যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকান-আমেরিকানদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার বেশি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২০ | ২৩:২৭ | আপডেট: ০২ মে ২০২০ | ০০:০১
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ককেশিয়ানদের তুলনায় আফ্রিকান-আমেরিকান ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণের হার বেশি। আর্থ-সামাজিক বিভক্তি ও অসমতা এর মূল কারণ বলে একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন ও টেক্সাসে বসবাসকারীদের ওপর গবেষণাটি করা হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
যুকক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী স্থানীয় শ্বেতাঙ্গরাই ককেশিয়ান জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। দেশটির আদমশুমারি ব্যুরোও স্থানীয় শ্বেতাঙ্গদের বোঝাতেই ককেশিয়ান পরিভাষাটি ব্যবহার করে।
হিউস্টন মেথডিস্ট হাসাপাতালের সঙ্গে মিলে গবেষণাটিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ডা. ফারহান ওয়াহিদী। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাশপাশি এতে অংশ নেন টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও। বৃহস্পতিবার গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়েছে, ককেশিয়ানদের থেকে আফ্রিকান-আমেরিকানদের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার হার ৮০ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হিস্পানিকদের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার হার ককেশিয়ানদের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি। এশিয়ানদের মধ্যে এ হার ৪০ শতাংশ বেশি।
গবেষকরা লিখেছেন, অর্থনৈতিক অসমতা বৈশ্বিক মহামারির এই সময়টিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর টিকে থাকার শর্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। হিউস্টনে যা ঘটছে তা দিয়ে আদতে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের চিত্র তুলে ধরা যায়।
হিউস্টনের মেট্রোপলিটন এলাকায় বৈচিত্রপূর্ণ এবং বহু জাতিসত্বার মানুষের বসবাস রয়েছে। এ ছাড়া হিউস্টনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের একটি বিশাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৫ মার্চ থেকে শুরু করে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন হাসাপাতাল থেকে সাড়ে চার হাজার করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর তথ্য সংগ্রহ করেন গবেষকরা। প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীকে সংখ্যানুপাতে ভাগ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত আফ্রিাকন-আমেরিকানরা এমন এলাকা থেকে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সেসব অঞ্চলে বসবাস করা এক প্রকার অসম্ভব।
হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর মধ্যেও অধিকহারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণ হলো, আর্থ-সামাজিক অসমতা ও সঠিক স্বাস্থ্য সেবার অভাব।
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়া সোয়াইন ফ্লু মহামারিতেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন আফ্রিকান-আমেরিকানরা। আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি এর বড় কারণ হিসেবে তখনকার গবেষণায় উঠে এসেছিল। একই কারণে ককেশিয়ানদের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন হিস্পানিকরাও।
সর্বশেষ গবেষণাটি বলছে, এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্তদের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি। ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও একেবারে তলানিতে।
এ গবেষণায় আসলে এটাই প্রমাণ হয় যে, পরাক্রমশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বিপুল সামাজিক-অর্থনৈতিক অসমতার মধ্যে বসবাস করে। সোয়াইন ফ্লুর মতো মহামারির পরও ১০ বছরে এই জনগোষ্ঠীর উন্নতি যে খুব একটা হয়নি বর্তমান অবস্থা তার প্রমাণ।