ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে নেওয়ার আহ্বান দেবী শেঠির
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২০ | ০৭:৫০ | আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২০ | ০৮:১৯
ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে নিতে হবে। এছাড়া ধীরে ধীরে লকডাউনের কারণে তৈরি হওয়া সীমাবদ্ধতা শিথিল করতে হবে। ভারতের স্বনামধন্য চিকিৎসক দেবী শেঠি তার দেশকে এই পরামর্শ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বেনেট বিশ্ববিদ্যালয়/টাইমস স্কুল অব মিডিয়া আয়োজিত ‘গ্লোবাল অনলাইন কনফারেন্স অন কোভিড-১৯: ফলআউট অ্যান্ড ফিউচার’ শীর্ষক আলোচনাকালে দেবী শেঠি এ পরামর্শ দেন।
দেবী শেঠি মনে করেন, করোনার প্রকোপ কমাতে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেশে লকডাউন জরুরি ছিল। তবে এর সময়সীমা বাড়লে এতে করে অর্থনীতিতে বড় ধরণের প্রভাব পড়বে।
মূলত একে কেন্দ্র করে এবার লকডাউন তুলে নিতে হবে বলে দাবি করলেন নারায়না হাসপাতালের চেয়ারম্যান চিকিৎসক দেবী শেঠি। তিনি আরও বলেন, "আমরা বলতেই পারি যে মৃত্যুর হার অন্তত পক্ষে ৫০ শতাংশ কমিয়ে ফেলেছি কেবল এই লকডাউনের কারণেই। কারণ অনেক তাড়াতাড়িই ভারত লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুনিয়ার অনেক দেশ এরকম প্রাথমিক পর্যায়েই লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। আমাদের উচিত ধারাবাহিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে লকডাউন প্রত্যাহার করা এবং বর্তমান পরিস্থিতি থেকে সুরাহা পেতে তথাকথিত নীতি প্রণয়নের রাস্তায় না হাঁটা।'
দেবী শেঠি বলেন, 'হটস্পট ছাড়া কোন স্বাস্থ্যভিত্তিক কারণে লকডাউন জারি রাখার আর কোনও মানে হয় না। কর্নাটকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম যাতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট শুরু করা হয় কিন্তু তা ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ যাতে হয় সেটাও নিশ্চিত করা। পাশাপাশিই দোকানগুলোও যাতে সকাল থেকেই আরও বেশ কিছুক্ষণ খোলা থাকে, যাতে বেশি মানুষ সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভিড় না করেন।'
তবে নয়াদিল্লির এইমসের চিকিৎসক রণদীপ গুলেরিয়ার বলেছেন, ‘পরবর্তী কয়েকটা সপ্তাহ খুবই চ্যালেঞ্জের। সময়মাফিক লকডাউনের কারণে যদিও দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাটা খুব একটা বাড়বে না। তবে অনকে তথ্যই প্রয়োজন এটা পরিষ্কার করতে যে, লকডাউন এখনও চালানো উচিত কি না?’
গুলেরিয়া আরও বলেন, ‘পরবর্তী কয়েকটা মাস হটস্পটগুলির থেকে যাতে আর কোনও মতেই সংক্রমণ না হয়, তার জন্য অত্যন্ত জরুরি হচ্ছে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং অবলম্বন করে চলা। একই সঙ্গে জরুরি বার বার হাত ধোয়াও। এগুলি মেনে চললেই পজিটিভ কেস আর বাড়বে না। আর দেশের যা স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এই মুহূর্তে রয়েছে তাতেই কাজ হয়ে যাবে। এই জন্যই করোনা যুদ্ধ জয় সম্ভব। হাসপাতালে না হলেও সম্প্রদায়ে।’
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউটের এর প্রফেসর আশিস কুমার ঝা বলেন , ‘মহামারী এই রোগকে রোখার কেবলই দুটো উপায়- সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং এবং আইসোলেশন কোয়ারানটিন স্ট্র্যাটেজি খুঁটিয়ে টেস্ট করা। প্রাথমিক ভাবেই করোনার ধাক্কা ভারত খুব ভালো ভাবেই সামলেছে। তবে টেস্টিং এবং আইসোলেশন এখনও একটা চ্যালেঞ্জ।'
ডাক্তার ঝা আরও বলেন, ‘পাশাপাশিই ভারতকে টেস্টিং এবং আইসোলেশন নিয়ে আরও দ্রুতগতিতে কাজ করতে হবে। সংক্রমণ তবেই বন্ধ করা সম্ভব। এর জন্য আর্থিক খরচ, টেস্ট কিটের সর্টেজ এইসব বিষয়গুলিকেও খুঁটিয়ে লক্ষ্য করতে হবে।’
