তিনদিন হেঁটেও বাড়ি ফেরা হলো না মেয়েটির
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২০ | ০২:৫৮ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২০ | ০৩:০১
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গোটা দেশ চলছে। চলছে না কোন যান। এ পরিস্থিতিতে পায়ে হেঁটেই বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ১২ বছরের এক কিশোরী। তবে তিনদিন হেঁটেও বাড়ি ফেরা হয়নি তার। বাড়ির কাছাকাছি এসে দীর্ঘ ক্লান্তিতে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে সে।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বিজাপুর জেলায়।ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা জামলো নামের ওই কিশোরী তেলেঙ্গানায় একটি গ্রামে মরিচের শস্যক্ষেতে কাজ করতে গিয়েছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে সেখানেই আটকে পড়ে মেয়েটি। কিন্তু ঘরে ফেরার টান উপেক্ষা করতে পারেনি সে কিছুতেই। তাই কোনও উপায় না দেখে ছোট্ট মেয়েটি আরও ১১ জনকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে শুরু করে বাড়ির উদ্দেশে।
সবাই মিলে টানা তিন দিন হাটে তারা। জাতীয় সড়ক দিয়ে নয়, তাড়াতাড়ি বাড়িতে যাওয়ার জন্যে বনজঙ্গলের মধ্যে দিয়েই হাঁটতে থাকে তারা। জামলো যখন তার বাড়ি থেকে আর মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে, তখনই হঠাৎ পেটে মারাত্মক ব্যথা অনুভব করে সে। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে মুখ থুবড়ে পড়ে পথের মধ্যেই। পরে সেখানেই মৃত্যু হয় তার। জীবিত অবস্থাতে বাড়িতে যা্ওয়ার জন্য কোন গাড়ি না পেলেও জামলোর মরদেহ বাড়ি ফেরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে।
চিকিৎসকরা জানান, করোনা নয়, অতিরিক্ত পানিশূন্যতা এবং অপুষ্টির কারণেই মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে। কারণ তার শরীরের নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ ধরা পড়েছে। এরই মধ্যে রাজ্য সরকার মেয়েটির পরিবারকে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে। সূত্র : এনডিটিভি, সংবাদ প্রতিদিন
