ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

করোনায় নিজ দেশে আটকা প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াল কুয়েত

করোনায় নিজ দেশে আটকা প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াল কুয়েত
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২০ | ০৮:০৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

চার মাসের ছুটিতে দেশে এসে বিপদে পড়েছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার রাজারচরের কুয়েত প্রবাসী সাখাওয়াত হোসেন রানা। করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে আর কাজে ফিরতে পারছিলেন না তিনি। এদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে চলতি এপ্রিলেই। লকডাউনের কারণে সময়মতো ফিরতে পারবেন কি-না, সেই দুঃশ্চিন্তায় তার রাতে ঘুম হচ্ছিল না। তবে শেষপর্যন্ত তার দুঃশ্চিন্তা কেটেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষের এক ঘোষণায়। করোনার কারণে বৈধ ভিসাসহ যেসব প্রবাসী নিজদেশে আটকা পড়েছেন, তাদের ভিসার মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়েছে কুয়েত।

শনিবার কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে দেশটির ইংরেজি সংবাদমাধ্যম কুয়েত লোকাল ও আরবী পত্রিকা আল-কাবাস।

করোনা ভাইরাসের কারণে রানার মতো বাংলাদেশে এসে আটকা পড়েছেন অনেক প্রবাসী। শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতসহ অন্যান্য দেশেও অনেকে আটকা পড়েছেন। তারা ফিরতে পারছিলেন না কুয়েতে।

কুয়েত প্রবাসী রানা সমকালকে বলেন, দেশে এসে এমনিতেই হাতে যা টাকা পয়সা ছিল, শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে। সময়মতো ফিরতে না পারলে ভিসা বাতিল হয়ে যেত। ফের কুয়েতে যেতে হলে নতুন করে যেতো হতো। তাতে আট-দশ লাখ টাকা খরচ হতো। তিনি বলেন, ভিসার মেয়াদ বাড়ানোয় আমার বড় বিপদ কেটে গেল।

কুয়েতে আরবী পত্রিকা আল কাবাস দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানিয়েছে, সব ধরণের ভিসা, যেগুলোর মেয়াদ ১ মার্চের পর শেষ হয়েছে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেসব ভিসার মেয়াদ তিন মাস বাড়বে। যেসব শ্রমিক বা কর্মী করোনার কারণে এই মুহূর্তে কুয়েতের বাইরে গিয়ে আটকা পড়েছেন, তারা এ ঘোষণার আওতায় পড়বেন। তবে ১ মার্চের আগে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তারা এর আওতায় পড়বেন না।

দেশটির আবাসনবিষয়ক দপ্তর এ বিষয়টি দেখভাল করলেও সারাদেশে দপ্তরটির কার্যক্রম করোনার কারণে বন্ধ থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিল।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, যাদের ভিসার মেয়াদ ১ মার্চের আগে শেষ হয়েছে এবং কুয়েতে রয়েছেন, তাদের জন্য কুয়েত সরকার নিজ দেশে ফেরার জন্য বিশেষ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তারা নিজ দেশে ফিরতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তাদের অস্থায়ী অনুমতির আবেদন করতে হবে।

উল্লেখ্য, কুয়েতে এ পর্যন্ত ১৯১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৬০৫ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন সাতজন। আর সংকটাপন্ন ৩৮ জন। চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন ৩০৫ জন। এ ছাড়া ১৩৬৭ জন কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

আরও পড়ুন

×