তবে এসব বাজারের সীমিত প্রবৃদ্ধি ইইউতে রপ্তানি কমার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
অপ্রচলিত বা নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারেও দুর্বলতা দেখা গেছে। এসব বাজারে রপ্তানি আয় কমেছে ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। পণ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ওভেন খাতে কমেছে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী মাসগুলোতেও পোশাক খাতে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতাও বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
- বিষয় :
- পোশাক কারখানা
- পোশাক খাত
- শিল্প খাত
- অর্থনীতি
