দক্ষিণ আফ্রিকায় লকডাউনে নিষিদ্ধ তামাক-অ্যালকোহলও
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২০ | ০৪:১২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
ছোট্ট একটি দোকান। দোকানে নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব মালপত্রই আছে। হঠাৎ এক তরুণী দোকানে ঢুকে গেল। দোকানদারের কাছে গিয়ে জানাল তার কাঙ্ক্ষিত ব্র্যান্ডের সিগারেরে কথা। দোকানদার জানালেন সেটা নেই, অন্য ব্র্যান্ড আছে। তরুণী কথা না বাড়িয়ে যা পেলেন সেটা নিয়েই বেরিয়ে গেলেন।
পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ২৯ বছর বয়সী ওই তরুণী বলেন, ‘আমার মনে হলো আমি যেন সিগারেট নয়, কোকেন কিনতে গিয়েছিলাম।’
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কঠোর লকডাউনের ভেতর দিয়ে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার পরিস্থিতি এখন এমনই। গত মার্চের শেষ দিকে দেশজুড়ে লকডাউন শুরুর সময় কঠোরভাবে তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তামাক ও অ্যালকোহল জাতীয় পণ্য বেচাকেনা নিষিদ্ধ করে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার। লকডাউন চলাকালে নিষেধাজ্ঞাটি পালন করা হচ্ছে কিনা সে বিষয়েও নজর রাখা হয়। ব্যবস্থা রাখা হয় জরিমানা কিংবা গ্রেপ্তারের মতো শাস্তিরও। এখন সরকার ধীরে ধীরে লকডাউন শিথিল করতে শুরু করলেও তামাক ও অ্যালকোহল পণ্যে নিষেধাজ্ঞা বহালই রেখেছে।
দেশটির একজন মন্ত্রী এনকোসাজানা দ্লামিনী-জুমা বলেন, ধূমপান ও মদ্যপান করোনা সংক্রমিতদের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে কিছু ভূমিকা রাখে। তাই এই ব্যবস্থা।
দ্লামিনী-জুমা একজন ডাক্তারও। ১৯৯০ সালে তিনি দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন। এখন তিনি সমবায় প্রশাসন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘন ঘন ধূমপান ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। সেটা করোনাভাইরাসের জন্য অনুকূল হিসেবে কাজ করে।
ওদিকে মদশিল্প কারখানার মালিকদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, ‘করোনার বিস্তার রোধের লড়াই চলছে। অ্যালকোহল সে লড়াইয়ের পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। কিন্তু মদ আমাদের অলস ও কর্মবিমুখ করে তুলবে। কিন্তু দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা সবাই দায়িত্বশীল হতে চাই।'
সরকার অবশ্য লকডাউনের সময় ঘরোয়া অশান্তির ব্যাপারেও সচেতন। জনগণকেও সে ব্যাপারে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে তারা। তবে দেশটিতে সিগারেট ও অ্যালকোহলের আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট যে গড়ে উঠবে না, তা জোর দিয়ে বলা যাবে না।