হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে ট্রাম্পের যত ভুল
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৪৫ | আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ০২:৩৭
করোনার কালে মানুষের শুধু শরীর নয়, মাথাও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। অন্তত হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নামের বাতজ্বরের ওষুধটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘যুদ্ধংদেহী’ ভাব দেখে তা-ই মনে হয়েছে। কীভাবে যেন করোনাক্রান্ত বিশ্বে দিশেহারা মানুষের মধ্যে রটে গেছে, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় কাজ করে থাকে। তারপর ভারত তাদের উৎপাদিত এই ওষুধটি রপ্তানি না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ‘গুজব’টিকে লুফে নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ভারতের সিদ্ধান্ত শুনে বলে বসলেন, হয় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন দাও, নইলে চরম পরিণতির জন্য তৈরি হও।
মাত্র কদিন আগে ভারতে এসে গদ গদ বন্ধুত্বের কথা বলে গেছেন যে ট্রাম্প, সে ট্রাম্পের কাছে এমন হুমকি শুনে কাত হয়ে গেল ভারত। পরের দিনই বলল, নেহাত ‘মানবিক’ কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো দেশগুলোতে তারা পাঠাবে ওষুধটি।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে কোনো কিছুই না জেনে বুঝে পাগলের মতো ভারতের ওপর হুমকি ধামকি শুরু করেছিলেন, তার প্রমাণ পাওয়া যায় সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ক্লোরোকুইনকে কোভিড-১৯ এর নিদান ভেবে বসে আছেন। কিন্তু তার ধারণা শুধু একদিকে নয়, অনেকদিকেই ভুল।
গত মাসের ২৯ তারিখে ট্রাম্প বলে বসলেন, ‘তিনদিনের মধ্যেই আমরা কোভিডের ওষুধ পেতে যাচ্ছি।’
কিন্তু হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকে করোনার প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা যায় কিনা এ নিয়ে যারা গবেষণা করছিলেন, তারা বললেন, তিনদিন নয়, এটা তিনমাসও হতে পারে। সুতরাং বোঝা গেল করোনায় শঙ্কিত ট্রাম্প মহামারি থেকে রেহাই পাওয়ার আশায় অবাস্তব চিন্তায় মগ্ন হয়েছিলেন। অবশ্য করোনার প্রাদুর্ভাবের প্রাক্কালে এই ট্রাম্পই করোনাকে সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার চেয়ে বড় কিছু ভাবতে রাজি হননি। চীনের উহানে যখন মানুষ মরছে, তখন বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ইনফ্লুয়েঞ্জায় এর চেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়।
৫ এপ্রিল হোয়াইট হাউসের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প ফ্রান্সের গবেষকদের ছোট একটি দলের উদ্ধৃতি দিয়ে বললেন, আমার হাতে বেশ কয়েকটি সফলতার খবর রয়েছে। ফ্রান্সের চিকিৎসকরা বলেছেন, তারা ক্লোরোকুইন ব্যবহার করে চমৎকার ফল পেয়েছেন।
অবশ্য এরও আগে ২১ মার্চ তার টুইটে দেখা যায় উত্তেজনাকর এক পোস্ট। তিনি বলেন, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন আর প্লাস অ্যাজিথ্রোমাইসিন মিলে ওষুধের ইতিহাসে এক বৃহৎ যুগান্তকারী বিষয় হতে যাচ্ছে।
কিন্তু ট্রাম্পের এই উচ্ছ্বাসে জল ঢেলে দেন ফ্রান্সের গবেষকরা। যে জার্নালটিতে ক্লোরোকুইনকে সম্ভাব্য প্রতিষেধক মনে করা হয়েছিল, তারাই ফের লিখে দেয়, বিষয়টি এখন ব্যাপক গবেষণা ও চিন্তাভাবনার দাবি রাখে। এখনই এ নিয়ে চূড়ান্ত কথা বলার সময় আসেনি।
এর মধ্যে কিছু লোক বলে বসে, ইচ্ছে করেই ক্লোরোকুইনকে করোনার ওষুধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে দেরি করা হচ্ছে। ট্রাম্প লাফ দিয়ে উঠলেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ…ঠিক তা-ই হচ্ছে।’ হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে বলে বসলেন, ‘অজ্ঞাতনামা কিছু প্রতিষ্ঠান এর ফল গোপন রাখতে চাইছে। আমাদের উচিত তাদের বিরুদ্ধে ত্বরিৎ ব্যবস্থা নেয়া।’
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগিদের চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন কি নিরাপদ? কতটা নিরাপদ?
ট্রাম্প বললেন, হ্যাঁ। নিরাপদ।
তার কথায় মনে হলো, এটা একদম নিরীহ একটি ওষুধ। পয়লা এপ্রিলের ব্রিফিংয়ে বললেন, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন আপনাকে মেরে ফেলবে না। ৪ এপ্রিলের ব্রিফিংয়ে বললেন, আপনাদের হারানোর তো কিছুই নেই।
কিন্তু হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্র্যান্ড নাম প্লাকুয়েনিল বলেছে, যারা এই ওষুধটিকে ব্যবহার করতে চান, তাদের হৃদরোগসহ জীবনসংশয়কারী নানা উপসর্গের মুখে পড়তে হতে পারে।
