করোনাভাইরাস ঠেকাতে ব্যাংক নোট জীবাণুমুক্ত করছে চীন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ২২:১৯ | আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ২২:২৮
করোনাভাইরাসের কারণে চীনের অর্থনীতিতে এরই মধ্যে প্রায় আড়াই ট্রিলিয়নের বেশি ক্ষতি হয়েছে। এরপর সেখানকার আক্রান্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে ব্যাংক নোট। এর ফলে দেশটির অর্থনীতিতে নতুন করে ধাক্কা লাগল। করোনাভাইরাস নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর অংশ হিসেবে চীন ব্যবহৃত ব্যাংক নোট তুলে নিচ্ছে ও জীবাণুমুক্ত করছে। শনিবার দেশটির কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপি ও বিবিসির।
চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, ব্যাংকগুলো উহানের নোটগুলোকে জীবাণুমুক্ত করতে অতিবেগুনি আলো ও উচ্চ তাপমাত্রা ব্যবহার করছে। তবে প্রাদুর্ভাবের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন এলাকার নোটগুলো সাত থেকে চৌদ্দ দিনের জন্য সিল করে আলাদা সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পুনরায় ব্যবহারের আগে তা করা হচ্ছে।
চীনে ৬৬ হাজারের বেশি লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ও ২৮টি দেশে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ভাইরাস রোধে জনসমাগম স্থানগুলোকে জীবাণুমুক্ত করতে এবং মানুষের মধ্যে যোগাযোগ যতটা সম্ভব কমাতে বলা হয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে।
জানুয়ারির শেষ দিকে উহান শহরে লকডাউন ঘোষণার ঠিক কয়েকদিনের মধ্যেই সারাদেশের র্ফামেসি থেকে জীবাণুনাশক ওষুধ ও মাস্ক বিক্রি শেষ হয়ে গিয়েছিল। যেখানে কভিড-১৯ ভাইরাসটিতে দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে এ অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে দেশটিকে। এছাড়া অফিস ভবনগুলোর লিফটে টিস্যুর প্যাকেট রাখা হয়েছিল যেন সেখানে আসা লোকজন লিফটের বোতাম চাপার সময় টিস্যু ব্যবহার করে।
এদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ঠেকাতে বেইজিং শহরে ফিরে আসা সবাইকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের কঠিন শাস্তি পেতে হবে। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ নির্দেশের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতেই নতুন এ নিয়ম চালু করা হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আফ্রিকার দেশ মিসরে এক ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা নিশ্চিন্তের পর নতুন এ পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হলো।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ছুটি কাটিয়ে বেইজিংয়ে ফিরে আসা বাসিন্দাদের নিজস্ব কোয়ারেন্টাইন বা নির্ধারিত কোয়ারেন্টাইন ভেন্যুতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চীনের উল্লেখযোগ্য উৎসব চন্দ্রবর্ষের ছুটি কাটিয়ে নানা প্রান্ত থেকে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। এ পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ের ভাইরাস সুরক্ষা ওয়ার্কিং গ্রুপ শুক্রবার এ নির্দেশ জারি করে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশটির সরকার এ বছর চন্দ্রবর্ষের ছুটি বাড়িয়ে দেয়। বেইজিংয়ে দুই কোটির বেশি লোকের বসবাস। করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১৬শ' ছাড়িয়েছে বলে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা রোববার জানিয়েছে। চীনের বাইরে ২৮টি দেশের পাঁচ শতাধিক মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (এইচডব্লিউও) পরিচালক টেডরস আধানম গেব্রিয়াসাস বলেন, এইচডব্লিউওর নেতৃত্বে চীনে প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে তদন্ত করতে চলতি সপ্তাহের শেষে একটি মিশন শুরু হবে। যার মূল উদ্দেশ্য হবে কোভিড-১৯ নামের ভাইরাসটি আসলে কীভাবে ছড়াচ্ছে এবং এর মাত্রা কতটা ভয়াবহ তা যাচাই করা।
